এমপির খবরে লাইক দেওয়ায় সাংবাদিককে মারধর

শুক্রবার, ০২ জুন ২০১৭

এমপির খবরে লাইক দেওয়ায় সাংবাদিককে মারধর

বরিশালঃ ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকে নিয়ে প্রকাশিত খবরে ফেসবুকে লাইক দেওয়ায় হামলার শিকার সাংবাদিক এইচএম বাদল ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলার আসামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রভাবশালীরা হাসপাতাল থেকে সাংবাদিক বাদলের নাম কাটাতেও অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক বাদল সদর থানায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জুন) একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ( নং-২৩, তারিখ ০১/০৬/২০১৭)।


আহত সাংবাদিক এইচএম বাদল বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কাঁঠালিয়া কমিটির আহ্বায়ক এবং আঞ্চলিক দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের স্থানীয় প্রতিনিধি। তিনি বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাধারণ ডায়েরিতে বাদল অভিযোগ করেন, এমপি বিএইচ হারুনের মালিকানাধীন বনানীর হোটেল রেইন্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের লিংকে ফেসবুকে লাইক দেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৬ মে কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারসহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঝালকাঠির সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনায় সাংবাদিক বাদল ২১ মে কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৩০ মে আদালতের বিচারক রুবাইয়া হামিনা মামলাটি কাঁঠালিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনার জেরে গত কয়েকদিন ধরে কলেজ মোড় এলাকার মামুন ওরফে কঠিন মামুন, মনির ওরফে জামাই মনির, শহিদ ওরফে খুনি শহিদসহ মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা ও অজ্ঞাত ৫/৭জন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে গিয়ে তার নাম কেটে দিতে ও মামলা তুলে নিয়ে বাড়ি যেতে বলে। অন্যথায় তরা তাকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

এছাড়া আসামিরা বাদলের গ্রামের বাড়িতে থাকা স্ত্রী, সন্তান ও মাকেও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলেও সাধারণ ডায়েরিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে প্রভাবশালীদের চাপের মুখে বাদলকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক বাদল চিকিৎসকদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘ডাক্তাররা আমাকে বলেছে উপরের চাপ আছে, তাই আপনার নাম কাটা হয়েছে।’

এদিকে এ ঘটনার পর হাসপাতালে ছুটে যান বাদলের সহকর্মীরা। বিষয়টি জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত ঝালকাঠি সিভিল সার্জন শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি। পরে সাংবাদিক বাদলকে আগামী শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ০২,২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:১৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জুন ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com