কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ

মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৪

কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ

ফারজানা আহমেদ

 


 

 

Contact marrige 02এত সহজে গ্রিনকার্ডটা পেয়ে যাবে ভাবেনি নাসিম যদিও এর অর্ধেক অবদান মারিয়ার এখন মারিয়াকে ওর দশ হাজার ডলার বুঝিয়ে দিলেই সব চুকেবুকে যায় কিন্তু মনের কোনো এক সূক্ষ্ণ কোন থেকে কি একটা খচ খচ করছে একেই বোধহয় বিবেক বলে অথবা অন্য কিছু

পাঁচ বছর থেকে এম,এ পাস করে কোনো চাকরিই যখন পাচ্ছিলো না তখন ঢাকায় ট্যাক্সি চালানোর কাজ বেছে নেয় নাসিম পেট তো চালাতে হবে ! যখন তাতেও চলছিলো না , হতাশার চরমে গিয়ে পৌঁছাচ্ছিলো , তখন হঠাৎই সুযোগ এসে গেল কানাডাতে যাওয়ার ওর বন্ধু রশিদই নিয়ে যায় বিজনেস পার্টনার দেখিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসে আমেরিকাএবার তোর ঠেলা তুই সামলা বলে ব্যস্ত হয়ে যায় রশিদ ধন্যবাদের সুযোগটুকুও না দিয়ে

বাংলা পত্রিকাগুলো ঘেটে বিজ্ঞাপন বিভাগে খোঁজ পায় বাঙলিদের মেসের সেখানেই জায়গা করে নেয় মাত্র তিনশোডলারের বিনিময়ে কিন্তু কাগজ না থাকাতে বার বার চলে যাচ্ছিলো কাজ মালিকের নাকি বিরাট জরিমানা হয়ে যায় ধরা পড়লে বুঝতে পারছিলো জীবন এখানেও এত সহজ না দেশে যতটা ভেবেছিল দেশে টাকার অভাবে বোন দুটোর বিয়ে দিতে পারছে না টিকেটের ধারের টাকাটাই এখনও শোধ হয়নি ধরা পড়ে গেলে কান ধরে বের করে দেবে এখান থেকে এমনি সময় পরিচয় হলো ম্যাক্সিকান ডিয়েগোর সঙ্গে টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না সে তার কাছেই খোঁজ পেল কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের এক কথায় বাতিল করে দেয় সেই প্রস্তাব কিন্তু যখন দেখল ওর মতই দুই বাঙালি ছয় মাসের মধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়ে দেশে যাচ্ছে ঘুরে আসতে মাস দুএকের জন্য রাজি হয়ে গেল দ্বিধা দন্দ নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র দুহাজার ডলার দিতে হবে এখন ডিয়েগোকে গ্রিনকার্ড পেলে মারিয়াকে দিতে হবে দশ হাজার

কিন্তু এখানকার নিয়ম অনুযায়ী একটা এপার্টমেন্ট নিয়ে থাকতে হবে দুজনকে কারন যে কোনো সময় ইমিগ্রেশন ওয়ার্কার এসে চেক করবে ওরা সত্যি স্বামীস্ত্রী নাকি এর মধ্যে কোনো ঘাপলা আছে? ডিয়েগোই ব্যবস্থা করে দিল একটা পরিবারের সঙ্গে শেয়ারে থাকার

একটু অবাক হল নাসিম মারিয়াকে দেখে এ ধরনের মেয়েদের ব্যপারে যা শুনেছে , মিলছে না মারিয়ার সঙ্গে লাজুক স্বভাবের একুশবাইশের বেশি হবে না বয়স শাড়ি অথবা সালোয়ার কামিজ পরিয়ে দিলে অনায়াসে বাঙালীদের মধ্যে মিশে যেতে পারবে বিয়ের কাগজে সাইন করবার সময় কাঁপছিলো ওর হাত বোঝাই যায় এ লাইনে একেবারেই নতুন কিছুটা স্বস্তি পেল নাসিম বুঝল এ মেয়ে আঠার মত লেগে থাকবে না

