লাইফ ষ্টাইল

আমাদের বাঘের মাসি

শনিবার, ০৫ জুন ২০২১

আমাদের বাঘের মাসি
আমাদের বাঘের মাসি

বিড়ালকে আমরা হরহামেশাই  বাঘের মাসি বলে থাকি । কোনোদিন কি এটা ভেবে দেখেছেন যে, বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয় কেন? আসলেই কি  বিড়াল বাঘের মাসি ? না, আসলে বিড়াল বাঘের মাসি নয় । তবে,  বাঘের চারিত্রিক স্বভাব,শারীরিক এবং জেনেটিক অনেক মিল রয়েছে বিড়ালের মধ্যে । পরীক্ষা করে দেখা গেছে বিড়ালের মধ্যে  শতকার ৯৫ ভাগেরও বেশী ডিএনএ রয়েছে বাঘের। তাই বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয় ।
বিড়াল মানুষের খুব কাছের প্রাণী, পোষা প্রাণীদের তালিকার একদম উপরের দিকেই আছে। আর মানুষের সাথে বিড়ালের এই হৃদ্যতার সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই। কত আগে থেকে সেটা নিয়ে গবেষণা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হত, আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে মিশরে প্রথম বন্য বিড়ালকে পোষ মানানো হয়। কিন্তু মধ্য চীনের সানঝি প্রদেশে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছরের প্রাচীন বিড়ালদের দেহ পাওয়া গিয়েছে যেটা কিনা এতদিনে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট লুইসের ফিওনা মার্শাল বলেন, তেজস্ক্রিয় প্রক্রিয়ায় বিড়ালের হাড়ের বয়স নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া এটাও জানা গেল, এই বিড়ালগুলোর প্রধান খাবার ছিল ইঁদুরজাতীয় প্রাণী। প্রত্নতত্ত্ববিদরা দুটি বিড়ালের দেহ থেকে অন্তত ৮ টি হাড়ের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। এদের মাঝে একটি বিড়াল ছিল বেশ বুড়ো। আরেকটি বিড়াল মানুষের দেয়া খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতো, সাথে ইঁদুর তো ছিলই।
মার্শাল ও চীনের আরো কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এই খননকাজের সাথে যুক্ত আছেন। তাঁদের মতে, অনেক প্রাচীনকালে এই বিড়ালগুলো পোষা হত ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এছাড়া তারা সে যুগের একটি শস্য সংরক্ষণের গর্ত খুঁজে পান। এর মোটা দেয়ালগুলো ইঁদুরের দ্বারা ছিদ্র হয়ে গিয়েছিল। এর থেকে বোঝা যায়, ইঁদুরের আক্রমণ সে সময় কত ব্যপক ছিল। বিড়ালরা এসব কৃষি নির্ভর গ্রামের প্রতি আকৃষ্ট হতো, কারণ এখানে উৎপন্ন ফসলের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকতো ইঁদুর। অর্থাৎ বিড়ালেরা মনুষ্য বসতি যেখানে ছিল, সেখান থেকে উপকৃত হত। বিড়ালদেরকে সরাসরি পোষ মানানো না হলেও এসময় থেকে যে তারা মানুষের খুব কাছেই বাস করতো সেটা নিশ্চিত। যাকগে বিড়াল কাহিনী নিয়ে আর এগুবো না।
মূল কথায় আসা যাক, ‘ আমাদের বাঘের মাসি’ ।
আমাদের পরিবারে ওর নাম ,‘ পিউ ” আমাদের বাড়িতে পিউ পোষ্য হবার একটি কাহিনী আছে, আমাদের বাড়ির প্রায় একশ’ গজ দূরত্বে এক হিস্পানিক পরিবারে বাস। সেই পরিবারেরই ছিল তার আসল বাস । গত দুই বছর আগে আমি যখন গ্রীষ্মে বাগানে সব্জী চাষের কাজে ব্যস্ত । ওই বাড়ি থেকে সে প্রায় ছুটে আসত আমার কাছে । মাঝে মাঝে এমন হতো তার জন্যে  বাগানে কোদাল চালাতেও অসুবিধা হতো । সে কোদালের সামনে এসে পরত । পা ঘেসে মিঁউ মিঁউ করত । তখন বাধ্য হয়ে কোলে করে বাড়িওয়ালাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসতাম । এ ভাবে সে নিয়মিত আসত এবং নিয়মিত তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতাম।একদিন সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে দেখি , আমার স্ত্রী ও মেয়ে তাকে কোলে নিয়ে আদর করছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার ?
সে আমাদের বাড়ি থাকবে । তার মনিবের বাড়ি যাবে না। আমার মেয়ে জবাব দিল।
তারপরেও আমি তাকে মনিবেরর বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এলাম।
পরের দিন সকালে আবার সে যথারীতি বাগানে।
ওই বাড়ি মালিকের ছেলে বলল, আঙ্কেল সে আমাদের বাড়ি থাকতে চায় না। সে তোমাকে পছন্দ করে।
ছেলেমেয়েও খুব খুশি । শুরু হয়ে গেল বিড়াল পোষার আয়োজন । তার  খাবার , খেলনা থাকার বাড়িঘর বানানোর ব্যস্ততা।
তারপরেও একটি শঙ্কা ছিল । আমার মেয়ের দু’টো গিনিপিগ আছে । সেগুলো দেখতে অনেকটা ইদুরের মত । বিড়াল যদি সেগুলোকে আক্রমণ করে ? না, সে তাদের আক্রমন না করে মাঝে মধ্যে তাদের সাথে খেলা করে । তাই দেখে আমার ছেলে মেয়ে তো মহা খুশি । সে যখন তার গিনিপিগদের আক্রমণ করে না বরং তাদের সাথে খেলা করে । ব্যাস , সেই থেকে সে আমাদের বাড়ির সদস্য হয়ে গেল । বিড়াল পালনে আমার স্ত্রীর অবশ্য কিছুটা আপত্তি থাকলেও ছেলে-মেয়েদের সখের কাছে তাকে হার মানতে হলো ।
আমদের বাড়িতে তার রাত্রিযাপনের প্রথম ঘটনা বলি, আমার স্ত্রী তো বিড়াল পুষতে রাজী নন । এখন অবশ্য তার কাছেই সে বেশী প্রিয় । যাই হোক যথারীতি তার রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা হলো আমার রুমে । ভোরের দিকে সে উঠে মিঁউ মিঁউ করে ডাকতে শুরু করল । আমার ঘুম তখনও ভাঙে নাই । টের পেলাম মিঁউ মিঁউ করে ডাকছে আর সামনের একটি পা দিয়ে আমার মুখমণ্ডলে আস্তে আস্তে আঁচর কাটছে । সূর্য কিন্তু তখনও ওঠেনি । আমি বুঝতে পারলাম সে প্রকৃতির ডাকে বাইরে যাবে । আমাদের যেহেতু ক্যাট লিটার বক্স এখনও কেনা হয় নি। বাড়ির পেছনের দিকের দরজা খুলতেই সে আঙিনায় গিয়ে তার কার্য সম্পাদন করে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করতে লাগলো । ঘরে ফিরে আসার ডাকে আবার  সে ঘরে সুবোধ বালকের  মত ঘরে ফিরে এলো ।

