আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বেশিরভাগ প্রার্থী মামলায়, আ.লীগে ‘ফ্রেশ’

মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির বেশিরভাগ প্রার্থী মামলায়, আ.লীগে ‘ফ্রেশ’

Nirbaconদ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বিএনপির কয়েক দফায় ‘ব্যর্থ’ আন্দোলনের পর একরকম গুরুগম্ভীর সময় কাটছিল দেশের রাজনৈতিক সময়। এরমধ্যে পৌর নির্বাচন যেন রুদ্ধশ্বাস একটা সময়ে হঠাৎই অনেকখানি উচ্ছ্বাস এনে নিরবতা ভেঙেছে। তবে ‘কার্যত’ সরকারের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও একরকম ‘অবিশ্বাস’ খেলা করছে দলের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে টিকে থাকবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট ‘সন্দেহ’ আছে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এমন ‘রাজনৈতিক সংকট’ থেকে উত্তোরণের জন্য পৌর নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপি নেতারা তাদের দলের মনোনিত প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন। বাংলামেইলের অনুসন্ধানে এ ‘ভীতি’র কারণ কিছুটা উঠে এসেছে। দেখা গেছে, আসন্ন পৌর নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীতদের নামে মামলা নেই, বিএনপি মনোনীত অধিকাংশ প্রার্থীই বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত।


নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনিত মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে জমা দেয়া হলফনামায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মেয়র প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদে দল মনোনীত প্রার্থীদের বেশির ভাগের পেশাই ব্যবসা।

২৩৪ পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের প্রার্থীরা তাদের হলফনামা জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।এরপরেই প্রার্থীদের হলফনামা ইসির ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে  ইসির উপ-সচিব সামসুল আলম জানান, সব প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণীয় পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হচ্ছে ইসির ওয়েবসাইটে। ১৩ ডিসেম্বরের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামার প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচনী এলাকায় প্রচারের ব্যবস্থাও হবে। স্থানীয় সরকারে পৌরসভা নির্বাচনে এবারেই প্রথম মেয়র পদে দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে ২০টি দল প্রার্থী দিলেও অধিকাংশ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী রয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থীর তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সফটওয়ারে হলফনামার তথ্যে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মামলা নেই বললেই চলে, বিএনপি প্রার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী অভিযুক্ত। কারো কারো নামে একাধিক মামলা দেখা গেছে। এছাড়া দলীয় প্রার্থীরা অধিকাংশই ব্যবসায়ী বলে জানান কর্মকর্তরা। এলাকাভিত্তিক প্রার্থীদের হলফনামা উল্লেখ করা বিবরণী তুলে ধরা হল।

কুমিল্লা: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ রাব্বানী- শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস পাস, ৭ মামলায় গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি আছে। ২ মামলায় খালাস পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমান, স্নাতক পাস। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি দ্রুত বিচার আদালতে দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন। মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন পাটোয়ারি। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। পেশায় ব্যবসায়ী আরেক মেয়র প্রার্থী শাহাব উদ্দিন বিএ পাশ। তার বিরুদ্ধে ২১ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ১টি মামলায় খালাস।

বরুড়া পৌরসভায় আবুল কালাম আজাদ- এসএসসি পাশ, কোনো মামলা নেই। আওয়ামী লীগের বাহাদুরুজ্জামান ও কবির হোসেন, জসিম উদ্দিনের হলফনামায়ও এ প্রার্থীর হলফনামা যুক্ত রয়েছে। অজিত কুমার দত্ত দশম, এম এ ওয়াদুদ মিয়াজি এমএ, আরিফ হোসেন ভুঁইয়া বিএসএস ও নজরুল ইসলাম ষষ্ঠ শ্রেণী পাস। তাদের কোনো মামলা নেই।

লাকসাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবুল খায়ের, বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা, এমএ। কোনো মামলা নেই। ৬৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যংক ঋণ। গোলাম ফারুক স্বশিক্ষিত, কাপড় ব্যবসায়ী, নূর মোহাম্মদ স্বশিক্ষত, মোটরগাড়ি রিপেয়ারিং ব্যবসা থাকলেও ২০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। নারী প্রার্থী শাহনাজ আক্তার বিএসএস, গৃহিনী।

