ওয়াশিংটনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ : বাংলাদেশ দূতাবাসে ঢুকতে দেয়া হলো না

বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

ওয়াশিংটনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ : বাংলাদেশ দূতাবাসে ঢুকতে দেয়া হলো না

ওয়াশিংটন: পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকার পরও দূতাবাসে ঢুকতে না দেয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। ঘটনার আকষ্মিকতায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মিরা রাজাকার-জামাত-শিবিরের বলে শ্লোগান দিতে থাকলে অতিরিক্ত পুলিশ ডাকা হয় দূতাবাসে।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্টেট থেকে প্রায় সাতশ নেতা কর্মি ওয়াশিংটনে জমায়েত হয়েছিল। বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদেও বিচার দ্রুত করার দাবিতে তারা প্রথমে ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে এবং পরে হোয়াইট হাউজের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। হোয়াইট হাউজে প্রতিকি স্বারকলিপি প্রদান করেন তারা। এই স্বারকলিপির মূল কপি কয়েকদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে ই-মেইলের পাঠানো হয়। স্বারকলিপিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে অবস্থান নেয়ার আহবান জানানো হয়। একইসাথে বিশ্বজনমত গঠনেও তাদের সমর্থন চাওয়া হয়।


সমাবেশ শেষে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও একটি স্বারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু বিকেলে সেখানে গিয়ে তারা দেখে গেইটে তালা লাগিয়ে ভেতরে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। যেটা সাধারণ নিয়মে হয় না। যদিও রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন বলেছেন, তারা সবাই ছিলেন ডিপ্লোমেট পুলিশ। গেইটে তালা এবং পুলিশ দেখে ক্ষেপে যান নেতা-কর্মিরা। তারা জিয়াউদ্দিনকে রাজাকার এবং জামায়াত শিবিরের সমর্থক বলে ম্লোগান দিতে থাকে। ডিপ্লোমেটিক জোনের ভেতরে উচ্চস্বরে ম্লোগান শুনে আরও পুলিশ চলে আসে। কিছুক্ষণ পরে জিয়াউদ্দিন নিচে নেমে এলেও কয়েকজন নেতার সাথে তার বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় জিয়া উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, ‘‘ আই উইল সী ইউ।’

পরে অবশ্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ড. সিদ্দিকুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। জিয়াউদ্দিনের অনুরোধে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদ সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ভেতরে যান। এ সময় তারা সেখানে তার কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

পরে আবার জিয়াউদ্দিন নিচে এসে বিনয়ের সাথে বলেন, ‘ দেখেন আমিও চাই এ ধরনের সমাবেশ হউক। আমিও আওয়ামী লীগের লোক। তারপরও ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। ’ এ সময় ক্যামেরায় এসব রেকর্ড করতে দেখে তিনি বলেন, ‘আমার সব কথাতো আবার রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, স্বারকলিপি দেয়ার ব্যাপারে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। কিন্তু একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। এটা বড় কোনো বিষয় না। এদিকে , যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ৫ জানুয়ারির সমাবেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ। ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ছাড়াও বিক্ষোভ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই উপস্থিত ছিলেন। সমাবশে বিভিন্ন স্টে থেকেও নেতা-কর্মিরা অংশ নেন।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com