               কাঠবিড়ালি শিকারে আপেল গাছের ডালে

এই ভাবে সে প্রতিদিনই খুব সকালে উঠবে এবং বাইরে যাবার জন্য ডাকাডাকি করবে । এখন সে আর  শুধু আমার রুমে ঘুমায় না। সকলের কাছে সে প্রিয় । যখন যাকে পছন্দ তার কাছে ঘুমাবে । যাকে বলে অজাতশত্রু । আমার মেয়ের কাছে রীতিমত সে বেবি । করোনার কারণে সে যখন বাড়িতে বসে অফিস করে তখন  তার কাছে বসে থাকে , ঘুমায় । তবে একটা দোষ সকালে উঠেই তার বাড়ির বাগানে যেতে হবে । কাঠবিড়ালি শিকারের জন্য তাদের পিছে পিছে দৌঁড়াবে । কিন্ত আজ পর্যন্ত একটিও ধরেছে বলে আমার জানা নাই । তবে মাঝে মধ্যে ছোট ছোট পাখি এবং ব্যাঙ শিকার  করে ঘরে নিয়ে আসে । সকালে উঠেই বাইরে যাবে এবং আমি অফিসে যাবার পূর্বেই ঘরে ফিরে আসবে । কখনও ঘরে না ফিরলে পিউ নামে ডাকলে নাগালের মধ্যে থাকলে চলে আসবে।


