মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবি

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অনশন পঞ্চম দিনে গড়াল

হাসপাতালে ভর্তি ২০

বৃহস্পতিবার, ০২ জানুয়ারি ২০২০

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের অনশন পঞ্চম দিনে গড়াল
অনশন পঞ্চম দিনঃ হাসপাতালে ভর্তি ২০

নতুন বছরের শুরু নিয়ে যেখানে সারাদেশ উন্মাদনায় মগ্ন, সেখানে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বছর শুরু হয়েছে রাজপথে। গতকাল বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন করেছেন তাঁরা। আজ বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের অনশন পঞ্চম দিনে গড়ালো। গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত অনশনে থাকা ২০ জনের মতো শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এছাড়া স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে ৬০ জনের মতো শ্রমিককে। আর শীতের কারণে অসুস্থ বোধ করছেন পাঁচ শতাধিক।

শ্রমিকরা বলছেন, অনশনে যখন বসেছেন তখন দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। মজুরি কমিশনের তথ্য খাতায় লিপিবদ্ধ করার পর তাঁরা অনশন ভঙ্গ করবেন। এদিকে গতকাল দুপুরে শ্রমিকদের সন্তানেরা অনশন স্থলে আসে। অনেকেই স্কুল থেকে সরাসরি অনশনস্থলে এসে দাবি আদায়ের শ্লোগান দেয়।


রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও খুলনার আলীম জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্দুল হামিদ বলেন, দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আন্দোলন জোরদার করতে বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ওই অনশনে যোগ দেবেন। মঙ্গলবার বিকেলে পাটকল শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক। কিন্তু শ্রমিকরা তাঁর ওই আহ্বানে সাড়া দেননি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাবেক সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, এর আগে মজুরি কমিশন নিয়ে আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন তিনিও। কিন্তু শ্রমিকরা এখনও মজুরি কমিশন পায়নি। যেহেতু জেলা প্রশাসক তাঁর আগের প্রতিশ্র“তি রাখতে পারেননি তাই শ্রমিকরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

খুলনা জেলা প্রশাসক ছাড়া গত চারদিনে প্রশাসন বা সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ আর শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তবে তাতে হতাশ হচ্ছেন না শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি না মেনে কোনো উপায় নেই বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা।

খুলনা অঞ্চলে মোট রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় রয়েছে সাতটি ও যশোরে রয়েছে দু’টি। খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো- ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দুটি জুট মিল হলো-কার্পেটিং ও জেজেআই। টানা অনশন কর্মসূচি চলার কারণে খুলনার সাতটি মিল বন্ধ রয়েছে। আর উৎপাদনে আছে যশোরের দু’টি পাটকল। তবে ওই দু’টি পাটকলের শ্রমিকদের একটি অংশ অনশন করছেন।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / জানুয়ারি ০২,২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জানুয়ারি ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com