কাকতালীয়

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

কাকতালীয়

 

মুহ শরীফ উল ইসলাম


 

 

Litearture 02কাঞ্চন একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মুজিবর রহমান ৫ বছর হল অবসর নিয়েছেন। বিড়ম্বনা হীন অবসর হলেও ইদানীং একটা উপসর্গ দেখা দিয়েছে।  তিনি ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না। রাতের বেলা ঘণ্টায় ঘণ্টায় ঘুম ভেঙ্গে য়ায়। ঘরের মাঝে পায়চারী করেন। রাত ৩ টার দিকে একটু ঘুম আসতেই খারাপ স্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে য়ায়।  ডিসেম্বরের শীতের রাতেও তিনি ঘামতে থাকেন।

আদর্শবান এই শিক্ষক সব সময়ই ছাত্র ছাত্রীদের নীতির শিক্ষা দিতেন। সদা সত্য কথা বলিবে, অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করিবে না। অন্যায় যতই প্রবল আকার ধারণ   করুক না কেন তা ক্ষণ স্থায়ী , সত্যের জয় হবেই।

অনেক ছাত্র ছাত্রী তাঁর উপদেশ মান্য করে চলে। লতা ও বাবুল তাদের অন্যতম। লতা ও বাবুলের প্রিয় শিক্ষক জনাব মুজিবর রহমান , তারাও তেমনি স্যারের প্রিয় । কোন অনুষ্ঠানে   বা ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা প্রসঙ্গে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের কথা উঠলেই জনাব মুজিবর রহমান সাহেব লতা বাবুলের কথা তুলবেই।

তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণ সংযোগ ও সাংবাদিকতায় এম এ পাশ করার পরই গ্রামে যেয়ে স্যারের সাথে দেখা করে।  তাদের পাসের সংবাদে স্যার খুবই খুশি হন । নিজ হাতে নিজের বাড়ির বাগান থেকে দুইটি গোলাপ তুলে তাদের হাতে দিয়ে বলেন , এইতো সেদিন তোমরা আমার স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হলে , আজ এম এ পাস করে গেলে , এই গোলাপের  তোমাদের খোশবু সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

 কিছু দিন পরে মুজিবর রহমান সাহেব  লতা ও বাবুলের পিতামাতার সাথে পরামর্শ করে তাদের বিবাহ দেন। বিয়ের ৪ বছর পর তাদের একটা ছেলে হল। ছেলের নাম রাখার জন্য  গ্রামে গিয়ে স্যারের সাথে দেখা করে। স্যার তাদের ছেলের নাম রাখলেন মেঘ।

 জনাব মুজিবর রহমান সাহেব কিছুক্ষণ আগে স্বপ্নে দেখেন, লতা বাবুল তাঁর সাথে কথা বলছে, দুজন একত্রে কথা বলছে যেন দুজন পাল্লা দিতেছে কে কার আগে কথা বলতে পারে।

কেউ কাউকে বলার সুযোগ দিতেছে না । কেউ কারুর কথা শুনছে না। যে যার মত বলে যাচ্ছে। স্যার আপনি ক্লাসে যে সব নীতি বাক্য শিখাতেন তা কি বাস্তবে মেনে চলা য়ায়।

জলে বাস করলে কুমীরের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা য়ায় না। বর্তমান কালের এ সমাজে অন্যায়ের সাথে সমঝোতা না  করলে টিকে থাকা ইয়া য়ায় না। এ যুগের সমাজপতিরা অকাতরে  অন্যায় করছে, সে সব অন্যায় মেনে নিয়ে তাদের কে তাদের করা অন্যায়ের জন্য বাহবা না দিলে গ্রহ চ্যুত হতে হয়। আমরা স্যার ঘর হারা হই নাই আমাদেরকে দুনিয়া থেকে  সরান হয়েছে। স্যার আপনি তাকিয়ে আছেন কেন? আমাদের প্রতি রাগ হচ্ছে। আমরা স্যার এখন রাগ বা শাসনের বাইরে। একটু খোলসা করে বলি, আপনার নীতি আঁকড়ে থাকতে গিয়ে কিভাবে দুনিয়া থেকে আসতে হল শোনেন। স্যার আপনি আমাদের ছোট মনির কথা ভাবছেন , ওকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। যারা ওই ছোট শিশুর সামনে আমাদের কুপিয়ে

কুপিয়ে হত্যা করেছে ওদেরই নেতা ওর দায়িত্ব ভার নিবে। ঢাক ঢোল পিটিয়ে সমাজের সামনে চোখের জল ফেলে এতিম অনাথা বালকের লালন পালনের দায়িত্ব নিবে। সবার সামনে এ শিশুর বাপ মা হত্যাকারীদের শাস্তির ঘোষণা দিবে।  হয়তো নিদিষ্ট সময় সীমাও বেঁধে দিবে। তারপর দেখবেন স্যার সময় পার হয়ে যাবে। গোয়েন্দা পুলিশ কিছুই করতে পারছে না। আমাদের হত্যাকারীরা সমাজের উচু তলাতে আছে, আমাদের কথা দেশ সমাজ এক সময় পুরো ভুলে গেছে।

 তোমরা কি আবোল তাবোল বকছ, তোমাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে চিৎকার করে জনাব মজিবুর রহমান ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় উঠে বসলেন। সারারাত ঘুম হল না। সকালে  মসজিদে গেলেন, ফজরের নামাজ শেষ করে বাসায় এসে টিভি অন করলেন। সংবাদ পাঠিকা পড়লেন কচু ক্ষেতে ৫ তলা ফ্ল্যাটে সাংবাদিক দম্পতি ঘুন।

 মজিবুর রহমান চিৎকার করে উঠলেন এও কি সম্ভব?

 তিনি কয়েক ঘণ্টা চুপচাপ বসে থাকলেন, দুপুরে বাজারে গেলেন।পথে অনেকের সাথে দেখা হল তারা ছালাম দিল। তিনি কারুর সাথে কথা বললেন না এমনকি কারুর সালামের জবাব দিলেন না। তার আচরণে অনেকে বিস্মিত হল।

পত্রিকা হাতে তিনি চুপচাপ। পত্রিকার হেডলাইন সাংবাদিক দম্পতী খুন, ৪৮ ঘণ্টার ভিতরই খুনিদের খুঁজে বের করা হবে — স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ।

কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন  পত্রিকায় সাংবাদিক দম্পতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হতে লাগল। কিছু কিছু পত্রিকায় লতার দুশ্চরিত্র নিয়ে রসাল খবরও বের হল।  মজিবর রহমান  পত্রিকা পড়েন আর বিড়বিড় করে বলেন এও কি সম্ভব?

কিছুদিন পরে মজিবর রহমান একেবারেই  পাগল হয়ে গেলেন। নগ্ন অর্ধ নগ্ন অবস্থায় বাজারে ও বাজারের আশে পাশের রাস্তায় রাত দিন অবস্থান করেন। মাঝে মাঝে দৌড় দিয়ে বলতে থাকেন এও কী সম্ভব? মানুষ জনে বলতে থাকেন আহরে কী অমায়িক ভদ্রলোক, বয়সের ভারে  পাগল হয়ে গেল।

আটলান্টা, জর্জিয়া।

আমাদের ওয়েবে প্রকাশিত আরো ছোট গল্প দেখতে নিন্মের লিঙ্কে  খুজুনঃ

ছোট গল্পের সমাহার

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com