উৎসব পাগল জাতীর এশিয়া কাপ স্বপ্ন

রবিবার, ০৬ মার্চ ২০১৬

উৎসব পাগল জাতীর এশিয়া কাপ স্বপ্ন

উৎসব পাগল জাতীর এশিয়া কাপ স্বপ্ন
মাহমুদুল হাসান খান আপেল

 


মাহমুদুল হাসান খান আপেল

মাহমুদুল হাসান খান আপেল

এ ভূখন্ডে বাঙালিসহ সহ আরও ছোটখাট যে কটা জাতি-উপজাতিবসবাস করে সবাই মিলেই আমরা বাংলাদেশি, আর বরাবরই জাতি হিসাবে বাংলাদেশিরা উৎসব পাগল জাতি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উৎসব করবার মতো উপলক্ষ তেমন কিছু না থাকলেও জাতীয় উৎসব গুলি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবেই পালন করি আমরা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালন করি নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব গুলি, আর জাতীয় উৎসব যেমন ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ইত্যাদি পালন হয় জাতীয় ভাবে।

ইদানীং যোগ হয়েছে ভালোবাসা দিবস, ছ্যাকা খাওয়া দিবস ইত্যাদি ইত্যাদি যেগুলি পালন হয় সামাজিক ভাবে। এই সমস্ত উৎসবে যেভাবে বাধভাংগা প্রাণের উচ্ছাস দেখা যায় সেটা সত্যিই বিশ্বে বিরল। উন্নত দেশগুলিতে যেখানে উৎসব পালন হয় ঘরোয়া ভাবে সেখানে আমরা সেটা পালন করি সম্মিলিত ভালো। জাতি হিসাবে আমরা পরিপূর্ন এবং সমৃদ্ধ একটি জাতি হলেও একটা অভাব আমাদের অনেকদিন থেকেই ছিলো, সেটা হলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের পরিচিতি এবং উৎসবের উপলক্ষ, যেটা পরিপূর্ন করেছে আমাদের ক্রিকেট দল। বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলিকে ঘরাশায়ী করে এক সময় চমক দিতাম, এখন আমরা প্রতিযোগীতার অন্যতম সেরা শক্তি, আর কেউ বলে না আন্ডার ডগ, দুদিন পরে হয়তো বলবে ক্রিকেট জায়ান্ট। ক্রিকেট এখন আমাদের আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সবচেয়ে বড় উৎসব করবার উপলক্ষ! নানান রাজনৈতিক-সামাজিক ইসুতে যখন সারা দেশ অস্থির, তখন ক্রিকেট গড়ে দেয় ঐক্যের বন্ধন, এনে দেয় প্রশান্তি! এই উৎসব আবার দেশের সীমা পেরিয়ে ছড়িয়ে যায় বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝেও! শতব্যস্ততার মাঝেও হাতের সব কাজ একটু তাড়াতাড়ি সেরে নিয়ে একটুখানি ফুরসৎ বের করে নিয়ে সামিল হয় এই মহাউৎসবে। কখনও কিছু বন্ধু মিলে, আবার কখনও পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে খেলা দেখার আনন্দে মেতে ওঠে। একটা সময় ছিলো যখন নিজের দেশ প্রতিযোগীতায় না থাকায় অন্য কোন দল বা দেশ কে সমর্থন করতো সবাই, কিন্তু সেখানে থাকতোনা কোন সতস্ফুর্তা, আর নিজের দেশ সয়ং যখন প্রতিযোগীতায় তখন খেলা দেখার সময় ষোল কোটি মানুষের হার্টবিট ওঠানামা করে প্রতিটি বলের সঙ্গে, সেটা যে যেখানেই থাকুক, ফিলিংসটা ফিল করে সবানভাবেই। এক্ষেত্রে খেলার সময়টা একটা বড় ফ্যাক্টর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এসব প্রতিযোসগীতায় সামিল হয় বিভিন্ন সময় জোনে, কারো রাত তিনটা তো কারো বিকাল বিকাল পাঁচটা। এবারের এশিয়া কাপের শুরুটা হয়েছিলো হারের মধ্যেদিয়ে, তাইবলে আশা ছাড়িনি, পরবর্তীতে বাকি সবাই কে হারিয়ে বীরের বেশেই ফাইনালে এসেছি। তবে প্রথন হারটা কেনোযেনো মনে হচ্ছে প্রতিপক্ষ কে সাহস যোগানোর, ফাইনালে এসে হিসেব পুর্ন করার সুপ্ত বাসনা নিয়ে। এসব খেলায় স্বাভাবিক আমেজের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ যদি হয় ভারত বা পাকিস্থান তাহলে তো কথায় নেই, সেটা হয়ে ওঠে আমাদের প্রেস্টিজ ইসু, এই দুই দলের সাথে বরাবরই হিসেব আমাদের আলাদা, এরা যেমন আমাদেরকে একটু টেরা চোখে দেখে, ঠিক তেমনি আমরাই এদের দিকে গরুচোখা দৃষ্টিতে দেখি। টিম হিসাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এখন আর আন্ডার ডক নয়, এরা এখন প্রবল প্রতিপক্ষ! প্রতিপক্ষ ভারত র‍্যর্ঙ্কিংএ অনেক উপরে থাকলেও খেলা মাঠে বাংলাদেশের বিপরীতে একদমই বিড়ালের আচরন করে। এর আগেরবার তিন ম্যাচ সিরিজের এদিনের ম্যাচে প্রথন দুইটাতে হেরে এমন অবস্থা যে পরের ম্যাচে হারলে তারা ফিরে গিয়ে দেশের মাটিতে পা দিতে পারবে কিনা সন্দেহ ছিলো, আর তাই হয়তো বাংলাদেশ একটু করুনা দেখিয়ে অনেকটা নিজে থেকে হেরে যায়। ইতিপুর্বে বাংলাদেশ টিমের সাফল্য বলতে ছিলো বিচ্ছিন্ন ভাবে আসা কিছু জয়, কিন্তু মাশরাফির মতো চৌকস ক্যাপ্টেনের হাতে পরে পুরাপুরি বদলে যায় বাংলাদেশ। একই খেলোয়াররা, একই ধরনের কোচ তারপরও কোন উল্লেখ করবারমতো সফলতা ছিলো, আর এখন ধারাবাহিক সাফল্য আসছে একের পর এক, এবং এর কৃতিত্ব শতকরা আশিভাগ দলপতি মাশরাফিরই প্রাপ্য!

এর পুর্বে দলপতি যেই হউক গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলোয়াররা রেসারেসিতে লিপ্ত থাকতো, যেটা মারাত্মকভাবে দলের পারফর্মেন্সে গিয়ে প্রতিফলিত হতো। সবকিছু ছাপিয়ে দেশের ষোলকোটি মানুষের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত অগুনিত বাংলাদেশির স্বপ্ন এবারে এশিয়া কাপ জয় করে বাংলাদেশ ক্রিকেট এশিয়ার নতুন পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভুত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পরিশেষে বলি “প্রতিপক্ষ কে সেটা বিষয় নয়, আমরা কি সেটা হলো মূল বিষয়!”।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ মার্চ ০৬, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ মার্চ ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com