ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য,বহিরাগতরা হলে

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্য,বহিরাগতরা হলে

 

নোমান আব্দুল্লাহ, ঢাকাঃ রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগ নেত্রীদের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে জিম্মি সাধারণ ছাত্রীরা। হলগুলোতে নেত্রীদের সিট বাণিজ্যের কারণে বৈধ শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারছে না। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দিয়ে বহিরাগতদের হলে উঠিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেত্রীরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। উল্টো তাদেরকে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইডেন মহিলা কলেজের ছয়টি হলের সব কটিতেই সিট দেয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। এ সুযোগে বহিরাগতদের অবৈধভাবে হলে রেখে ভাড়া আদায় করছেন তারা।


ভুক্তভোগী একাধিক ছাত্রী জানিয়েছে, ছাত্রলীগ নেত্রীদের কাছে সাধারণ ছাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের সিট বাণিজ্যের কারণে হলের বৈধ শিক্ষার্থীরা হলে থাকতে পারছে না। অন্যদিকে টাকার বিনিময়ে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের হলে থাকার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। আবার সাধারণ কোনো ছাত্রী হলে উঠতে চাইলে তাকে বিশ হাজার টাকা দিতে হয়। নেত্রীদের কথা মতো না চললে হল নানা রকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়।  প্রশাসনকে জানালে উল্টো আমাদেরকেই ভয় ভীতি দেখানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান অর্চি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ২০১ থেকে ২১২ নম্বর রুমগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব রুমগুলোতে প্রতিটি ছাত্রীর কাছে ২০ হাজার টাকা করে নেন তিনি। এছাড়া রাজিয়া বেগম হলের ২০৯, ২১০ এবং ২১১ নম্বর রুমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কলেজ শাখা নেত্রীরা বহিরাগত বেশ কয়েকজন মেয়েকে সিট বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে বহিরাগতদের অনেকে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার কারণে তাদের টাকা মওকুফ করা হয়েছে। রাজিয়া বেগম হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী লাবণী (২০৯ নম্বর কক্ষ), প্রিয়া (১১০ নম্বর কক্ষ), মার্জিয়া (১১০ নম্বর কক্ষ) অবৈধভাবে থাকছেন।

গত ১১ জানুয়ারি রাজিয়া বেগম হল থেকে ১৪জন, জেবুন্নেছা হল থেকে ২৫জন এবং হাসনা বেগম হল থেকে ১৫ জনসহ মোট ৫৪জন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেন অর্চি। এর মধ্যে জেবুন্নেসা হলের চারটি রুমের ছাত্রীদেরকে বের করে দিয়ে প্রতিটি রুমে পাঁচটি করে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। রুমগুলো হচ্ছে, ২০১, ২০২, ৩০৭ ও ৩১৫। এর মধ্যে ২০২ নম্বর রুমটি অর্চির নিয়ন্ত্রে। বাকিগুলো সভাপতি নীপার নিয়ন্ত্রণে। বের করে দেয়া শিক্ষার্থীদেরকে হলে থাকতে হলে এক সপ্তাহের মধ্যে দশ হাজার করে টাকা দিতে হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয় নেত্রীদের পক্ষ থেকে। টাকা না দেয়ায় এখনো তাদেরকে হলে উঠানো হয়নি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদেরকে হল প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে বললে বাংলামেইলকে তারা বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসন কিছুই করতে পারবে না। হলগুলো প্রশাসনের কথায় নয়, চলে ছাত্রলীগের কথায়। এর আগেও এমন অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল পাইনি।

জানতে চাইলে ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান অর্চি বলেন, ‘বৈধ কোন ছাত্রীকে আমরা হল থেকে বের করে দিয়েছি এমন কোন প্রমাণ নেই।’

টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের হলে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের হলে ছিলো। তারা আমাদের কলেজেরই ছাত্রী ছিলো। পরে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর হল থেকে চলে যায়। বর্তমানে তারা বাসায় থাকে।’

সিট বাণিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিট বাণিজ্য বলতে তো কিছু নেই। এগুলো শুধুই অভিযোগ। আপনি অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।’

এ ব্যাপারে ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বাংলামেইলকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেত্রীরা সিট বাণিজ্য করে কি না আমার জানা নেই। এগুলো আমাদের কলেজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’

ছাত্রলীগের কাছে প্রশাসন কেন অসহায়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না আমি কারো কাছে অসহায়। ছাত্রলীগের নেত্রীরা আমাকে কখনো অপমান করেনি। বরং তারা আমাদেরকে যথেষ্ট সম্মান করেই কথা বলে।’

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৪ এপ্রিল ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com