কবিতা

একটি টিকিট দাও

শনিবার, ১৭ জুলাই ২০২১

একটি টিকিট দাও
প্রচ্ছদঃ সংগৃহীত

এমনি করে শুয়ে বসে, কাটে আমার সময়,
এই জীবনে নেই কোন সঞ্চয়, আবার কিসের অপচয়?
সারাজীবন বসে আছি রেল লাইনের পাশে,
আশায় আশায় বুকটা  বেঁধে রই,
অচিনপুরের লোকালটা ট্রেনটা, কখন স্টেশনে আসে।

আসে ও যায় কত ট্রেন, কত রকম সিগন্যালে,
সকল ট্রেন চিনি আমি, ওদের নানা রকম হুইসেলে,
আমার ট্রেন হয়তো আসে, ছেড়েও বুঝি যায়,
বুঝতে পারি না বলে  শুধুই চেয়ে রই,
সন্ধ্যা বেলায় স্টেশনের  মাষ্টারকে বলি-
আমার ট্রেনটা কই ?


টিকিট দেখা, দিচ্ছি বলে, কোন ট্রেনের যাত্রী তুই,
টাকা ছাড়া দাও কী  টিকিট,
আমি তো উঠছি ফুড়ে ভুঁই।
ভুঁইফোড়াদের টাকা থাকে নাকি?
থাকে বাড়ি ঘর?
সারাজীবন স্টেশনে থেকে,
এ জ্ঞান হল তোমার?

অচিনপুরে যাব বলেই,
জন্ম নিয়েই স্টেশনে আছি,
তোমরা বাপু উর্ধ্বমুখে হাঁট,
তাকাও না আশপাশ, চোখেই পড়ে না,
যতই আমরা থাকি কাছাকাছি।

মায় বলেছে মরার কালে,
বাজান নাকি স্টেশনে থাকে- মস্ত অফিসার,
অচিনপুরে যাবার আগে, যদি পেতাম দেখা তার,
পাইনে দেখা,তবু নিত্য তারে খুঁজি,
বদলী নিয়ে অনত্র, চলে গেছে বুঝি।

তুমি একটা টিকিট দাও, আমি চলে যাই,
হেথায় তো আর ভুঁইফোড়াদের, থাকায় জায়গা নাই।

ও! তুই ঐ পাগলীটার ছেলে?
এত কথা জানিস? তোর বাপেতে বদলী হয়ে গেছে,
তারে চিনতাম, এখন চিনি না, ছিল বড়ই বজ্জাত।

হয়তো তুমিই জান, আমি  কী তার জানি?
আচ্ছা বাপু, বলেই এসব কথা, অমন করে কেন?
ঢাকলে তোমার মুখ, দিয়ে দুটি হাত?

বাগেরহাট।।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ জুলাই ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com