ইসিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নামছে বিলবোর্ড উঠছে পোস্টার

শনিবার, ২১ মার্চ ২০১৫

ইসিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নামছে বিলবোর্ড উঠছে পোস্টার

 

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণামূলক বিলবোর্ড, পোস্টার ও ব্যানারের ছড়াছড়ি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা।


আচরণবিধি লঙ্ঘনের অংশ হিসেবে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের লাগানো পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে নিতে গত বুধবার ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। দু’একজন ছাড়া এ নির্দেশকে তোয়াক্কা করেননি বেশিরভাগ সম্ভাব্য প্রার্থী। নতুন করে বিলবোর্ড না টানালেও অধিকাংশ বিলবোর্ড এখনো সরানো হয়নি। এর মধ্যে নতুন বিড়ম্বনা হিসেবে দেখা দিয়েছে প্রার্থীদের লাগানো পোস্টার ও ফেস্টুন। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রার্থীদের নিয়মিত গণসংযোগ ও শোডাউনতো চলছেই।

তফসিলের পর বিধিবর্হিভূত এসব প্রচারণার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এখন কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।

প্রসঙ্গত, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন (উত্তর ও দক্ষিণ) দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েন। এর ফলে নগরীর প্রতিটি এলাকা ছেয়ে যায় ব্যানার, বিলবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুনে। এসব রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি এবং নানা প্রতিশ্রুতি।

সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১০ এর অনুচ্ছেদ ৪-এ নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। বিধি অনুসারে, ভোটগ্রহণের দিন থেকে পূর্ববর্তী ২১ দিন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

সিটি করপোরেশন আচরণবিধি ২০১০ (সংশোধিত) অনুসারে পোস্টার সাদা-কালো রঙের হতে হবে এবং এগুলোর আয়তন ২৩”X১৮” এর বেশি হবে না।

দেখা গেছে, প্রার্থীরা এই আইন অমান্য করে নগরীজুড়ে নানা রঙের লিফলেট, পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করেছেন। কোনো প্রার্থীর মধ্যে পোস্টারের আকার বা রঙের ব্যবহার সম্পর্কে আচরণবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।

কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের জেল দেয়ার বিধান রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বুধবার নির্বাচন কমিশন আগাম প্রচারণামুলক বিলবোর্ড ও পোস্টার নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলে কোনো কোনো প্রার্থী তাদের বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলা শুরু করেন। তবে বিলবোর্ড নামিয়ে ফেললেও নগরীর দেয়ালে দেয়ালে এখনও শোভা পাচ্ছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বাহারি সব পোস্টার। শুধু পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণাই নয়, এর সঙ্গে চলছে মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও গণসংযোগও।

সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন, আনিসুল হক, বাহাউদ্দিন বাবুল, হাজী সেলিম ও সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনহ বিভিন্ন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের ছবি, স্লোগান ও প্রতিশ্রুতি সম্বলিত পোস্টারে ছেয়ে গেছে শাহবাগ, লালবাগ, গুলিস্তান, পল্টন ও কাকরাইল সেগুনবাগিচাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালেও লাগানো হয়েছে বাহারি সব পোস্টার।

এছাড়া রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক ও টেলিফোনের খুঁটিতে ঝুলানো হয়েছে ছোট ছোট ব্যানার ও ফেস্টুন।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও হাজি সেলিম আজিমপুর, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় তাদের বিলবোর্ড সরালেও পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সব এলাকা। এসব পোস্টার তুলে ফেলাতো দূরের কথা উপরন্তু নতুন পোস্টার লাগতে দেখা গেছে অনেক সমর্থককে।

সেগুনবাগিচা এলাকায় জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ খোকনের পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকার অলিগলি। এছাড়া কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হারুন চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টারও রয়েছে।

এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইজারা দেয়া অনেক বিলবোর্ড দখল করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ বেশি। একারণে যেসব প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনে কাছে এসব ইজারা নিয়েছিল তারাও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন বাংলামেইলকে বলেন, ‘বুধবার রাত থেকে আমার কর্মীরা সোনারগাঁও হোটেল থেকে শুরু করে শাহবাগ এলাকার সব বিলবোর্ড ও ব্যানার নামিয়ে ফেলার কাজ শুরু করেছেন। নতুন করে আর বিলবোর্ড, পোস্টার বা ব্যানরা লাগিনোর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. সেলিমও বললেন একই কথা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ বদিউল আলম মজুমদার বাংলামেইলকে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ তারিখের ২১ দিন আগে প্রচারণা চালানো যায় না। তাই যারা এ আইন ভঙ্গ করে বিভিন্নভাবে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এটা সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার সভাপতি মুনিরা খান নির্বাচনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়া আগেই কোটি টাকা অপচয়ের বিষয়টি সামনে আনলেন। এতে করে উল্টো ভোটারদের মধ্যে নেতিবাকচ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কয়দিনের মধ্যে যেভাবে বিলবোর্ড উঠতে থাকলো আমার মনে হয়, অনেক প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছেন। এটাতেও ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুইটাই প্রভাব পড়বে। কোনো প্রার্থী যেন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না পারে সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

এদিকে আগের ব্যানার পোস্টার বিলবোর্ড সরিয়ে নেয়ার পর নতুন করে এসব রঙিন পোস্টার লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করলেন ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আমিসহ ১৯ জন গতকাল (শুক্রবার) ভোর ৪টা পযর্ন্ত দক্ষিণ সিটির পুরো এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। নতুন বিলবোর্ড দেখতে পাইনি, তবে পোস্টার রয়েছে প্রচুর। নতুন নতুন পোস্টার লাগানো হচ্ছে এটা ঠিক। আমরা পোস্টার লাগানোর সময় দুই জনকে আটক করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলবোর্ড সরিয়ে নেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাদের পোস্টার লাগানো হচ্ছে তাদের আমারা নোটিশ পাঠাচ্ছি। এরপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:০১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ মার্চ ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com