এবার ধর্ষকদের ধরতে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

এবার ধর্ষকদের ধরতে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ধর্ষণ, সিলেটের এমসি কলেজ, খাগড়াছড়িসহ সম্প্রতি দেশের যেসব জায়গায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেসব মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে ছাত্রলীগ। তা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ তোলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেই ছাত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘নুর ডাকসু ভিপির মর্যাদাহানি করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ‌পতিতা আখ্যায়িত করেছে। এত সহজ? ধর্ষকের কোনো দল নেই। এই কুলাঙ্গাররা যেই হোক, তার বিচার করতে হবে।

এ সময় সেই ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে ছাত্রলীগ সভাপতি ঘোষণা দেন, ‘আপনার কোনো ভয় নেই, ছাত্রলীগ আপনার সাথে আছে।’ এ সময় তিনি নুরকে নাট্যকার ও নাটকবাজ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের বিচার না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে, তা হতে পারে না। এর বিচার হতে হবে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনাকালীন সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সঙ্গত কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের হল ও হোস্টেল খোলা থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতরা কীভাবে কলেজের হোস্টেলে ছিলেন সেটা বোধগম্য নয়।’

——  —  —  —

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

— —  — ——–

সমাবেশে ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ও তাঁর অনুসারীদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া অন্য যেকোনো নারী যদি নির্যাতনের স্বীকার হয়, নির্যাতনকারী সে যে রাজনীতি করুক না কেন আমরা তা সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিহত করব। যখনই বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করেন তখনই ধর্ষণের  মেগা সিরিয়াল বাস্তবায়ন করে একদল। যেখানে একটি ধর্ষণের বিচার হবে সেখানে পরপর এতগুলো ধর্ষণ কীভাবে হয়? আমার ধারণা নুরুল হক নুর বাঁচার জন্য পরিকল্পনামাফিক বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চায়।’

‘সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলতে পারবে না। রাজনীতি করতে চাইলে আমাদের মোকাবিলা করে রাজনীতি করতে হবে’ বলেও কঠোর ঘোষণা দেন সনজিত চন্দ্র দাস।

ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চলবে না। যারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। পাগল কামাল এবং তথাকথিত শিক্ষক আসিফ নজরুল, সাংবাদিকসহ মানসিক বিকারগস্ত সবাইকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী,  খাগড়াছড়ির ধর্ষিতা বোন এবং সাভারের ধর্ষিতা বোনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে আমরা ছাড় দিতে পারি না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রয়োজনে আমরণ অনশন করব এবং পুরো ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে।’

শনিবারের চিঠি /  আটলান্টা / সেপ্টেম্বর ২৭,২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:১৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com