ইমরান এইচ সরকারের চাচাতো ভাই খুন

সোমবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৬

ইমরান এইচ সরকারের চাচাতো ভাই খুন

কুড়িগ্রামঃগণজাগরণ মঞ্চের প্রধান ইমরান এইচ সরকারের চাচাতো ভাই দাতাউর রহমানের (২৬) ঝুলন্ত লাশ রোববার দুপুরে রৌমারী থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৭২-এর কাছে ব্যাপারীপাড়ার জিঞ্জিরাম নদীর ওপর বাঁশঝাড় থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

রৌমারী থানার এসআই মশিউর রহমান ও এসআই আতাউর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে রোববার দুপুর সোয়া ২টায় লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা দাতাউর রহমানকে হত্যা করে বাঁশঝাড়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। লাশ পড়ে থাকার স্থান থেকে ২শ’ গজ দূরে ২ ধরনের দুটি স্যান্ডেল, কয়েকটি পরিত্যক্ত ব্লেড, সিগারেটের প্যাকেট ও সিগারেটের মুড়া পাওয়া গেছে। সেখানে মাটিতে ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে। পোড়া মবিলের একটি জেরিকেন পাশে পড়ে ছিল। দাতাউর রহমানের শরীরে পোড়া মবিল লাগিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে বোঝা যাচ্ছে এক স্থানে হত্যার পর অন্য স্থানে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আÍহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। যাদুরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, রৌমারীর লাঠিয়ালডাঙ্গা গ্রামের আবদুস সামাদের ৩ পুত্র ও ২ কন্যার মধ্যে দাতাউর সবার বড়। রোববার সকালে ঝুলন্ত লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। রৌমারী থানার এসআই মশিউর রহমান ও এসআই আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। মেম্বার আবুল কাশেম ও রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো বলেন, নিহত দাতাউর সহজ সরল প্রকৃতির ছিল। সে কৃষি কাজ করত।


নিহতের মামা আবুল হাসেম ও খালু নজরুল ইসলাম বলেন, শনিবার বিকালে মা হনুফা বেগমের সঙ্গে অভিমান করে দাতাউর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার সময় আত্মহত্যা করার হুমকি দেয়। মামাতো ভাই আনোয়ারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে দাতাউরের ছিল প্রেমের সম্পর্ক। এটি দুই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা মেনে নেয়নি। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।

নিহতের মা হনুফা বেগম বলেন, দাতাউর অভিমান করে গেলেও রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ভাত খেতে আসে। শুনেছি অনেক রাত পর্যন্ত বালিয়ামারী বাজারে একটি চায়ের দোকানে টিভি দেখে। এরপর বালিয়ামারী বাজার সংলগ্ন নিজেদের অপর একটি বাড়িতে চাচাতো ভাই সাদ্দামসহ ঘুমায়। এরপর কী হয়েছে তা আর কেউ বলতে পারছে না।

নিহতের বাবা আবদুস সামাদ বলেন, ভাতিজি সম্পর্কের এক মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিল দাতাউর। পরিবার থেকে তা মানা হয়নি।

গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মামা বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং প্রেমের সম্পর্কের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম সাজেদুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। গলার দাগও বোঝা যায় না। কাজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহজনক। আর নিহতের পরিবার থেকে মামলায় আগ্রহী না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে ইউডি মামলা রেকর্ড করেছে। এখন লাশ কুড়িগ্রামে পাঠানো হচ্ছে ময়নাতদন্তের জন্য। সঠিক কারণ উদঘাটন করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ এপ্রিল ০৪, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com