কাসেদ আলীর কালাপাহাড়ের দৈনিক খরচঃ এক হাজার টাকা

বিক্রি করতে চান ১৪ লাখ টাকায়

রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০

কাসেদ আলীর কালাপাহাড়ের দৈনিক খরচঃ এক হাজার টাকা
কাসেদ আলীর কালাপাহাড়

গায়ের রঙ কালো, দেখতে পাহাড়ের মতো। তাই গৃহকর্তা শখ করে তার নাম রেখেছেন কালাপাহাড়।  ২০১৫ সালে ষাঁড়টি জন্ম নেয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইলিশকোল গ্রামে কাসেদ আলীর পালের গাভীর গর্ভে।

কোনো প্রকার কৃত্রিম খাদ্য ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ায়ে ষাঁড়টিকে সযন্তে লালন পালন করে বড় করেছেন কৃষক কাসেদ আলী খান। আসন্ন কোরবানির ঈদে ন্যায্য মূল্য পেলে ষাঁড়টিকে বিক্রি করতে চান তিনি।


ষাঁড়টির ওজন ৪২ মণ অর্থাৎ দেড় টনের বেশি। ছয় দাঁতের ‘কালাপাহাড়’ দৈর্ঘ্যে সাড়ে ৯ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। প্রায় দৈত্য আকৃতির শাহীওয়াল জাতের ষাঁড়টি দিনে খায় এক মণ খাবার। এতে খামারির দৈনিক ব্যয় এক হাজার টাকা।

এরপরও কোনো প্রকার কৃত্রিম খাদ্য ছাড়াই প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ায়ে ষাঁড়টিকে স্বযন্তে লালন পালন করে বড় করেন কৃষক কাছেদ আলী। আসন্ন কোরবানির ঈদে ন্যায্য মূল্য পেলে ষাঁড়টিকে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান তিনি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা সদরের কাসেদ আলী খানের খামারে গিয়ে দেখা গেলো, উপজেলা প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকদের পরামর্শে ‘কালাপাহাড়’কে খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ঘাস, ভুসি, ভুট্টার গুঁড়া, গমের গুঁড়া, কলাইসহ বাড়িতে তৈরি খাবার।

খামারি কাসেদ আলী খান জানান, খামারে পালন করা একটি উন্নত জাতের শাহীওয়াল গাভীর পেটে জন্ম নেয় ‘কালাপাহাড়’। ছোটবেলা থেকে ষাঁড়টি তার মায়ের প্রতিদিন ২৫ লিটার দুধ খেত। একটানা দেড় বছর এভাবে দুধ খেয়েছে। পরে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে চার বছর ধরে ষাঁড়টিকে বিশাল আকৃতির করা হয়।

গত কোরবানির ঈদে ১১ লাখ টাকা দাম উঠেছিল ষাঁড়টির। এবার ন্যায্য মূল্য পেলে ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান তিনি। করোনার প্রভাবে এবার গরুর দাম কম। তাই কালাপাহাড়ের দাম ১৪ লাখ টাকা পেলে বিক্রি করবো।

দেশের যেকোনো জায়গা যে কেউ ষাঁড়টি কিনলে নিজ দায়িত্বে সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হবে। কালাপাহাড়কে দেখতে আসা মাগুরা জেলার রাসেল খান বলেন, ‘ফেসবুকে কালাপাহাড়ের ছবি দেখেই দেখতে চলে এসেছি। এত বড় ষাঁড় এর আগে কোনোদিন দেখিনি।’

কুষ্টিয়া জেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, ‘কালাপাহাড় ষাঁড়টি বিশাল আকারের। ষাঁড়টি দেশি খাবার খেয়ে বড় হয়েছে। তাই গোশত ভালো মানের হবে।’

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সরকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলায় ছোট বড় খামার রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক। খামারগুলোতে দেশিসহ বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। এদের মধ্যে কাসেদ খানের কালাপাহাড় গরুটি সবচেয়ে বড়। তিনি ষাঁড়টিকে সঠিক নিয়মে পালন করেছেন। আশা করি কোরবানির হাটে ন্যায্যমূল্য পাবেন।’

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / জুলাই ১, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com