আবরার হত্যার প্রতিবাদে প্রবাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

আবরার হত্যার প্রতিবাদে প্রবাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

Probashশনিবার প্রবাস ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কসহ আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ১১ অক্টোবর জুমার নামাজ শেষে আবরারের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় নিউইয়র্কের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়।

আবরার হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কপ্রবাসী বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা ১২ অক্টোবর বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় তাঁরা আবরার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড বহন করেন। এই সমাবেশের আয়োজকদের মধ্যে বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্কের রনি, ফৌজিয়া (কুমো), শরীফ রহমান, আরিফ রহমান, কামার জামান ও জিয়া হায়দার উল্লেখযোগ্য।


আবরার হত্যার প্রতিবাদে ‘তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটি’ ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি পার্টি হলে এক সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল। সভায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস খান, নিউজার্সি বিএনপি নেতা নূরল ইসলাম, আবুল কালাম, জামাল হোসেন, হোসেন পাঠান বাচ্চু, রেজাউল হক, আকবর এ আবেদীন, মজিবর রহমান, আলী দোনার, মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নিউইয়র্কের প্রবাসী নাগরিক সমাজ। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় এ সমাবেশ করে নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তারা বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বড় আঘাত। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে পুরো দেশকে দখলে নিতে চায় প্রতিবেশী দেশ। বক্তারা ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শওকত আলী, মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) ড. ওয়াজি উল্লাহ, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট গিয়াস আহম্মেদ, ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর রিস্টোরিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট হুসনে আরা বেগম, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. শাহাদাত হোসেন রাজু প্রমুখ।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবনেতা আবু সাঈদ আহমদ, আমান হোসেন আমান, মনিরুল ইসলাম মুনীর, মাসুম আহমদ, সোহেল আহমদ ও ফারজানা আক্তার। এ ছাড়া নিউইয়র্কের বিভিন্ন কলেজের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া জেলা সমিতিঃ
কুষ্টিয়া জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি আবু মুসা। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সিনিয়র সভাপতি মো. রাশেদুল আলম, সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, সহসভাপতি আব্দুল মমিন বিশ্বাস, সহসভাপতি কাজী পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আম্বিয়া অন্তরা, ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ যুবায়ের, সদস্য এম ইসলামসহ সমিতির সদস্য ও নিউইয়র্কের স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

সভা থেকে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার দ্রুত বিচার, বুয়েট উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টের অপসারণের দাবি জানানো হয়। কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান বক্তারা। পরে আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জ্যাকসন হাইটস নিউইয়র্কঃ
বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯ অক্টোবর প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ অক্টোবর বিকেল পাঁচটায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অবস্থিত ইত্যাদি রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে (দোতলায়) প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিবাদ সভায় ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, পরিচালক, বার্তা সম্পাদক ও প্রতিনিধিসহ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমন্ত্রিত। উক্ত সভাকে সফল করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ হোসেন খান সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজ্ঞ

 ব্রুকলিন ব্রঙ্কসে বিক্ষোভ
ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের প্রবাসী বাংলাদেশিরাবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার অন্যতম ব্রুকলিনে গত ১৩ অক্টোবর এবং ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারে ১৪ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশি আমেরিকান প্রগ্রেসিভ ফোরাম (বাপফ)।

বিক্ষোভ সমাবেশে আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবি করে বক্তারা বলেছেন, ‘আবরার হত্যার পেছনে ছাত্রলীগের অতিমাত্রায় ভারত প্রেম প্রেরণা জুগিয়েছে। দেশপ্রেমিক আবরারের ভারত বিদ্বেষী স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

বক্তারা বলেন, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সরকার একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি করে যাচ্ছে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থ চুক্তির বিরোধিতা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সরকার দলীয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এটা লজ্জার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা বাংলাদেশ গড়বে, পৃথিবী গড়বে তাঁদের জীবন আজ বিপর্যয়ের মুখে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আজ সন্ত্রাসের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। অবিলম্বে আববার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তাঁরা।

ব্রুকলিনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শিক্ষাবিদ আবুসামীহাহ সিরাজুল ইসলাম, কমিউনিটি লিডার নূরুল আনোয়ার, মাওলানা সিহাব উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র জাগপার সভাপতি এ এইচ এম রহমত উল্যাহ ভূঁইয়া প্রমুখ।

ব্রঙ্কসে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন—রাশেদুজ্জামান রাশেদ, নূরুস সামাদ চৌধুরী, হাফিজ জাকির, নাজিমুদ্দিন, শাহ জালাল, আফজালুর রহমান, রেজাউল করীম, মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের সমাবেশে আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

 ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ
আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরাবুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে ইউএস ক্যাপিটাল হিলের সামনে এই বিক্ষোভের আয়োজন করে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা আবরার ফাহাদ হত্যাকারী বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। যেন ভবিষ্যতে নৃশংসভাবে আর কাউকে এভাবে হত্যা করার সাহস না পায় অপরাধীরা। বক্তারা বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ভারতীয় আধিপত্যবাদের কথা বলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ভারতের সঙ্গে স্বার্থ বিরোধী সব চুক্তি থেকে বিরত থাকার দাবি জানান। আবরার হত্যায় তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারসহ অপরাধীদের রিমান্ডে নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বক্তারা। তবে অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম যেন এখানেই থেমে না যায়, সেই দাবি জানিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বুয়েট প্রশাসনের কাছে বিক্ষোভকারীরা দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা আবরার হত্যার প্রতিবাদে বুয়েটে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানান। বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমানে জনহপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ছাত্রলীগ কার্যক্রম চালাচ্ছে। শুধু বুয়েটে না, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছে তাঁরা। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। ভারত-বাংলাদেশ মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করায় আবরার হত্যার শিকার হয়েছে এমনটাই দাবি করে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারণটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা এই হত্যার প্রতিবার জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ দেখারও আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন—বুয়েটের সাবেক শিক্ষক শামিম আহমেদ, সাবেক ছাত্র ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দা শাহিন, লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ আনাম, সাংবাদিক আবু সাইদ মাহফুজ, আইটিপিএফ ইউএসের পরিচালক মো. জামান, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট নেসার আহমেদ, ব্যবসায়ী জাহিদ চৌধুরী, নিউজবিডিইউএস-এর উপদেষ্টা মো. আলম, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট কামরুন কনা, পিচফর হিউম্যানিটির পরিচালক মোহাম্মদ জহরুল ইসলাম প্রমুখ।

ক্যাপিটাল হিলের সামনে এই বিক্ষোভকারীরা আবরার হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ সময় তাঁরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর আবরার’ বলে স্লোগান দেয়।

আবরার স্মরণে বিক্ষোভে সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। পরে আবরারের জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন আবু সাইদ মাহফুজ।

বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন—নজরুল ইসলাম, হাসমত শিকদার, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ সরকার, আফসার মাহমুদ, রহমান, নিউট্রিসিয়ান ফারহানা ইমা, ইয়াসমিন, ফাহিমা বিশ্বাস প্রমুখ।

 টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যান্ড স্কলারসের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিল অব টেক্সাসের সামনে ১০ অক্টোবর আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড ও শিক্ষাঙ্গনে চলমান সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানান। শুরুতে আরবার ফাহাদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘এই শোক মেনে নেওয়া যায় না। এ এক অপূরণীয় ক্ষতি। একটি পরিবার আজীবন এই শোক বয়ে নিয়ে যাবে। বুয়েটসহ বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আজন্মলালিত ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাঙ্গনের চলমান অবক্ষয় থেকে এখনই জাতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং এই মৃত্যুর মিছিল অবশ্যই থামাতে হবে।

হিউস্টনে আবরার ফাহাদের স্মরণে সমাবেশ
আবরার ফাহাদ স্মরণে হিউস্টনে আয়োজিত সমাবেশে বুয়েট টেক্সাস অ্যালামনাইর সদস্যরাবুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সারা পৃথিবীর বাংলাদেশিদের কাঁদিয়েছে। এই আবরার স্মরণে ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বুয়েট টেক্সাস অ্যালামনাইর উদ্যোগে টেক্সাসের হিউস্টন ও আশপাশের বিভিন্ন শহরের শতাধিক বাংলাদেশি সমবেত হয়েছিলেন।

অ্যালামনাইর সদস্যরা বলেন, সারা দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীরা ভর্তি হন বুয়েটে। শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প খাতে সারা পৃথিবীতে রয়েছে বুয়েটের বিপুল সুনাম। অথচ সেই বুয়েটের হলের ভেতর যখন বুয়েটেরই কিছু ছাত্রের হাতে আরেকজন ছাত্রের মৃত্যু ঘটে, তা অবিশ্বাস্য মনে হয়।
হিউস্টন সমাবেশের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল উপস্থিত দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। দর্শকেরা প্রায় তাঁদের মতামত এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে প্রস্তাব পেশ করেন। বক্তারা সবাই আবরারের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। তাঁরা বুয়েটের ভিসিসহ দায়ী কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। এ ছাড়া বক্তারা বুয়েটের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখেন যা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবাই মিলে এক সঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই আর কাউকে ভবিষ্যতে আবরারের মতো করুণ পরিণতির শিকার হতে হবে না।

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন বুয়েটের এম এ রশীদ হলের সাবেক নির্বাচিত ভিপি সৈয়দ মনোয়ার রেশাদ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কামাল হক শাহানশাহ, গোলাম মোস্তফা ইকো, কল্লোল পাল, কে এম মহসিন এবং মনিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইলিয়াস বিশ্বাস, মঞ্জুর আহমেদ, ফারুক আকবর, মোহাম্মদ সোয়েব, নাজমুল হক, মাসুদ করিম, সাদ্দাম আহমেদ লিও, মোহাম্মদ আলী তারেক, রাকিবুল মুজাহিদ প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে ।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / অক্টোবর ১৮,  ২০১৯

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:০৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com