এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাজপথে

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাজপথে
ফাইল ছবি

শিক্ষাই জাতির -মেরুদন্ভ।একজন যোগ্য শিক্ষকই পারে একজন যোগ্য ছাত্র বা জাতি জন্ম দিতে । আজ যারা  দেশ চালাচ্ছেন, তারা সকলেই কোন না কোন শিক্ষকের ছাত্র। কিন্তু সেই আদিকাল থেকেই দেখে আসছি শিক্ষকদের দুর্দশার কথা দারিদ্র্যের কথা। বলছি এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষকের কথা।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও যেন সরকারি ও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বৈষম্য দূর হচ্ছেনা । স্কুল-কলেজে বড় বড় বিল্ডিং হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে না ।    বেতন, ভাতা, মর্যাদা, পদোন্নতি, অবসর সুবিধাসহ সবক্ষেত্রেই তীব্র বৈষম্যের শিকার বেসরকারি শিক্ষকরা। একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিয়োগ, একই কারিকুলামে পাঠদানে নিয়োজিত থাকার পরও এই সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে এই বৈষম্যকে শিক্ষক নেতারা দেখছেন ‘পেশার অমর্যাদা’ হিসেবে। শিক্ষক নেতারা বলছেন, বৈষম্য থাকতে পারে কিন্তু ‘আকাশ-পাতাল’ বৈষম্য মানা যায় না। অথচ যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের মধ্যে এ সব বৈষম্য মেনে নিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। বৈষম্য কমাতে বা শিক্ষকদের বেতনভাতা ও সুযোগ-সুবিধার জন্য সভা-সমাবেশ ও রাজপথে তাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষকদের নির্যাতন-লাঞ্ছনার শিকারও হতে হচ্ছে।সরকারি এবং বেসরকারি খাতে পাঠদান সিলেবাস একই কারিকুলামে। সরকারী শিক্ষকরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) এর মাধ্যমে নিয়োগ পাচ্ছেন। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকরা ও কেন্দ্রীয়ভাবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি এ)  মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাচ্ছেন। অথচ একই যোগ্যতা হওয়া সত্বেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও. সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধায় বিশাল পার্থক্য। যে বেতন দেওয়া হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এতে করে তারা তাদের সংসার চালাতে পারেননা। অনেক শিক্ষক বলেছেন  বাড়তি রোজ গারের জন্য তাদেরকে টিউশনি বা অন্য কোন ব্যবসা করতে হয়।সমাজে শিক্ষকরা থাকে অবহেলিত দরিদ্র।অভাব থাকে তাদের নিত্য সঙ্গি।অথচ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার৯৮% ছাত্রছাত্রী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করে।দেশে বেসরকারী  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই বেশি।


তারপরও আজ পর্যন্ত বেসরকারী  এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সব সময় বঞ্চিত হয়ে এসেছে।এদেশে শিক্ষকতা পেশাকে উন্নত করতে হলে অবশ্যই  এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষকদের পদোন্নতি বদলির ব্যবস্থা করা হলে যোগ্য ও মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেবে। স্বাধীনতার পর থেকেই এমপিওভুক্ত  শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১০ই জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। বক্তারা বলেছেন,তাদের সরকারি ও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের কথা অভাব-অভিযোগের কথা তাদের কষ্টের কথা। তারা  বলেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন শুরু হয় ১২৫০০ টাকা দিয়ে। এই টাকা দিয়ে কোন ভাবেই জীবন চলেনা।শিক্ষকরা পেটে ক্ষুধা রেখে  কিভাবে শিক্ষা দেবে।উন্নয়নের অগ্রযাত্রা কখনই সফল হওয়া সম্ভব নয় শিক্ষকদের অভাবে রেখে।বাসাভাড়া ১০০০ টাকা এই টাকায় কোন বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না।৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা একজন ডাক্তারের একবারের ভিজিট ১০০০ টাকা।তরুণ মেধাবীরা (এন টি আর সিএ) এর নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়।তাদের বদলীর কোন সুযোগ সুবিধা থাকেনা।সামান্য বেতনে জীবন অতিবাহিত করা কষ্ট কর।অবসরের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে তাদের ঘুরতে হয় মৃত্যুর আগে অনেক সময় তারা টাকা পায় না। ষাটোর্ধ্ব চাকরিহীন বৃদ্ধ  শিক্ষক অনাহারে চিকিৎসা না পেয়ে ধুকে ধুকে মারা যায়।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকার নিয়ে গিয়েওযদি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের শিক্ষকদের জাতীয়করণ করত তবে দেশ উন্নত  হতো, জাতি উন্নত হতো, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতো। তারা আরো বলেছেন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  টাকা হেডমাস্টার, প্রিন্সিপাল, ম্যানেজিং কমিটিরা লুটেপুটে খায়।  সাধারণ শিক্ষক প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুই পায় না। তাই দেশের সকল এমপিওভুক্ত  শিক্ষকরা  জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে নেমেছে।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com