কোমেন: হাতিয়ার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০১৫

কোমেন: হাতিয়ার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

হাতিয়া(নোয়াখালী): নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় প্রচণ্ড দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া আর ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে নোয়াখালীর বিছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম। ধসে গেছে কাঁচা ঘরবাড়ি, ভেঙে গেছে গাছপালা। ছিঁড়ে পড়েছে বিদ্যুৎ লাইন। অধিকাংশ এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গাছ উপড়ে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ।

জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে নিঝুমদ্বীপ, নঙ্গলিয়া, নলেরচর, কেয়ারিংচর নলচিরা, সুখচর, তমরদ্দি, চরঈশ্বর, চরকিং, সোনাদিয়া ও হাতিয়া পৌরসভার অর্ধশতাধিক গ্রাম। বিভিন্ন স্থানে অন্তত একশ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। পাঁচ সহস্রাধিক গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গেছে। নলচিরা ইউনিয়নের ৩টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়া, ভাঙা বেড়ি মেরামত না করা ও নিঝুমদ্বীপসহ চরাঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ না করায় জোয়ারে এসব এলাকা দিয়ে প্রতিদিন পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে এসব এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।


বৈরী আবহাওয়ায় নদী ও সাগর উত্তাল হওয়ায় হাতিয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নদী পথে সিট্রাক, ট্রলার ও নৌকা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে হাতিয়ার চেয়াম্যানঘাট-নলচিরাঘাট ও চেয়ারম্যানঘাট-চরচেংগা ঘাট রুটে চলাচলকারী সিট্রাক দুটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এসব নৌযান বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী চেয়াম্যানঘাট-নলচিরা ঘাট রুট দিয়ে মাইজদী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা রুটে পারাপার করতে না পারায় চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নৌপথে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীসহ প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সর্বস্তরের কার্যক্রম ও যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নোয়াখালী থেকে হাতিয়া ও হাতিয়া থেকে নোয়াখালী যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ। তাছাড়া সি ট্রাক অচল হয়ে পড়ায় ডাক সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ডাক বিভাগ। এতে রেভিনিউ স্ট্যাম্পও আসা বন্ধ। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন ভাতা গ্রহণের সময় ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করতে পারছে না।

গত ৬ দিনের প্রবল বর্ষণ আর মওসুমি ঝড়ো হাওয়ায় হাতিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ৪-৬ ফুট পানি নিচে রয়েছে। ভারি বর্ষণ আর অস্বাভাবিক জোয়ারে শতাধিক মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। গ্রামের কাঁচা সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

অব্যাহত ভারি বর্ষণ আর প্রচণ্ড দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া, ভারি বর্ষণ, বজ্রবৃষ্টির কারণে হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ গ্রাম, উকিলপাড়া, চরলটিয়া গ্রাম, বেজুগালিয়া গ্রাম, ওছখালীবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এবং নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ছোয়াখালী, বাতায়ন, মোক্তারিয়া, নামারবাজার, বন্দরটিলা এলাকা, নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজী গ্রাম, স্টিমারঘাট, অলিবাজার, তুফানিয়া গ্রাম ও সুখচর ইউনিয়নের চর আমানউল্লা গ্রাম, রামচরন বাজার, কামাল বাজার, চেয়ারম্যান বাজার, বৌ-বাজার, দাসপাড়া, কাহার গ্রাম, দরগা গ্রাম, বাদশা মিয়াগো গ্রাম, কাদির সর্দার গ্রাম ও মালিশাগো গ্রামবাসী পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি নিঝুমদ্বীপ, নঙ্গলিয়া, নলেরচর ও কেয়ারিংচর এলাকায় নিরাপদ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে গবাদিপশুসহ গৃহপালিত পশু-পাখির খাবার সঙ্কট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পানিবন্দি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভারি বর্ষণে ও জোয়ারের পানিতে পানিবন্দি নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলো অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এসব এলাকায় নষ্ট হয়েছে কয়েকশ একর বীজতলা, আমন ধানের চারা, আউশ ধান, কাঁচা তরকারী ও শাক সবজি সহ যাবতীয় রবিশস্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গ্রামের কাঁচা সড়কগুলো দিয়ে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বড় বড় খাল অপরিষ্কার থাকায় ও খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মওসুমে ভারি বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে পানিগুলো দ্রুত আসা যাওয়া করতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া পোল বক্স, কালভার্টগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় নির্মাণ না হওয়ায় অনেক সমস্যা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসানাত মো. মাইনুদ্দিন ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বৈরী আবহাওয়া প্রচণ্ড দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া, ভারি বর্ষণ দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় জোয়ার অব্যাহত থাকায় দ্বীপের নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ পানির নিচে চলে গেছে। বেড়ির বাইরের ও চরাঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনতে বুধবার রাত থেকে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৩০ জুলাই ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com