আমেরিকায় বাংলাদেশিদের মাঝে আইপি টিভি’র জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে

রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৪

আমেরিকায় বাংলাদেশিদের মাঝে আইপি টিভি’র জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে

 

ip tv 01শনিবার রিপোর্টঃ আইপি টিভি’র সংযোগ সহজলভ্যতায় সারাবিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সাড়া আমেরিকা জুড়ে বাংলাদেশিরা এখন কম খরচে সহজেই ইন্টারনেট প্রোটোকল ( আইপি) টিভি’র সংযোগ পাওয়ায়  দেশ-বিদেশের সব খবর, বিনোদন আর টক শো উপভোগ করতে পারছেন সহজেই। ব্যাপক চাহিদার কারণে আইপি টিভি’র ব্যবসাও এখন দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে।


প্রিয়জন আর দেশ কখনো ভোলা যায় না। প্রিয়জন যত দূরেই থাকুন না কোনো তাকে যেমন ভোলা যায় না, তেমনি দেশের ব্যবধান  হাজার যোজন দূরে হলেও তাকে ভোলা যায় না। বিদেশে থেকেও প্রিয়জনের সাথে  চাইলেই টেলিফোনে কথা বলা যায় বা স্কাইপে  দেখা যায়। কিন্তু দেশকে দেখতে হলে প্রয়োজন টেলিভিশনের। আর তাই দূর প্রবাসে বসে এমন কোনো ব্যক্তিকে হয়তো খুঁজে পাওয়া কষ্ট হবে যিনি সারাদিনের কর্মকান্ত সময় পার করে এক মূহুর্তের জন্য টিভির সামনে বসে দেশের খবর জানতে চান না। কষ্টার্জিত অর্থ থেকে সামান্য ব্যয় করে এখন সবাই আইপি টিভির সংযোগ নিচ্ছেন তারা। প্রবাসে  ঘরে ঘরে কম মূল্যে এই টিভি  দেখানোর  পেছনে যারা অবদান রাখছেন তারা হচ্ছেন আইপি টিভি অপারেটর।

নর্থ আমেরিকাতে আইপি টিভির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। তবে সে সময় ব্যাপকহারে এর ব্যবহার শুরু না হলেও এখন তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আইপি টিভি ব্যাপক জনপ্রিয় হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে, কম খরচ,   বাইন্ডিং ফ্রি  জোন, সহজে সংযোগ পাবার নিশ্চয়তা, নিজে নিজেই বক্স সেট করার সহজ উপায়, একসাথে দেশ-বিদেশের অনেক চ্যানেল দেখার সুযোগ। আইপি টিভি এদেশের মূলস্রোতে প্রথম শুরু হলেও এখন তা বাংলাদেশি , ভারতীয় এবং পাকিস্তানীদের কাছে টিভি দেখার খুবই প্রিয় একটি মাধ্যম। আর তাই যার যার কমিউনিটির কাছে নিজের দেশের টিভি চ্যানেলগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য আইপি টিভি ব্যবসা শুরু করেছেন অনেকেই। বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আইপি টিভির সংযোগ দিচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ওয়ার্ল্ড ক্যাবল, টিভি দেশী, টোটাল ক্যাবল, স্কাই ক্যাবল, কিয়ার ক্যাবল,  দেশ ক্যাবল, মাই ক্যাবল,  রেডিয়েন্ট ক্যাবল, স্টার ক্যাবল,  যাদু টিভি। এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান।

টোটাল ক্যাবলের কর্ণধার আহমেদুল বারভূইয়া মনে করেন, কেবলমাত্র অর্থ সাশ্রয়ের জন্যই মানুষ আইপি টিভি’র সংযোগ নিচ্ছে এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তার মতে, আইপি টিভি’র সংযোগ দেয়ার জন্য সীমানা কোনো বাধা নয় বলেই এত দ্রুত এটার বিস্তার ঘটছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন,  কোনো এলাকায় যদি টাইম ওয়ার্নার নেটওয়ার্ক থাকে সেখানে ক্যাবল ভিশন সংযোগ দিতে পারে না। কিš’ আইপি টিভি’র সংযোগের ক্ষেত্রে এসব কোনো বাধা না।  যেখানে ইচ্ছা গ্রাহক  সেখানেই নিতে পারেন।  আইপি টিভি’র জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এইচবিও, সিবিএসসহ আরও অনেক চ্যানেল নিজস্ব উদ্যোগেই আইপি ফে”ন্ডলি করেছে। 