               গার্ল ফ্রেন্ডের খোঁজে গাড়ির ছাদে

ঘরে এত বন্ধু থাকলে কি হবে ? বাইরে কিন্তু তার দু’টো শত্রু আছে । দু’টোই  বেওয়ারিশ হুলো বিড়াল। তাকে পেলেই কামড়াবে । এদের মধ্যে একটি  লাল ও অন্যটি কালো ।  তিন তিনবার কামড়িয়ে আহত করছে তাকে । এমন কামড় কামড়িয়েছিল তাকে প্রত্যেকবারই অ্যানিমেল হাসপাতালে নিতে হয়েছিল । যার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ শ ডলার , বাংলাদেশি ১ লাখের উপর । বাইরে শুধু শত্রু নয় , তার একটি গার্ল ফ্রেন্ডও আছে । পাশের বাড়ির একটি মাদি বিড়াল  তার গার্ল ফ্রেন্ড। তার কাছে গেলেই ঐ হুলো বিড়ালের আক্রোশে পড়তে হয় । তাই আমরা সব সময় সযতনে রাখি, বাইরে একদম যেতে দেই না।
দুধ বিড়ালের প্রিয় খাবার এ কথটি বাংলাদেশি বিড়ালের বেলায় খাঁটি হলেও আমেরিকার বিড়ালের বেলায় খাটে না। দুধ তো দূরের কথা এরা বাসী খাবার বা মাছ মাংসের কাটাঝুটা কিছুই খায় না। পূর্বে আমি যে অফিসে চাকরি করতাম সেখানে ক’টা ভবঘুরে বিড়াল ছিল মাঝে মধ্যে  তাদেরকে আমি  আমার দুপুরের খাবারের উশৃষ্ট কাটাকুটি দিয়ে দেখেছি সেগুলো তারা খেতে না । দুধও না।  খাবে বাজারের কেনা খাবার । যা বিড়ালের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা । অ্যামেরিকান বিড়াল বলে কথা, বাজারের ক্যাট ফুড ছাড়া অন্য কোন ফুড খায় না। তাই খাবার টেবিলে এরা বিরক্ত করে না।  তার  নিজস্ব খাবারের টেবিল  এবং মল মূত্র ত্যাগ করার জন্য নিদিষ্ট স্থান আছে ।  ঘরের এক কোনে  খাবারের টেবিল এবং  গাড়ি গ্যারেজের এক কোনে তার মল মূত্র ত্যাগের স্থান রয়েছে। সে শুধু সেখানে খাবে এবং মল মূত্র ত্যাগ করবে তার  নিদিষ্ট ক্যাট লিটার বক্সে।

               বাদল দিনে আমার বিছানা দখল

বিড়াল নরম বিছানায় ঘুমাতে ভালবাসে এটা বাংলাদেশ আমেরিকা সব বিড়ালের ক্ষেতেই এক । বৃষ্টি-বাদলের দিনে আমি কম্বল মুড়ে ঘুমাতে ভালবাসি । এমন দিনে বিড়ালও ঘরে বাইরে যেতে পছন্দ করে না। দেখা যাবে আমি আমার বিছানায় যাওয়ার আগেই সে আমার বিছানা দখল করে শুয়ে আছে । তখন একটু ভাগাভাগি করে শুতে হয় ।
পিউ আমাদের পরিবারের সবার মনে স্থান করে নিয়েছে । যে তাঁকে পুষতে রাজী ছিল না তার কাছেও  সে এখন ভীষন প্রিয়।  কতটা প্রিয় তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি, স্বভাব সুলভ একদিন বিকেলে আমি আমার বাড়ির বাগানে কাজ করছি  এমন সময় হঠাৎ বৃষ্টি এবং সাথে প্রচণ্ড বেগে ব্জ্রপাত শুরু হলো । আমদের পিউ তখন ঘরে নেই । আমার স্ত্রী তখন অধীর হয়ে উঠল বিড়াল কোথায় ? এই দূর্যোগের মধ্যে আমি যে বাগানে রয়েছি  সেদিকে কোন খেয়াল নাই । সে তখন পাগলের মত এদিক সেদিক ছুটতে লাগলো এবং খুব উচ্চস্বরে পিউ পিউ করে ডাকাডাকি করতে শুরু করল । মনে হলো ঝড় বন্যায় বিড়াল মারা গেলে সে এখনই বিধবা হয়ে যাবে । তার ডাকে সাড়া দিয়ে পিউ ভিজতে ভিজতে ঘরে ফিরল । প্রাণীরা সম্ভবত আন্তর্জাতিক মানের হয় সব ভাষাই বোঝে । আমাদের পিউ বাংলা , ইংরেজী হিস্পানিক সব ভাষাই বোঝে ।  আমি ও আমার স্ত্রী তার সাথে কথা বলি বাংলায় এবং ছেলে মেয়েরা বলে ইংরেজীতে ।  সে সবার ভাষায়ই সাড়া দেয় । আর যে বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি এসেছে তারা ছিল হিস্পানিক ।

