খুলনার নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র বেড়েছে

বুধবার, ২০ জুলাই ২০১৬

খুলনার নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র বেড়েছে

খুলনা : দু’বছর আগেও এ অঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের উল্লেখযোগ্য বিচরণ ছিল না। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতে খুলনা অঞ্চলের ১৪ নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র ও আমদানি বেড়েছে। গেল মাসে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে বলেশ্বর ও বগি নদীতে। এ সাফল্যের পেছনে চার কারণ খুঁজে পেয়েছে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা।

বৃষ্টির পরিমাণ একটু বেশি হওয়ায় তাপমাত্রা সহনশীল থাকায় আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে ইলিশ ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বঙ্গোপসাগরের কচিখালি, বলেশ্বর ও সাগর মোহনায় ইলিশের উৎপাদন বেশি। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় মহাজন ও জেলে উভয়ই খুশি। ঈদের আগে এ অঞ্চলের নদীগুলোতে উল্লেখযোগ্য ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে এবার ইলিশের দাম বেড়েছে।


খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনিস মণ্ডল জানান, ‘কাজিবাছা, পানখালি, শোলমারি, গ্যাংরাইল, রূপসা, শিবসা ও পশুর নদীতে এবার ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালে স্থানীয় অবতরণ কেন্দ্রে ৪ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হলেও গেল বছর আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪০ মেট্রিক টন। এবার আমদানির পরিমাণ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে খুলনা অবতরণ কেন্দ্রে এক হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়। এবারের জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশের ওজন ৬শ গ্রাম থেকে ১ কেজির ওপরে।

স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তাদের সূত্র জানায়, ভারত ও থাইল্যান্ডের জলডাকাতদের প্রবেশের ওপর কড়া নজরদারি, কারেন্ট ও বেহেন্দী জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জাটকা নিধন বন্ধ হওয়ায় এবারে ইলিশের প্রজনন বেড়েছে। ২০১৩ সালের পর এ অঞ্চলের নদীতে ইলিশের বিচরণ কমে যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাটকা নিধন বন্ধ থাকায় বঙ্গোপসাগরের নারকেল বাড়িয়া, আলতামাসিয়া, হংসরাজ, কচিখালি, কটকা এলাকায় জেলেরা মাছ ধরেনি। এছাড়া রফিক বাহিনী ও মাস্টার বাহিনীর ইলিশ লুট ও জেলেদের জিম্মি করার মতো ঘটনাও ঘটেনি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল জানান, বলেশ্বর ও পানগুছি নদীতে এবারে ইলিশের আমদানি বেশি। ঈদের আগে স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের আমদানি বাড়ে। ২০১৪ ও ১৫ সালের আষাঢ় মাসে ইলিশ পাওয়া না গেলেও এবারের আষাঢ়ের শুরুতেই ইলিশ আমদানি বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শরণখোলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফেরদৌস আনসারী জানান, ‘বগি, দক্ষিণ সাউথখালি, উত্তর সাউথখালি, ভোলা, বলেশ্বর ও রাজৈর নদী থকে জুন মাসে জেলেরা ৩৯ মেট্রিক টন মাছ ধরতে সক্ষম হয়। এখানকার সব কারেন্ট ও বেহেন্দী জাল ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ৬শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা দরে এবং ১ কেজির ওপরের মাছ ১২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ম্যানেজার আমির হোসেন জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। মহিপুর, চরদুয়ানি ও পালেরহাট থেকে নৌপথে প্রতিদিন ১০ মেট্রিকটন ইলিশ এখানে আমদানি হচ্ছে। জুন মাসের আমদানির পরিমাণ ছিল ৩০ মেট্রিক টন। গেল মৌসুমে এ অবতরণ কেন্দ্রে ৫২৭ মেট্রিক টন আমদানি হয়। সাগর ও মোকাম থেকে নৌপথে বনবিভাগ ইলিশ আনায় বাধা সৃষ্টি করায় সড়ক পথে আনতে যেয়ে পরিবহন খরচ বাড়ছে। খুলনা মহানগরীর ৪নং ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী তৌহিদ শেখ জানান,  মোকাম ও এ অঞ্চলের নদ-নদী থেকে ইলিশ আসার পরিমাণ বেড়েছে। ফলে এবারে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সূত্র জানান, গভীর সমুদ্রে ইলিশ সহজেই ডিম ছাড়তে পারে। এবার মিঠা পানির সঙ্কট দেখা দেয়নি। পাশাপাশি ইলিশের প্রধান খাদ্য প্যাংটনের অভাব দেখা দেয়নি। ফলে ইলিশ উৎপাদনে সাফল্য দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুলনা অবতরণ কেন্দ্রে এ মৌসুমে ৪ হাজার পঞ্চাশ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এ অঞ্চলে ২৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ৪৫৫টি মাছের আড়ত পরিদর্শন করা হয়।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা/ জুলাই ২০, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২০ জুলাই ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com