কলকাতার ফ্লাইওভার ভেঙে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯

শুক্রবার, ০১ এপ্রিল ২০১৬

কলকাতার  ফ্লাইওভার ভেঙে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯

কলকাতা: কলকাতার ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার ঘটনায় রক্তের সংকটে পড়েছেন আহতরা। এ ঘটনায় নগরীর সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আহত রোগীদের চিকিৎসায় দেখা দিয়েছে রক্তের সংকট। মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের আশঙ্কাজনক। এদের প্রত্যেককেই স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে ভর্তি করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ কলকাতার সব হাসপাতালেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর কলকাতার অত্যন্ত ব্যস্ততম পোস্তা এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ নির্মিয়মাণ বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারটি ধ্বসে পড়ে। জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাতেই এই ফ্লাইওভারটিতে ঢালাইয়ের কাজ হয়েছিল। ধ্বসে পড়ার সময় প্রচন্ড শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। চারিদিক ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, পথ চলতি মানুষের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। ভেঙে পড়া ফ্লাইওভারের নীচে পার্কিং করা একাধিক গাড়ি, দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফ্লাইওভারের নিচেই আটকে পড়ে যাত্রীবোঝাই একটি মিনি বাস।

তবে দুর্ঘটনা ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসন প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে না পারায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে বেশ খানিকটা সময় কেটে যায়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দা হাত লাগালেও পরে দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বুঝে সেনাবহিনীর সহায়তা চায় রাজ্য সরকার। এরপরই উদ্ধারকাজে চলে নেমে পড়ে ৪০০ সেনা জওয়ান। উদ্ধারের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইঞ্জিনিয়াররাও।

BBraZy2এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মেদিনীপুর থেকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ স্থগিত রেখে কলকাতায় ছুটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এসময় সাথে ছিলেন ফায়ার সার্ভিস মন্ত্রী জাভেদ খান, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যের মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দোপাধ্যায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।sp;

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এই ফ্লাইওভারটি নির্মাণে বিগত বামফ্রন্ট সরকারকে দোষারোপ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাম শাসনকালেই এই ব্রিজটির টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। নির্মাণকারীদের কাছে আমরা বার বার প্ল্যান চেয়েছি কিন্তু তারা দেয়নি। ফলে কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছিল। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে সবরকম সহায়তা করার ব্যাপারে আশ্বাসও দেন তারা।

এদিকে হায়দ্রাবাদের ফ্লাইওভার নির্মাণাকারী সংস্থা আইভিআরসিএল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানির পক্ষ থেকে কে.পি.রাও জানিয়েছেন, এরকম ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। ৪৫ শতাংশ কাজ বাকি ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আমরা সত্যিই মর্মাহত। এতে কোনো নির্মাণগত ত্রুটি ছিল না।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ এপ্রিল০১, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০১ এপ্রিল ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com