অধ্যক্ষের ‘মৌখিক অনুমতিতে’ ছাত্রাবাসে অবস্থান

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বসতো মাদক ও জুয়ার আসর

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বসতো মাদক ও জুয়ার আসর
এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক নেতা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে আর কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয়ে ছাত্রাবাস হয়ে উঠেছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য, এমনটা দাবি কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের। আর অধ্যক্ষের দাবি, হাত বাঁধা থাকায় কিছু করতে পারছেন না তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের ডেঞ্জার জোন হিসেবে পরিচিত টিলাগড় এমসি কলেজ এলাকায় দলীয় কোন্দলে খুন হন ৭ জন ছাত্রলীগ কর্মী। সব শেষ গত শুক্রবার রাতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে এসে ছাত্রলীগের ৬ কর্মীর দ্বারা এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। ধর্ষণকারীদের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদে উত্তাল এখন সিলেট।


কলেজটির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- ধর্ষণকারী, সাইফুর, রনি, অর্জুন, তারেক, রবিউল সবাই ছাত্রলীগকর্মী। করোনার এই সময়ে অধ্যক্ষের ‘মৌখিক অনুমতিতে’ ছাত্রাবাসে তারা অবস্থান করতো। এই সুযোগে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রাবাসে প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসাতো। ছাত্রাবাসে রাখতো আগ্নেয়াস্ত্র। তাই প্রাণে ভয়ে কেউ কথা বলতো না। ঘটনার দিন এমসি কলেজ ছাত্রাবাস থেকে অভিযুক্ত প্রধান আসামি সাইফুরের রুম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, স্থানীয় রাজনীতিক আর এমসি কলেজ অধ্যক্ষের মদদে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল তারা। ধর্ষণকারীরাসহ টিলাগড় এমসি কলেজ এলাকায় ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কলেজ অধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে।

করোনাকালীন সময়ে কেন ছাত্রাবাস খুলে দেওয়া হলো? কেনই বা বহিরাগতদের আনাগোনা ছাত্রবাসে। ধর্ষণকারীদের সাথে বহিরাগতরা কেন ছাত্রাবাসে থাকে? এমন প্রশ্নের জবাবে কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ গণমাধ্যমকে জানান-রাজনীতিবিদদের কাছে হাত পা বাঁধা ,  না দিয়ে উপায় ছিল না।

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদ এর সভাপতি রজতকান্তি গুপ্ত বলেন, টিলাগড় এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদদাতাদের নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ভবিষ্যতে এমন আরও ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসাইন বলেন, ধর্ষণকারীদের সঠিক বিচার না হলে আর কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়িত্বের প্রতি সতর্ক না হলে, এমসি কলেজ টিলাগড় এলাকায় এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। পরবর্তী সিলেট আওয়ামী লীগের কমিটিতে সন্ত্রাস লালন-পালনকারী কোনো নেতার স্থান হবে না।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার  বলেন, আমরা অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার তদন্ত চলছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ সেপ্টেম্বর ২৮,, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com