কুড়িগ্রাম: নাগেশ্বরী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হোসেন ফাকু বিএস পাস, ১৫ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে ঋণ, মামলা নেই। আদম আলী বিএ, আবদুর রহমান মিঞা এসএসসি, আবদুল আজিজ এমএ, আবদুল ওয়াহাব বিএ।

নোয়াখালী: চাটখিল পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছাইফ উল্লাহ। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ। ৭ টি মামলা অভিযুক্ত। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মাদ উল্লাহ এইচ এসসি পাশ। তার বিরুদ্ধে  কোনো মামলা নেই।

চৌমুহনী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আক্তার হোসেন স্বশিক্ষিত। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. জহির উদ্দিন  বিকম পাশ, পেশায় ব্যবসায়ী । তার নামে ২টি মামলা আছে।

চট্টগ্রাম: খাগড়াছড়ি পৌরসভায় বিএনপির আবদুল মালেক এলএমএম, দুটি মামলা বিচারাধীন। আওয়ামী লীগের শানে আলম এসএসসি, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ২০ লাখ টাকা ঋণ।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শামছুল হক এইচএসসি, ৯ মামলায় খালাস পেয়ে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। বিএনপির বাদশা মিয়া স্বাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন, অভিযুক্ত  ১৫ টা মামলায় খালাস, দুটি মামলা বিচারাধীন।

খুলনা: চালনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সনত কুমার বিশ্বাস বিএসসি, একটি মামলা চলমান, তেল-হলুদ ব্যবসায়ী, চার লাখ টাকা ঋণ। বিএনপি‘র শেখ আবদুল মান্নান। শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.কম পাশ, পেশা ব্যবসা। এ পৌরসভার আরেক প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মন্ডল পিএইচডি, বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা।

পাইকগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সেলিম জাহাঙ্গীর এইচএসসি পাস, মৎস্য খামারী ও ২৫ লাখ টাকা ঋণ। জিএম আবদুস সাত্তার এম. আবদুল মজিদ গাজী এলএলবি, ৬টি মামলা চলমান।

চট্টগ্রাম: চন্দনাইশ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মাহবুব আলমের বিএ, সাড়ে ৯ লাখ টাকা ঋণ। অন্য আরেক মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদ স্বশিক্ষিত। মেয়র প্রার্থী আবদুল হাকিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল/এমএ পাশ। মো. আইয়ুব এইচএসসি ও শস্য খামারী।

পটিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের হাজী মো. হারুনুর রশিদ এমকম, কোনো মামলা নেই; ব্যবসায়ী। বিএনপি তৌহিদুল আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘প্রযোজ্য নহে’ উল্লেখ করেছেন। মামলা নেই, ব্যবসায়ী।

বাঁশখালীর আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিমুল হক চৌধুরী এইচএসসি, মামলা নেই, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি চাকুরে। বিএনপির কামরুল ইসলাম হোসাইনী বিএ পাস, ৫টি মামলা নিষ্পত্তি। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী তবে ২ লাখ ঋণ আছে তার।

রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগের সাজাহান সিদকার, বিএ, বর্তমানে কোনো মামলা নেই, আগে তিন মামলা থেকে খালাস, ব্যবসায়ী। বিএনপির হেলাল উদ্দিন শাহ এসএসসি, বর্তমানে একটি মামলা বিচারাধীন।

সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের জাফর উল্যা এইচএসসি, পেশা ‘গৃহস্থী’। বিএনপি’র আজমত আলী বাহাদুর বিএসএস পাশ। বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন আছে তার।

সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ জোবায়ের এমএ, পেশা ব্যবসা, বিএনপির রফিকুল আলম স্বশিক্ষিত, ব্যবসায়ী, ৭০ লাখ টাকা ঋণ।

রংপুর: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল মামুন বিএ পাস, ব্যবসায়ী। বিএনপির মশিউর রহমান সরকার এমএসসি, পরিবহন ব্যবসা, মামলা নেই।

নীলফামারী: জলঢাকা পৌরসভায় বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধরী। পেশায় ব্যবসায়ী। তার দুই মামলা বিচারাধীন আছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর তার হলফনামা এখনও ইসির ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ শতাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে সাত শতাধিক দলীয় ও পাঁচ শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। যাছাই-বাছাইয়ে প্রায় দেড় শতাধিক মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে, ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। এরপরের দিনেই চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।সুত্রঃ বাংলা মেইল

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০৭ ডিসেম্বর ২০১

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com