শুরু হলো নতুন জীবন অভিনয়ের জন্য হলেও ঘরটা সাজাতে হলো দুজনের মত করে দুই বেডরুম আর বেশ বড় একটা বসার ঘর নিয়ে বাসাটা পাশের রুমটায় থাকেন মধ্য বয়সী স্বামীস্ত্রী সন্তানদের বিয়ে হয়ে যাওয়াতে হাতপা ঝাড়া দিনের অধিকাংশ সময় কাজ করে রাতে এসে ঘুমায় মরার মতো নাসিম ইচ্ছে করেই কাজ নিল রাতের শিফটে সারা রাত কাজ করে সকাল থেকে দুটো পর্যন্ত ঘুমায় মারিয়া আসে তিনটার সময়

তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায় নাসিম রেস্টুরন্টেই খেয়ে নেয় লাঞ্চটা সপ্তাহ দুয়েক পরের কথা গোসল করে বের হয়ে দেখে দুজনের জন্য টেবিল সাজিয়ে বসে আছে মারিয়া বেরিয়ে যাচ্ছিল নাসিম ডাকল মারিয়া

খেতে এসো, আজ আমি রান্না করেছি

আমি বাইরেই খেয়ে নেব তুমি খাও

একটু টেস্ট করে তো দেখ? তোমার তো চারটায় কাজ বাসা থেকেই তো খেয়ে যেতে পার এসো

অতঃপর বসতে হলো নাসিমকে মারিয়াই বললো

এভাবে দুজন পালিয়ে না বেড়িয়ে চলো আমরা সহজ হয়ে যাই তুমি ভয় পেয়ো না আমি তোমাকে আটকাবো না তুমি গ্রিনকার্ড পাওয়ার পরই তোমার ছুটি

আর তুমি?

আমার কথা জেনে কি হবে?

কেমন মায়া হলো নাসিমের আর দশটা মেয়ের মত মনে হলো না মারিয়াকে আস্তে আস্তে সহজ হয়ে এলো ওদের সম্প্রর্কটা বন্ধুর মতো টুকটাক গল্প হয় খাবার টেবিলে প্রায় প্রতিদিনই মারিয়া বলে ওর কথা ডিয়েগোর বেশ বড় একটা গ্রুপ আছে মাঝে মাঝেই ওরা ম্যাক্সিকো থেকে মেয়ে এনে ফলস বিয়ে দেখিয়ে প্রথমে ওদের গ্রিনকার্ড পাইয়ে দেয় তারপর ওদের দিয়ে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের ব্যবসা করে নাসিম গ্রিনকার্ড পেলে ডিয়েগো বের করবে আর একজনকে গছিয়ে দেবে দুহাজার ডলারের বিনিময়ে মারিয়ার দশ হাজার থেকে ভাগ নেবে অর্ধেক তবে মারিয়ে কাজ করে যা পায় তা একান্তই নিজের সেটা ওর বিরাট লাভ দেশে বাবামা , ভাইবোনকে টাকা পাঠায় মাসে মাসে কাজেই এক অর্থে ডিয়েগো উপকারই করছে প্রচুর ম্যাক্সিকানের খুব ইচ্ছে দেশে গিয়ে ঘুরে আসার নাসিমের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট শেষ হলে একবার যাবে দেশে ওর বড় বোন আছে লাইনে অনেক দিন মারিয়া ওর বোনের মত হতে চায় না মনের মত কাউকে পেলে ঘর বাঁধার ইচ্ছে ভালোবাসার বিনিময়ে জান দিতেও রাজি আছে আয়েশা আপা বলেছেন , ওর জন্য বাঙালি ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেবেনপাশের ঘরের আয়েশা আপার সাথে খুব ভাব মারিয়ার বেশ কিছু রান্নাও শিখে নিয়েছে এর মধ্যে ভালো বিরিয়ানি রান্না করে মারিয়া এখন মাঝে মাঝে মাছের চচ্চরী আজকাল ঘরে খেতেই পছন্দ করে নাসিম এমন কি কাজ থেকে এসেও ফ্রিজ খুলে দেখে ভাত আছে নাকি? তরকারি মিলিয়ে গরম করে খেয়ে লম্বা ঘুম দেয় একদিন অবাক হয়ে গেল নাসিম কাজে যাওয়ার আগে

কাপড়্গুলো ইস্ত্রি করে ঝুলানো দেখে একটু বাড়াবাড়ি মনে হলো ওর কাছে তাই বলল

তুমি আবার এগুলো শুরু করলে কেন?