স্কাই ক্যাবলের প্রধান নির্বাহী মীর শিবলী বলেন, এখনকার দিনে সবার ঘরেই ইন্টারনেটের সংযোগ রয়েছে। আইপি টিভি  দেখার জন্য ঘরে বা অফিসে  ইন্টারনেটের সংযোগ থাকলে আর কিছুর প্রয়োজন নেই। ডিভিআর সুবিধাসহ ৭০ টির মতো চ্যানেলের জন্য মাত্র ২০ ডলারে তাদের প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে এত সংখ্যার চ্যানেল দেখার জন্য একশ ডলারের কাছাকাছি ব্যায় করতে হতো মাসে। তার মতে, কম অর্থে বেশি চ্যানেল দেখা যায় বলে আইপি টিভির কদর দিন দিন বাড়ছে।

টিভি দেশীর প্রধান সেলস এজেন্ট কাজী শামসুল হক মনে করেন, কম খরচে বেশি চ্যানেল দেখা যায় বলেই মানুষ আইপি টিভি’র সংযোগ বেশি পছন্দ করেন।

কিয়ার ক্যাবল এর পরিচালক মাসুদ রহমান বলেন, কম খরচে অনেক টিভি সহজে দেখা যায় বলেই আইপি টিভির কদর বাড়ছে। মাসুদ রহমান তাদের ২৫ ডলারের প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা অনেক সারা পাচ্ছেন।

 দ্যা স্ট্যাট্যাস্টিক পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া রিসার্চ গ্রুপের তথ্যমতে, প্রতি বছরই  মিলিয়ন মিলিয়ন সংযোগ বেড়েছে।  মাল্টিমিডিয়া রিসার্চ গ্রুপের তথ্যানুসারে চলতি বছরের  শেষ নাগাদ আইপি টিভি’র রেভিনিউ দাড়াবে ২৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারে।  আইপি টিভি’র সংযোগ সংখ্যা এখন এক বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, ২০১৩ সাল নাগাদ ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন সংযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও সেই সংখ্যা এখন চার গুনেরও বেশি । যেটা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।

সঙ্গত কারণেই আইপি টিভি অপারেটররা আশা করছেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বর্তমানে যে পরিমাণ সংযোগ সংখ্যা রয়েছে সেটা আগামী এক বছরেই চারগুনেরও বেশি হবে। তবে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি আইপি টিভি অপারেটরদের গ্রাহক সংখ্যা কত সেটা জানা যায়নি। অন্যভাবে বললে, অপারেটররা সেটার সঠিক সংখ্যা জানাতে চান না।

আইপি টিভির সংযোগ ব্যবহারকারী প্রথম পাঁচটি দেশ হচ্ছে, চায়না ,ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

mahfuz

মাহফুজুর রহমান

এদিকে, আইপি টিভির মাধ্যমে এখন বাংলাদেশি  চ্যানেল সহজে দেখা যায় বলে, উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি অনেক চ্যানেল স্থানীয়ভাবে  তাদের কর্মকান্ড শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি চ্যানেলে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। কয়েকটি টিভির নিজস্ব অফিসও রয়েছে।  বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ৭১ জ্যাকসন হাইটস এ তাদের নিজস্ব অফিস করেছে। সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের নের্তত্বে শিগগিরই  এখান থেকে নিউজ, টক শো করার পাশাপাশি আরও কিছু নতুনত্ব আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ব্যাপারে মাহফুজুর রহমান শনিবারের চিঠিকে জানান, তাদের প্রস্ততি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সব ধরণের সমস্যা এবং সম্ভাবনা তুলে ধরবো। তাদের পাশে থাকবো। আশা করি বাংলাদেশের মতো প্রবাসেও ৭১ দিনদিন আরও জনপ্রিয় হবে। এ ব্যাপাওে তিনি সকল প্রবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com