করোনাভাইরাস আতঙ্কের কিছু নাই

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস আতঙ্কের কিছু নাই

muktoসাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্ব জুড়ে একটাই আলোচনা, একটাই আতংক সেটা হচ্ছে, করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের লক্ষাধিকের অধিক মানুষ। এই ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের ইউহান প্রদেশ থেকে। ব্যাপক জনসংখ্যার এই দেশ থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ছড়িয়েছে বুঝে ওঠার আগেই। এই ভাইরাসটি একেবারেই নতুন এবং এখন পর্যন্ত এটার কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা সকলেই কমবেশি জেনে গেছি, খুব সহজেই কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেহেতু নতুন ভাইরাস এবং এটি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, এটির বাহক মানুষ এবং প্রতিরোধের অসচেতনতায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু আতংক এবং স্বাভাবিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেছি, আসলে যতটা আতংকিত হচ্ছি, বা নেগেটিভ প্রচারণা হচ্ছে ততটা ভয়ংকর কি এর প্রাদুর্ভাব? এ পর্যন্ত মৃত্যুর হার কেমন? সুস্থ্য হয়ে ওঠা মানুষের হার কেমন? মৃত্যুর জন্য কি শুধুই করোনা ভাইরাস দায়ী?

* গুগল, ইউটিউবে বিভিন্ন আলোচনা থেকে অথবা রিপোর্ট থেকে জানতে পারলাম, এই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন অথবা নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে প্রায় ১.৫ শতাংশ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। ৫০ হাজারের ও অধিক মানুষ পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বেশকিছু মানুষ সুস্থ্য হবার পথে, বাকীরা আনুপাতিক হারে মধ্যম মানের এবং কেউ কেউ একটু বেশি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়া, হার্টের রোগী, ডায়াবেটিক রোগী বা অন্যান্য ফুসফুস জনিত সমস্যার রোগীরাই একটু বেশি অসুস্থতায় ভুগছেন অথবা অল্প কিছু সংখ্যক মারা গিয়েছেন। কিন্তু ৯ বছর পর্যন্ত শিশুদের আক্রান্ত হবার কোন রেকর্ড তেমনভাবে পাওয়া যায়নি। দু একটা ব্যাতিক্রম বাদে ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোর এবং যুবকদের আক্রান্ত হবার তথ্য ও তেমন একটা পাওয়া যায়নি। পক্ষান্তরে ইবোলা, সার্স বা সাম্প্রতিক অন্যান্য রোগে মারা যাবার হার অনেক অনেক বেশি। আমরা নিশ্চয়ই সকলে দেখছি বিশ্বব্যাপী কিভাবে এর প্রভাব পড়ছে। সারা পৃথিবীর বড় বড় ইভেন্ট গুলো বাতিল করা হয়েছে। ট্যুরিজম এবং অন্যান্য খাত গুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। চায়না সহ বিশ্বের বিভিন্ন ছোট বড়ো কল কারখানা সবই বন্ধ হয়ে আছে। এয়ারপোর্ট গুলো অকার্যকর হয়ে গেছে। সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে এই বায়োলজিকাল উইপন বা অস্ত্রটি সারা পৃথিবীকেই ঘায়েল করতে পেরেছে। আর এই আতংককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্ক, এবং অন্যান্য জীবানু মুক্ত করণ উপকরণগুলি রাতারাতি কয়েকগুণ দাম বেড়েছে। এমনকি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। আর আমরাও হুজুগে মেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছি, এগুলো বেশি বেশি কিনে বাসায় স্টক করে রাখছি। আর যারা পাচ্ছে না, তারা নিজেদেরকে নিয়ে এতো আতংকিত হয়ে পড়েছে, যেনো তারা অলরেডি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেছে এবং দুদিনের মধ্যেই মারা যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আদৌ কোন আতংকিত হবার প্রয়োজন আছে? নতুন এই ভাইরাসটি কি আসলেই মারাত্মক প্রাণঘাতী? যতটুকু জানতে পেরেছি, হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এটার প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলবে। এবং আশাকরা যায়, আগামী দুই থেকে তিনমাসের মধ্যে এটা নিয়ন্ত্রণ হবে। কিন্তু এই গুজব বিশ্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, সেটা কাটিয়ে উঠতে কত মাস বা বছর লাগবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। এই বছর দ্রব্যমূল্য ও অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম যে অনেক বৃদ্ধি পাবে, সেটা অনুমান করার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই। তাই আসুন আতংকিত না হয়ে, গুজবে কান না দিয়ে অন্যান্য স্বাভাবিক ভাইরাসের মতো এটাকে প্রতিরোধের চেষ্টা করি। নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করি। শুধুমাত্র সাবান বা গরম পানি দিয়েই হাত এবং মুখ ধুয়ে ফেললেই আপনি এই ভাইরাস শুধু না, যে কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন। নিজেকে এবং পরিবারের মানুষদের সুস্থ্য রাখতে পারবো এবং এভাবেই এলাকা, দেশ সবাই মিলে সুস্থ্য থাকতে পারবো। নামাজ অথবা যার যার ধর্মীয় উপাসনা পালনের পূর্বে অবশ্যই প্রতিবার অযু অথবা পাক পবিত্রতা পালন করতে হবে। আর আক্রান্ত ব্যাক্তি ছাড়া অহেতুক মাস্ক নিয়ে বাড়াবাড়ি না করি। তবে এটা সঠিক, মাস্ক পরিধান করে বের হলে অন্যান্য সংক্রমণ থেকে আমরা বাচতে পারবো। তাই আসুন আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে সুস্থ্য রাখেন।
লেখকঃ
আহবায়ক, গ্লোবাল খুলনা।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ মার্চ ১০, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com