সময় ছিল তাই আমার কাপড়গুলোর সঙ্গে তোমার কয়েকটাও করে রাখলাম এই তো আর কয়েকটা মাস তারপর তোমার বউই তোমার তোমার সব কিছু তৈরি করে রাখবে আমি নাহয় অভিনয়ের ছলে একটু স্বাদ নিলাম সংসারের বলে করুন হাসে মারিয়া ধন্যবাদ দিয়ে তৈরি হয়ে চলে যায় নাসিম

আজকাল নাসিমের লন্ড্রিও করতে হয় না আস্তে আস্তে কখন সেটাও মারিয়ার দখলে চলে গিয়েছে ঘরে নিয়মিত রান্না হয় বলে গ্রোসারির জন্য কিছু টাকা ধরিয়ে দেয় নাসিম মারিয়ার হাতে খুশি হয়েই গ্রহন করে ও তা

একদিন কাজ থেকে বেরিয়ে এক বন্ধুর সাথে দেখা নতুন বিয়ে করে এসেছে দেশ থেকে ধরে নিয়ে গেল জ্যাকসন হাইটস শাড়ি পছন্দ করে দেয়ার জন্য কি মনে করে নাসিমও কিনে ফেলল একসেট সালোয়ার কামিজ ঝোঁকের মাথায় দিয়ে দিলো মারিয়াকে খুশীতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো মারিয়ার মুখ! কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটা পরে এসে সামনে দাঁড়ালো নাসিমের ছুটে গিয়ে পর মুহুর্তেই ক্যামেরাটা নিয়ে এলো আবার ধরিয়ে দিলো নাসিমের হাতে চারপাঁচটা ছবি উঠালো নানা দিক থেকে দেশে পাঠাবে বলে

পাঁচ মাসের মধ্যে তিনবার ইন্সপেকসন হলো এরপর তিনবার যেতে হলো নানান ইন্টাভিউ দিতে একমাস পর এলো ওয়ার্ক মারমিট তার কিছুদিন পর জানতে পারল খুব শিগগিরই এসে যাবে গ্রিন কার্ড খুশিতে নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে নাসিমের কত সহজে হয়ে যাচ্ছে সব কিছু! ধুমসে কাজ করে টাকা জমিয়ে যাচ্ছে ও মারিয়ার দশ হাজার ছাড়াও আরো প্রায় দশ হাজার ব্যাংকে জমেছে সমস্ত দেনাও শেষ হয়ে গিয়েছে মাঝে মাঝে পাগলের মত লাগে দেশের কথা, সবার কথা মনে হলে গত সপ্তাহে ছোট বোন রেবার কাছে জানল নিশির কথা নিশি এসেছিল ওদের বাসায় খুব নাকি সুন্দর হয়েছে ও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করছিল নাসিমের কথা

নিশি ওর দূর সম্পর্কে ফুফাতো বোন নাসিমের কৈশোর প্রেম নিশি

নাসিমের বয়স যখন এগারোবারো, নিশির তখন নয় কি দশ প্রায়ই বেড়াতে আসতো ওর মায়ের সঙ্গে দুই বেনি ঝুলিয়ে খেলত রেবা আর ছবির সঙ্গে মাঝে মাঝে হামলা করত নাসিমের ঘরে গল্পের বইয়ের ছলে খুব ভালো লাগত নাসিমের নিশিকে কৈশোর প্রেমে কাঁচা হাতে লেখা চিঠি পাঠায় গল্পের বইয়ের ভেতর

নিশি! নিশি! নিশি!

