বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের বিবৃতি

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও স্থায়ী জামিনের দাবি

বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ও স্থায়ী জামিনের দাবি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া [ ফাইল ছবি  ]

 

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে দেশের দেড় হাজারের অধিক সাংবাদিক। বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা একইসঙ্গে তাঁকে স্থায়ী জামিন দেওয়ার দাবিও জানায়।


শনিবার এক হাজার ৫৫৭ জন সাংবাদিক এ সংক্রান্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, খালেদা জিয়া মারাত্মক অসুস্থ। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কখনও রাজনীতি বাঞ্ছনীয় নয়।

সাংবাদিকরা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৬ বছর। প্রবীণ বয়সেও তিনি জেলবন্দি। অবশ্য সরকারের বিশেষ অনুমতিতে শর্তযুক্ত মুক্তিতে তিনি এখন নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন। তবে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। দীর্ঘ চার বছর তাঁর যথাযথ কোনো চিকিৎসা হয়নি। কারাগারে অমানবিক পরিবেশেও তিনি অনেক নতুন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, কিডনি ও চোখের সমস্যা ছাড়াও পুরনো আর্থ্রাইটিস এবং নতুন করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়া ও কভিড-পরবর্তী জটিলতায় তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের কাছে তাঁর অসুস্থতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, দেশের একজন শীর্ষ রাজনীতিক, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, একজন নারী হিসেবে উপরন্তু একজন জেলবন্দি ব্যক্তির যথাযথ সুচিকিৎসা পাওয়া ন্যূনতম মানবাধিকারের অংশ। তাঁর মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা তাই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে স্থায়ী জামিনে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

সাংবাদিকরা আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপির মতো দেশের অন্যতম বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের তিনি চেয়ারপারসন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি নিজেও অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

সাংবাদিকরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং এদেশের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরকার কর্তৃক সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়ায় সরকারি ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ পত্রিকার ডিক্লারেশন প্রাপ্তিকে সহজ করে দিয়েছিলেন। আকাশ-সংস্কৃতির দরজা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় প্রেসক্লাবের জন্য সরকারি জমির বরাদ্দ চিরস্থায়ী করে দিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে তিনি দেশের নাজুক অর্থনীতিকে কাঠামোগত নানা পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে চাঙ্গা করেছেন। অর্থনীতির উদারীকরণ ছাড়াও খালেদা জিয়ার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষা বিস্তারে প্রভূত উন্নতি হয়। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক ও উপবৃত্তি দেওয়ার যুগান্তকারী কর্মসূচি তিনি চালু করেন। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট তৈরি এবং মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে নানা ধরনের আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচিও তিনি চালু করেন।

সাংবাদিকরা আরও বলেন, যমুনা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প তাঁর আমলে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সাফল্য এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। রাজনৈতিক সংঘাত, অনিশ্চয়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও নব্বইপরবর্তী সময়ে দেশে কখনও খাদ্য সংকট কিংবা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি। দেশের সামাজিক সূচকগুলোও উন্নতি হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং রায়েরবাজারে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ তাঁর আমলেই নির্মিত হয়েছে। তাই আমরা আশা করি, এমন একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদের সামগ্রিক অবদান এবং তাঁর বার্ধক্যের এ কঠিন সময়ের কথা বিবেচনা করে সরকার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শ করবে। তিনি যাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করলে সরকারের এ পদক্ষেপকে দেশবাসী ইতিবাচক হিসেবেই দেখবে।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com