কুষ্টিয়ায় দিবালোকে শিশুসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা

ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তা আটক

রবিবার, ১৩ জুন ২০২১

কুষ্টিয়ায় দিবালোকে  শিশুসহ  ৩ জনকে গুলি করে হত্যা
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের কাস্টমস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে [ ছবিঃ সংগৃহীত ]।

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে সড়কের পাশে স্ত্রী-সন্তান ও এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। ওই এএসআইয়ের নাম সৌমেন রায়। তাঁকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে শহরের পিটিআই সড়কের কাস্টমস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, আসমা খাতুন (৩০) ও তাঁর ছেলে রবিন (৬) এবং শাকিল (৩৫) নামের এক যুবক। তাঁদের সবার বাড়ি কুমারখালীর নাটুরিয়া গ্রামে। তবে তাঁরা কুষ্টিয়া শহরে থাকতেন। শাকিল বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টমস মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে আসমা তাঁর সন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাশে শাকিলও ছিলেন। হঠাৎ সেখানে গিয়ে সৌমেন প্রথমে আসমার মাথায় গুলি করেন। এরপর তিনি আসমার পাশে থাকা শাকিলের মাথায়ও গুলি করেন। ভয়ে শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও ধরে মাথায় গুলি করা হয়। আশপাশের লোকজন গুলি করা ব্যক্তিকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থলে একটি তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

             অস্ত্রোপচারকক্ষে গুলিবিদ্ধ শাকিল ও শিশু রবিনের মৃত্যু হয় [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

এরপর লোকজন জড়ো হয়ে ওই ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন। অস্ত্রোপচারকক্ষে গুলিবিদ্ধ শাকিল ও শিশু রবিনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আসমা খাতুনের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার সেওতা গ্রামে। রবিন তার প্রথম স্বামীর সন্তান। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর দেড় বছর আগে পুলিশ কর্মকর্তা সৌমেন রায়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সম্প্রতি তাকে ছেড়ে বিকাশের এজেন্ট  শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি সৌমেন । এজন্য ক্ষুব্ধ হয়ে তিনজনকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গনমাধ্যমকে বলেন, এএসআই সৌমেন রায় খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। পুলিশের ধারণা, এএসআই সৌমেন সরকারি পিস্তল দিয়েই হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই পিস্তল জব্দ করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৩ জুন ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com