কঠোর নিরাপত্তায় বাংলার রাজধানীতে বর্ষবরণ

শুক্রবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৬

কঠোর নিরাপত্তায় বাংলার  রাজধানীতে বর্ষবরণ

Jatioঢাকাঃ নববর্ষ বরণে আনইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আতশবাজিসহ জনসমাগম নিষিদ্ধ করে ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান পালনের নির্দেশনা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বেশ কিছু রাস্তায় ছিল চেকপোস্ট ও যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। আর এর মধ্যেই ২০১৬ সালকে বরণ করে নিলেন রাজধানীবাসী।
থার্টিফাস্ট নাইটে হঠাৎ কোনো ছাদের ওপর আতশবাজির ফুলকি ও পটকা ফুটানোর আওয়াজ পাওয়া গেছে। আবার অনেক এলাকায় ছিল সুনসান নিরবতা। রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় ছিল সম্পূর্ণ নীরবতা। একই অবস্থা হাতিরঝিলসহ রাজধানী প্রায় সব এলাকাতেই। গুলশান,বনানী, বারিধারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছিল প্রচুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গুলশান, বনানী, বারিধারায় রাত ৮টার পর থেকে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। চেকপোস্ট বসিয়ে চালানো হয় ব্যাপক তল্লাশি।
আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর কোনো বার খোলা না রাখতে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা জানান, ‘শুধু বার নয়, ক্লাবেও যে কোনো ধরনের মাদক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে অধিদপ্তরের তিনটি টিম সব বার,  ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালিয়েছে।’
ফু-ওয়াং ক্লাবের ব্যবস্থাপক নুরুল আমিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই তারা বার বন্ধ করে দেন।
সন্ধ্যার পর কূটনীতিকপাড়া গুলশান চাকচিক্য হারিয়ে ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়। হাতিরঝিলেও কোলাহল ছিল না। সন্ধ্যার পর থেকে এই এলাকায় যানবাহন ঢুকতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তাই অন্য সময় জমজমাট এই অভিজাত এলাকার পথ-ঘাট সন্ধ্যা থেকেই হয়ে যায় জনমানবশূন্য।
কদাচিত দু’একটি যানবাহনের দেখা মিললেও বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ ও র‌্যাবের টহল গাড়ি। এমনকি সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন মিডিয়ার গাড়িও এই এলাকায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ ও ডিএমডি কমিশনার মোকলেছুর রহমান রাত পৌনে ১১টায় গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতশবাজির আওয়াজ শোনা গেছে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে বেড়েছে এসব আওয়াজ। এ ছাড়া বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার ভেতরে অনেকে স্থানীয়ভাবে আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে কোনো ধরনের জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কোনো সংগঠনকে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি ও দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সীমিতকরণ করা হয়েছে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রেও। শাহবাগ মোড়, দোয়েল চত্বর, পলাশীর মোড় ও নীলক্ষেত মোড় ছিল পুলিশ ব্যারিকেডে।
রাত ১২টায় ক্যাম্পাসের টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য ও মিলন চত্বরে আতশবাজি ফোটানো হয়। শত শত শিক্ষার্থী নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় ও উল্লাস প্রকাশ করে। ক্যাম্পাসে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০১ জানুয়ারি ২০১৬


 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০১ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com