ঈদ কীভাবে শুরু হলো

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০১৫

ঈদ কীভাবে শুরু হলো

জাহাঙ্গীর আলম শোভন
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। অবশ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ঈদ ইবাদাত বন্দেগির একটি বিশাল উপলক্ষ্যও বটে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিম উম্মাহর প্রতি রহমত হিসেবে তাদের ঈদ উপহার করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রসূল যখন মদিনায় হিজরত করলেন তখন মদিনাবাসীদের দুটো বিশেষ দিন ছিল, যেখানে তারা নানারকম খেলাধুলা করতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে এ দু’দিনের তাৎপর্য জানতে চাইলেন? এমন অনেক উপলক্ষ্য ছিল তৎকালীন মক্কা মদিনায় যেগুলো সম্পর্কে তখনকার মানুষরা ওয়াকিবহাল ছিল না। কেবল বাপ-দাদারা পালন করেছেন বলে তারা পালন করে আসছিলেন।

মদিনাবাসীরা উত্তর দিলেন, আমরা জাহেলিয়াতের যুগে এ দু’দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ দু’দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হলো ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।’(আবু দাউদ)


ইসলামে যেহেতু ইবাদাত ২ প্রকার। আনুষ্ঠানিক ইবাদাত ও অনানুষ্ঠানিক এবাদাত। যেমন- আনুষ্ঠানিক ইবাদাত হলো নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত ইত্যাদি আর অনানুষ্ঠানিক ইবাদাত হলো দৈনন্দিন অন্যান্য কাজ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী শরিয়ত সম্মতভাবে করা। যেমন- একজন কৃষক জমিতে ফসল চাষ করছেন তিনি সেটা সঠিকভাবে করছেন, জমির আইল ঠেলবেন না। এটা তার জন্য ইবাদাত। একজন দোকানি সঠিক ওজনে মাল দিলেন এটা তার জন্য ইবাদাত। একজন শ্রমিক সঠিক সময়ে সঠিকভাবে তার কাজ করলেন সেটা তার ইবাদাত।

শুধু খেলাধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য যে দুটো দিন ছিল আল্লাহ তা’আলা তা পরিবর্তন করে এমন দুটো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর শোকরিয়া, তার যেকের, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে শালীন প্রমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে আনন্দফুর্তিও কেউ ইসলামে নির্দেশ মোতাবক করবেন সেটাই তার জন্য ইবাদাত হিসেবে পরিগণিত হবে। সঙ্গে কিছু আনুষ্ঠানিক ইবাদাত তো রয়েছেই।

ইসলামের এ দু’টো উৎসবের দিন শুধু আনন্দ-ফুর্তির দিন নয়। বরং এদিন দুটোতে আনন্দ-উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিপালকের এবাদত-বন্দেগি দ্বারা সুসজ্জিত করাতে হবে। যিনি জীবন দান করেছেন, দান করেছেন সুন্দর প্রকৃতি, সুস্থ শরীর, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তানাদি, পরিবার পরিজন, যার জন্য জীবন ও মরণ তাকে এ আনন্দের দিনে ভুলে থাকা হবে- আর অন্য সব কিছু ঠিকঠাক মতো চলবে এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায় না।  তাই ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনটাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনেরি ইবাদাত-বন্দেগি, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দ্বারা সু-সজ্জিত করেছেন।

ঈদ উল ফিতরের দিন ঠিক করা হয়েছে আরবি রমজান মাস শেষে শাবান মাসের প্রথম দিন। রমজান মাসে মুসলিমরা সিয়াম সাধনা করবেন, যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকবেন তার পুরস্কার স্বরূপ মোমেনদের জন্য রয়েছে ঈদ-উল-ফিতরের হাসি খুশি আনন্দময় ঈদ।

বর্তমানে ঈদের মূল শিক্ষার কথা ভুলে গিয়ে লোকেরা নানা হাসি তামাশা ও জাগতিক আনন্দে মেতে ওঠে। যেটা ইসলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঈদের আনন্দ খুশিও সঠিকভাবে পালন করে ইবাদাতের মধ্য গন্য করে আমরা এর থেকে পূণ্য আদায় করে নিতে পারি। আর তা সত্ত্বেও আমরা ঈদকে অজ্ঞতা ও অবহেলার মধ্য দিয়ে পালন করে থাকি ফলে একদিকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার দোষে দুষ্ট হই, অন্যদিকে নেকি বা সওয়াব লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাই।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ১৭ জুলাই ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:১১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com