কক্সবাজারে ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে দায়সারাভাবে

মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০১৬

কক্সবাজারে  ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে দায়সারাভাবে

কক্সবাজারঃ জেলার উখিয়ার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকাশ্য দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৯টি ব্রিজের নির্মাণ কাজে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রায় সাড়ে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে একটি ব্রিজে কেন দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে খোদ ঠিকাদারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ঠিকাদারদের দাবি, তারা সিডিউল, পে-অর্ডারসহ আনুসঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেও কাজ পাননি অথচ একটি ব্রিজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়াই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ব্রিজগুলো সুষ্ঠু তদারকির অভাবে যেনতেন দায়সারাভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীর অভিযোগ।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রকাশ্য দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৯টি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। যে সমস্ত ব্রিজগুলোর সরকারিভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ৩২ কোটি ৫২ লাখ ৬৫৩ টাকা ব্যয়ে রাজাপালং ইউনিয়নের খয়রাতিপাড়া মালিয়ারকুল সাইক্লোন সেন্টার সংলগ্ন দোছরী খালের উপর ব্রিজ, একই টাকা ব্যয় বরাদ্দে দক্ষিণ বড়বিল তচ্ছাখালী খালের উপর ব্রিজ, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা মাষ্টারের বাড়ির পার্শ্বে খালের উপর ব্রিজ, রত্নাপালং ইউনিয়নের উত্তর গয়ালমারা জামবনিয়া ছড়ার উপর ব্রিজ, জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া-তুতুরবিল সংযোগ সড়কে খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ, ২৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৬৫ টাকা ব্যয়ে রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল মশরফ আলী ঘোনার সংযোগ সড়কে তুতুরী ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ, একই টাকা বরাদ্দে পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ, জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম জুম্মাপাড়া শিশু নিকেতন স্কুল সংলগ্ন ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ, ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ৫৪৬ টাকা ব্যয় বরাদ্দে জালিয়াপালং ইউনিয়নের নুরুল আলমের বাড়ি সংলগ্ন ছড়ার উপর ব্রিজ নির্মাণ।

একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপরোক্ত ৯টি ব্রিজের কার্যাদেশ সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হলেও রাজাপালং ইউনিয়নের উত্তর পুকুরিয়া ছড়ার উপর নির্মাণাধীন ব্রিজটির কোনো প্রকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। যা সরকারি নীতিমালা বহির্ভূত। তবে ওই বিতর্কিত ব্রিজের ঠিকাদার ইউপি সদস্য ও রাজাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন জানান, টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে তাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রামবাসীর অভিযোগ, সুষ্ঠু তদারকির অভাবে গুণগত মানসম্পন্ন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ার কারণে গ্রামীণ জনপদে প্রতিষ্ঠিত ওই সমস্ত ব্রিজগুলো ভারি বর্ষায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে কোনো সময়ে ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে।

রামু উপজেলায় দায়িত্বরত উখিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জুবায়ের আহমদ জানান, যে ব্রিজটি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা উঠেছে ওই ব্রিজটির টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কোথায়, কোন সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল তা তিনি জানাতে পারেননি।

 

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ২৮,২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com