ঈদের জামা পেয়ে উপকূলের ৫ শতাধিক শিশুর ‍মুখে হাসি

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০১৬

ঈদের জামা পেয়ে উপকূলের ৫ শতাধিক শিশুর ‍মুখে হাসি

হাতিয়া : ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নতুন জামা ও ঈদ সালামি বিতরণ করেছে উপকূল নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা সংগঠন ‘উপকূল বাঁচাও আন্দোলন’ (উবা)।

দুই দিন ধরে সংগঠনটি উপকূলীয় অঞ্চল নোয়াখালীর হাতিয়ার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঈদের নতুন জামা ও সালামি বিতরণ করেছে। সংগঠনটির এ উদ্যোগে হাতিয়া দ্বীপের পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থী ঈদের নতুন জামা পেয়েছে।


‘আমরাই পারি, আমরাই পারব’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে গত সোমবার ও মঙ্গলবার হাতিয়ার ওছখালী, তমরুদ্দিন, নলচিরা, বুড়িরচর, সোনাদিয়া, চরচেঙ্গা ও মানিক বাজারসহ বেশ কটি ইউনিয়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রধান অতিথি ছিলেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসানাত মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সোনাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা বাজার পপুলার অফিসে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

আবুল হাসানাত মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সবাই যদি নিজেকে একজন প্রতিনিধি ভাবি, তা হলে দেশ এগিয়ে যাবে। সরকারের একার পক্ষে দেশ এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তরুণ সমাজ এগিয়ে আসলে দেশ এগোবে। কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। তারা আনন্দ উপভোগের মাধ্যমে সমাজে বড় হয়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি হাতিয়া দ্বীপের বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন স্বেচ্ছায় মানবসেবায় এগিয়ে এসেছে। তারা দেখিয়েছে, উদ্যোগ নিলে যে কোনো সেবামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। রোয়ানুর আঘাতের পরে এই সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। সরকারের অনুদান আসার আগেই তারা এগিয়ে এসেছে। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতেও তারা তাদের এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।’

2016_07_06_10_16_58_A4lxfZvNemlFXkzPO9CljHzKssDCyA_originalমঈন বলেন, ‘উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের বেশ কিছু কর্মসূচি সম্পর্কে আমি জেনেছি। অনেকেই আমাকে এ সংগঠনটিকে মডেল হিসেবে উদাহরণ দিয়েছে। এর মতো আরও যারা কাজ করছে তাদের বিষয়েও আমি খোঁজখবর রাখছি। তাদের জন্য আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘দারিদ্রের কারণে অনেক বাবা-মা তার সন্তানকে পড়ালেখা করাতে পারেন না। ঈদের সময় একটি নতুন জামা কিনে দিয়ে খুশি করতে পারেন না। আমরা যারা হাজার হাজার, লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঈদ করি, এই খরচের টাকা থেকে যদি দরিদ্র শিশুর জন্য একটা অংশ রাখি, তাহলে তারাও উপকৃত হয়।’

উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনি যদি এই শিশুদের একজন হতেন, তখন আপনার কেমন লাগত?’

ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছি তাদের পক্ষে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, সামাজিক সংগঠনগুলো তা করে প্রমাণ করে দিয়েছে। সবাইকে প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে গিয়ে মানবসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের মুখপাত্র শাহেদ শফিক বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আমরা চাই তরুণ সমাজকে জাগিয়ে দেশকে বদলে দিতে। তরুণরা জাগলে সমাজও জাগবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবক ও পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক শামিমুজ্জামান শামীম, উপকূল বাঁচাও আন্দোলনের নেতা সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ জুলাই ০৭, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com