ইমিগ্রেশন আশ্রয় আবেদনের নতুন আইন হচ্ছে

শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

ইমিগ্রেশন আশ্রয় আবেদনের নতুন আইন হচ্ছে
ইমিগ্রেশন আশ্রয় আবেদনের নতুন আইন

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাদের ওয়েবসাইটে ১৫ নভেম্বর ‘অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশন, ইন্টারভিউ অ্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট’ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত নীতি নামে নতুন একটি সম্ভাব্য আইন প্রকাশ করেছে। আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ জনগণকে এর ওপর তাদের মতামত জানানোর সময় দেওয়া হয়েছে। এরপরই এই নীতিটি আইন হিসেবে কার্যকর করা হবে। নতুন এই নীতিমালায় মূলত আশ্রয়ের আবেদন ও ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির প্রচলিত নিয়মগুলো বেশ কঠিন করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হওয়ার তারিখ থেকে অ্যাপ্লিক্যান্ট কজড ডিলে বা আবেদনকারীর নিজের সৃষ্ট বিলম্ব থাকলে সেই সময়টা বাদ দিয়ে ১৫০ দিন অপেক্ষা করে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হতো। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হওয়ার তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। আবেদনকারী কজড ডিলে থাকলে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে না। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে আগের ‘ইএডি ক্লক’ বা এমপ্লয়মেন্ট অথোরাইজেশন ডকুমেন্ট ক্লকের যাবতীয় নিয়ম পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে।
সর্বশেষ আমেরিকায় প্রবেশের তারিখ থেকে প্রথম এক বছরের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন জমা না দিলেও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা যেত। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে সর্বশেষ আমেরিকায় প্রবেশের তারিখ থেকে প্রথম এক বছরের মধ্যে আশ্রয়ের আবেদন জমা না দিলে অ্যাসাইলাম অফিসার অথবা ইমিগ্রেশন জজ বিলম্বের কারণ মঞ্জুর না করা পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদনই করা যাবে না।
চলমান নিয়মে অ্যাগ্রেভেটেড ফেলনি বা বড় ধরনের ক্রিমিনাল অপরাধের রেকর্ড না থাকলে পেন্ডিং অ্যাসাইলামের আবেদনের বিপরীতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যেত। কিন্তু প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে আরও অনেক ছোট মাত্রার অপরাধের রেকর্ড থাকলেও অ্যাসাইলামের আবেদনের বিপরীতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে না। এসব ছোট মাত্রার অপরাধের মধ্যে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, চাইল্ড অ্যাবিউজ এমনকি ড্রাইভিং আন্ডার ইনফ্লুয়েন্স অব অ্যালকোহলের মতো অপরাধকেও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে ক্রমিনাল অফেনসের কারণে এই ইনেলিজিবিলিটি ক্রাইটেরিয়া প্রয়োগ করা হবে কেস বাই কেস ভিত্তিক অর্থাৎ সবার বেলায় একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অপরাধের ধরন অনুযায়ী, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা হতে পারে। আর তাই এসব অপরাধের রেকর্ড আছে কিনা, যাচাই করতে প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে আশ্রয়ের আবেদনের বিপরীতে জমা হওয়া প্রতিটি ইনিশিয়াল বা রিনিউয়াল ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন জমা হওয়ার পর থেকে আবেদনকারীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে।
অ্যাসাইলাম ইন্টারভিউ, ইমিগ্রেশন কোর্ট এবং বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন আপিলে অ্যাসাইলাম কেস হারলেও সর্বশেষ আদালত হিসেবে ফেডারেল কোর্টে অ্যাসাইলাম কেস চলমান থাকার সময়ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যেত। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন আপিলে অ্যাসাইলাম কেস হারলে, এরপর সর্বশেষ আদালত হিসেবে ফেডারেল কোর্টে অ্যাসাইলাম কেস চলমান থাকলেও ওয়ার্ক পারমিট আর দেওয়া হবে না।
অ্যাসাইলাম আবেদনের পর ফিঙ্গারপ্রিন্টের চিঠি আসার পর কোন কারণে ওই তারিখে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে না পারলে সেটা জানিয়ে অনুরোধ করলে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার চিঠি ইস্যু করা হতো। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে কোন কারণে ওই তারিখে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে না পারলে, কেস ডিনাই অথবা রেফার করে দেওয়া হবে এবং ‘আবেদনকারী কজড ডিলে’ হওয়ার কারণে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে না।
অ্যাফারমেটিভ অ্যাসাইলামের আবেদনের বিপরীতে যে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়, তার ক্যাটাগরি হলো (সি) (৮), আর যারা প্যারোল নিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করে ক্রেডিবল ফিয়ার ইন্টারভিউতে পাশ করে পরে ডিফেন্সিভ অ্যাসাইলাম আবেদন করেন, তাদের যে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয় তার ক্যাটাগরি হলো (সি)(১১)। প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে (সি)(১১) ক্যাটাগরিতে আর ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে না। পুরোনো নিয়মে যারা (সি)(১১) ক্যাটাগরিতে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার কথা ছিল তাদের (সি)(১১) ক্যাটাগরির সব প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম মেনে ওয়ার্ক পারমিট আবেদন করতে হবে।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বা অন্য কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা না দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে আমেরিকায় প্রবেশ করার পর অ্যাসাইলাম আবেদনের বিপরীতে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়, কিন্তু প্রস্তাবিত নীতি চালু হওয়ার পর থেকে তা আর দেওয়া হবে না।
২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৮৪টি অ্যাসাইলাম আবেদন পেন্ডিং আছে। এই উচ্চ আবেদন সংখ্যা কমিয়ে আনতেই নতুন এই নিয়ম চালু করা হবে অ্যাসাইলাম আবেদন ও ওয়ার্ক পারমিট আবেদনে এই নতুন নীতি প্রস্তাব করা হয়েছে বলে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে।
অ্যাসাইলাম নিয়ে পরিবর্তন ছাড়াও ইমিগ্রেশন আবেদনের ফি বাড়ছে।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com