কলেজ ছাত্রী মনিকার সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিন

বৃহস্পতিবার, ০৩ মে ২০১৮

কলেজ ছাত্রী মনিকার সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিন

খুলনাঃ কলেজ ছাত্রী মনিকা ইসলামের শরীরে জেঁকে বসেছে মরণ ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। হাসপাতালের বিছানায় সে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী মনিকার চোখেমুখে এখন আর তারুণ্যের সেই উচ্ছলতা নেই। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মা-বাবার মলিন বিষন্ন মুখের দিকে চেয়ে থাকাই যেন এখন তার কাজ।

তার দরিদ্র পিতার সারা জীবনের সঞ্চয় যা কিছু ছিল সবই মেয়ের চিকিৎসায় খরচ করে ফেলেছেনে। আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার করেছেন সাহায্য নিয়েছেন।


২০১৬ সালে একদিন সকালে হঠাৎ ডান পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করেন মনিকা। নিয়ে যাওয়া হলো ডাক্তারের কাছে। নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খুলনার ডাক্তারেরা সিদ্ধান্ত দিলেন ঢাকায় পাঠানোর। ধরা পড়ল প্রাণঘাতী অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) ক্যাটাগরির ব্লাড ক্যান্সার। পরিবারের লোকজন ঢাকায় এনে ভর্তি করলেন মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে। শুরু হলো চিকিৎসা। টানা ছয় মাস কাটাতে হলো হাসপাতালের বিছানায়। মনিকা কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলো। দায়ীত্বরত ডাক্তার বাড়ীতে যাবার অনুমোতি দিলেন। ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আর অংশগ্রহণ করতে পারলনা। খুলনার বাড়ীতে যেয়ে তখন মনিকা অনেকটাই সুস্থ। এবার ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসেও আবারো অসুস্থ মনিকা। ফের নিয়ে যাওয়া হলো ঢাকার ক্যান্সার হাসপাতালে। দ্বিতীয়বারের আক্রমন্টা আরো বেশী মারাত্মক ছিলো। চিকিৎসায়ও মনিকার কোন উন্নতি হচ্ছে না। দিন দিন বেঁচে থাকার আশাটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার জানিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে এদেশে আর কিছু করার নেই। নিয়ে যেতে হবে দেশের বাইরে।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহল গ্রামের মেয়ে মনিকা। স্টার জুট মিলসে ছোট এক স্টাফ ক্যান্টিন চালিয়ে পাঁচজনের সংসার চালান মনিকার বাবা মনিরুল ইসলাম। এক মেয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে আর ছেলে পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য নিজের সর্বস্ব খুইয়ে, ধারদেনা করে আর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

হাসপাতালে মনিকা

হাসপাতালে মনিকা

মনিকার বাবা মনিরুল জানান, মনিকা ইসলাম বর্তমানে ওই হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মাহাবুবুর রহমানের অধীনে চিকিৎসাধীন। ৮১৬/বি কেবিনে ভর্তি মনিকা। ডা. মাহাবুবুর রহমান জানান, মনিকাকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় অ্যালোজেনিক বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন, যা এখনো বাংলাদেশে চালু হয়নি। ফলে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে হবে। আর এ চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। খরচ হবে বাংলাদেশী টাকায় কমপক্ষে এক কোটি টাকা।

খুলনার আলহাজ সরোয়ার খান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম সাইফুদ্দোহা  ছাত্রী মনিকা সহপাঠীদের মধ্যে অন্যতম মেধাবী। মেয়েটিকে বাঁচাতে না পারা আমাদের জন্য কষ্টের ব্যাপার হবে।

তিনি সমাজের বিত্তবানসব দেশবাসীর কাছে মনিকাকে বাঁচাতে সাহায়্যের জন্য অনুরোধ করেন।

নিঃস্ব মনিরুল আর মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। নিরুপায় মনিরুল সমাজের বিত্তবানদের কাছে মেয়েকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।

মনিকার জন্য সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : শেখ মনিরুল ইসলাম, ব্যাংক হিসাব নম্বর : ১২০১৫১১৩৩১৩, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, খুলনা শাখা, ফোন : বাবা-০১৭১১৪৫০১৯৫ (বিকাশ), মা- ০১৭১১৩০৯০৭৪ (বিকাশ)।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৩ মে, ২০১৮

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ মে ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com