একুশে পদক প্রাপ্ত প্রবাসী কবি শহীদ কাদরীর ইন্তেকাল

সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০১৬

একুশে পদক প্রাপ্ত প্রবাসী কবি শহীদ কাদরীর ইন্তেকাল

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একুশে পদক প্রাপ্ত বাংলা ভাষার অন্যতম কবি শহীদ কাদরী আর নেই। গতকাল রবিবার সকাল ৭টার দিকে  নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)।

কবি শহীদ কাদরী নিউইয়র্কের নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্ত্রী নীরা কাদরী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব রেখে যান।


কবির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

রাতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সংস্কৃতি সংগঠক মফিদুল হক  বলেন, ‘শহীদ কাদরীর স্ত্রী নীরা কাদরীই আমাকে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। কয়েক বছর ধরে কবি সেখানে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। কয়েকদিন ধরে নিউইয়র্কের হাসপাতালে তাঁর কিডনির চিকিৎসা চলছিল।’

মফিদুল হককে কবিপত্নী আরো জানান, শহীদ কাদরীর মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়া হবে।

কবে নাগাদ শহীদ কাদরীর মরদেহ দেশে আসবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মফিদুল হক বলেন, ‘এটি এখনো জানা যায়নি। হয়তো কিছু সময় পরে আমরা জানতে পারব।’

দেশে ফিরলে কবির মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে বলেও জানান মফিদুল হক।

নগরের ছোট ছোট যন্ত্রণাগুলো ঠাঁই পেয়েছে কবির লেখনীতে। এসব যন্ত্রণায় কাতর হয়েছে কবির প্রেমিক মন। আর কবির লেখা প্রেমের কবিতার লাইনগুলো কৈশোর-উত্তীর্ণ বাঙালির মুখে মুখে ঘুরে ফেরে আজও। কবি অমর হয়ে আছেন তাঁর বিখ্যাত সেই লাইন, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’র জন্য।

কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালে ১৪ আগষ্ট কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন । ১০ বছর বয়সে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৫৩ সালে, মাত্র এগার বছর বয়সেই, ‘পরিক্রমা’ শিরোনাম দিয়ে তিনি একটি কবিতা লিখে ফেলেন, যেটি ছাপা হয় মহিউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘স্পন্দন’পত্রিকায়। এরপর লিখেন, ‘জলকন্যার জন্য। সেটিও স্পন্দনেই ছাপা হয়। এভাবেই শুরু।তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বাংলা প্রেসকে জানান, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলা ভাষায় অন্যতম  কবি শহীদ কাদরীকে হারিয়ে বাংলা সাহিত্যের যে ক্ষতি সাধিত হলো তা কখনোই মেটানো সম্ভব হবে না। তিনি প্রয়াত কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নিউ ইয়র্ক কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, এনডিসি কবির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তিনি ছুটে যান হাসপাতালে । তিনি বাংলা প্রেসকে বলেন, একজন মহান ব্যক্তি ও বিখ্যাত কবিকে হারিয়ে দেশের একটি বড় ক্ষতি হলো। বিশেষ করে বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে যে ক্ষতি সাধিত হলো তা কখনো আর ফিরে পাবো না। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

১৯৭৮ সাল থেকে কবি শহীদ কাদরী প্রবাসী। প্রথমে জার্মান, পরে লন্ডন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিউইয়র্কে  বসবাস করছিলেন।

কবি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি ও ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / আগস্ট ২৯, ২০১৬

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com