তোমার মা আমার পিসি

তুমি চলে গেলে লাগে একা,

তারপরের লাইনটা কিছুতেই মেলাতে পারছিল না অনেকক্ষন চিন্তা করে খুঁজে পেয়েছিল

তুমি চলে গেলে লাগে একা

তুমি কিন্তু আমাকে দিও না ছ্যাঁকা

পরদিনই উত্তর আসে বইয়ের ভেতর

তুমি ভালোবাস বলে আমি ভালোবাসি,

তাই তো তোমার ঘরে বই নিতে আসি

আমি তোমাকে দেব না ছ্যাঁকা ,

আমার সবুজ হ্নদয়ে তুমি এঁকেছো বাংলার পতাকা

উত্তর দেয় নাসিম

তোমার যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যায়,

তার সঙ্গে হবে আমার সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়

জীবনের নানা চাপে পরে ভুলেই গিয়েছিল নিশির কথা এতদিন পর আবার তা মনে পড়ায় মজা পেল নাসিম মাস খানেকের মধ্যেই পেয়ে গেল গ্রিনকার্ডটা এখন তো মুক্তি! কিন্তু যতটা খুশি হওয়ার কথা ততটা যেন হতে পারছে না নাসিম কাজের পর বাসায়ও যেতে ইচ্ছে করছে না আজ পরদিন ছুটি নাসিমের ঘুরে বেড়াল উদ্দেশ্যহীনভাবে তারপর বাঙালি রেস্টুরেন্ট থেকে দুই বাক্স মিষ্টি কিনল নিজেদের জন্য একটা আয়েশা আপাদের জন্য এক বাক্স

বাসায় এসে কেমন খাপছাড়া লাগল সবকিছু প্রথমে বুঝতে পারছিল না আসল পরিবর্তনটা কি? পরে বুঝল কোনায় রাখা মারিয়ার স্যুটকেস দুটো নেই সেখানে জুতার সেলফটাও প্রায় খালি টেবিলে সুন্দর করে ঢাকা দেয়া খাবার গ্লাসের নীচে ভাজ করা একটা কাগজ বের করে মেলে ধরল চোখের সামনে

নাসিম,

আমাদের কন্ট্রাক্ট শেষআমার আর এখানে থাকার কোন অধিকার নেই তাই চলে যাচ্ছি অনেক সুন্দর কয়েকটা মাস কাটালাম তোমার সঙ্গে মনে হয় জীবনের শ্রেষ্ট সময়গুলোর মধ্যে এটা একটা আমার জন্য দোয়া কর যেন তোমার মতোই প্রতিটা মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারি সব সময় ডিয়েগো এক মাসের ছুটি দিয়েছে আমাকে আগামী সপ্তাহে দেশে যাচ্ছি দেশ থেকে এসে মাঝে মাঝে আসব তোমাদের দেখতে বিশেষ করে আয়েশা আপাকে তোমার সব রকমের সফলতা কামনা করি ভালো থেক

মারিয়া

শোওয়ার ঘরে বিছানায় দুটো বালিশ এক করে পাট পাট করে বিছানাটা গুছানো এতদিন অভিনয়ের জন্য হলেও দুটো বালিশ পাশাপাশি ছিল যদিও কোন দিন ওদের একসঙ্গে থাকা হয়নি তবু কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে সব কিছু কেমন খাপছাড়া মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেষ্টা করল সব কিছু

দুই দিনেই টের পেল নাসিম এই পাঁচছয় মাসে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে আর জড়িয়ে গেছে মারিয়ার সঙ্গে বাইরের খাবার একদমই ভালো লাগছে না কাপড়চোপড়ও খুঁজে পাচ্ছে না ঠিকমতো সবচাইতে বেশি খারাপ লাগে বাসায় এসে কেমন একটা শূন্যতা অনুভব করে আজকাল ভেবেছিল ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু যত দিন যাচ্ছে তা আরো প্রকট হয়ে উঠছে তাছাড়া এ সপ্তাহ শেষ আর দুদিন বাকি তাই আর দেরি না করে ফোন করলো নাসিম একবারেই পেয়ে গেল মারিয়াকে

কেমন আছ মারিয়া?

এই তো কোনো রকম তুমি?

আমি ভালো নেই বিকেলে কি একবার আসতে পারবে? তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে

কি এমন কথা?

তুমি কি টিকেট করে ফেলেছো

হ্যাঁ

মারিয়া, তুমি আমার দেশে যাবে? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! আমি তোমাকে আমার মায়ের কাছে নিয়ে যেতে চাই

ওপাশ থেকে কোনো কথা বলতে পারছে না মারিয়া নাসিম টের পেল কাঁদছে ও

আমি চেষ্টা করব বিকেলে আসতে বলে ফোন রেখে দিল মারিয়া

কাজের জায়গায় আধা ঘন্টা লাঞ্চের সময় পায় নাসিম কাগজ কলম নিয়ে এই ফাঁকে মাকে লিখতে বসল হাতে হাতে দিলে দুই দিনেই পৌঁছে যাবে চিঠিটা মাসুদ যাচ্ছে দেশে লিখল নাসিম

মা,

আমি দেশে ফিরছি সপ্তাহ তিনেকের মধ্যেই তবে আমি একটা কাজ করতে যাচ্ছি তোমাকে না জানিয়েই আমায় মাফ করে দিও মা মারিয়া খুব ভালো মেয়ে ওকে তোমার পছন্দ হবে বেশ কিছু টাকা জমিয়েছি আমি চেষ্টা করবো তা দিয়ে দেশেই কিছু করবো বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে আমার ভালো লাগে না মাঝে মাঝে হয়তো আসতে হবে তাকা রোজগার করতে মারিয়াকে নিয়ে আসছি আমি ওকে তোমার মনের মত করে শিখিয়ে নিও

তোমার নাসিম

বাসায় ফিরছে নাসিম রাস্তায় একসঙ্গে পেয়ে গেল তিন বন্ধুকে কয়েক সেট সালোয়ারকামিজ আর দুটো শাড়ি কিনল সঙ্গে কিনল হিরা বসানো একটা আংটি পাশের দম্পতিকে ফোন করে জানালো সব খবর বন্ধুদের নিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল খুশিতে গুন গুন করে গান ধরলনিচের সিঁড়ি থেকে রান্নার গন্ধ পেল ওরা মারিয়ার পরিচিত বিরিয়ানির গন্ধ! দ্বিগুন উৎসাহ আর ক্ষুধা নিয়ে তিনটা করে সিড়ি টপকে অপরে উঠে এলো নাসিম দরজার সামনে এসে হা হয়ে গেল চারজন ঘরে প্রচুর লোকের সমাগম দেখে বেশ কিছু বাচ্চাকেও দেখতে পেল আয়েশা আপার বদৌলতে সমস্ত বাড়িটা প্রচুর ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজানো ডিয়েগো আর মারিয়ার বোনকেও দেখতে পেল নাসিম সবার মধ্যে শাড়ি পরিয়ে বউ সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে মারিয়াকে

এমন সময় সহকর্মী ডেরিকের ধাক্কায় ঘুম থেকে ধরমর করে উঠে গেল নাসিম চিঠিটা শেষ করে কখন টেবিলে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল এর মধ্যেই এই স্বপ্নটা দেখেছে দুঘন্টা আগেই বাসায় ফিরে গেল নাসিম কিন্তু বাসায় এসে হতাশ হতে হলো ওকে কেউ নেই বাসায় আগের দিনের মতোই খাঁ খাঁ করছে বাসাটা আনসারিং মেশিনটা লাল বাতি জ্বেলে ম্যাসেজের সংকেত দিচ্ছে বোতাম টিপে দুটো ম্যাসেজ পেলো

নাসিম

আমি খুব দুঃখিত ! আসতে পারলাম না আজ রাতে দেশে যাচ্ছি দেশে যাওয়ার আগে ডিয়েগো আর একটা কন্ট্রাক্ট সাইন করিয়ে রেখেছে এখানে দ্বিগুন টাকা পাবো আমরা ওকে তুমি চেন না জাত ম্যাক্সিকান মেরে ফেলবে তোমাকে ও তাছাড়া সংসারের দায়িত্ব ও বেড়াজালে আমরা দুজনই বন্দী! স্বপ্ন ক্ষনিকের হলেও আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে অনেক ফারাক! চিরদিন তোমার কথা মনে থাকবে আমারমারিয়া

 

নিউ ইয়র্ক।

 

 

[/one_half]

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com