পিউর খাবার টেবিল ও ক্যাট লিটার বক্স

 বাড়ির মনিবদের প্রতি তার কোন রাগ-অনুরাগ  অভিমান কিছুই নেই । বাইরে যেতে চেলে দরজা ভেজিয়ে  আটকিয়ে রাখলে দেখা যাবে  সে দরজার পাশে দাঁড়িয়েই আছে । খুললেই দৌঁড়ে  যেতে চাইবে । কোন বিরক্ত নাই । একটু আদর করলে ডাবল আদর ফিরিয়ে দিবে । আদর করলেই গো গো করে শব্দ করবে । বাইরে যাবার ইচ্ছা পোষণ করলে চুপচাপ দরজার দিকে খেয়াল রাখবে সুযোগ বুঝেই ফুড়ুৎ করে বেড়িয়ে যাবে । চার সদস্যের  পরিবার আমাদের। কেউ বাসায় না থাকলে কাঁচের জানালা দিয়ে তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকবে কখন কে বাড়ি ফিরবে ?   ফিরলে সেখান থেকে এক লাফে নেমে এসে  লেজ উঁচিয়ে পা ঘেঁসে মিঁউ মিঁউ করে জানায়ে দিবে তুমি ফেরায় আমি খুব খুশি হয়েছি। এতক্ষণ একা একা বোরিং ফিল করছিলাম।
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)ও বিড়াল ভালবাসতেন । বিড়ালের প্রতি তার ভালবাসার একটি গল্প আছে, ‘ আমরা জানি তিনি সর্বদা সাহাবীদের সাথে ফজরের নামায আদায় করতেন। তো একদা ‘তিনি  প্রতিদিনের ন্যায় শেষ রাতে মসজিদে যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন। গায় দেওয়ার জন্য চাদরটি নিতে গিয়ে দেখেন চাদরের এক কোনে শুয়ে আছে একটি বিড়াল। চাদরটি তিনি অতি সহজে টেনে নিতে পারেন। কিন্তু তাতে হয়তো বিড়ালের ঘুম ভেঙে যাবে। বেচারার ঘুম ভাঙাতে তার ইচ্ছে হলো না। তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। এদিকে সুবেহ সাদিক শেষ হয়ে ফজরের নামাজের সময় হয়ে এলো। তখনো বিড়ালটির ঘুম ভাঙ্গেনি। ফজরের নামাজের জন্য সাহাবীগণ তার অপেক্ষা করছেন। তিনি মসজিদে গেলে একসাথে জামাত হয়। তাই না গেলেও নয়। কিন্তু বিড়ালটা তো অঘরে ঘুমাচ্ছে। উঠবার কোন লক্ষণই দেখা যায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিন কাউকে কষ্ট দেন না। ঘুম ভাঙাবার মতো কষ্টও না। বিড়ালটার ঘুম নষ্ট করতেও তার মন চাইলো না। বড় চিন্তায় পড়লেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি কি করলেন? এমন কাজ করলেন, যা শুনলে অবাক হতে হয়। তার জীবনে বহু কাজই তো অভাবনীয় ও বিস্ময়কর। তিনি একটি কাঁচি হাতে নিলেন। চাদরের যে কোনায় বিড়াল ঘুমিয়ে ছিল, ঐ কোনা কেটে ফেললেন। তারপর  কাটা চাদর গায়ে দিয়ে মসজিদে গেলেন, কিন্তু বিড়ালের ঘুম ভাঙালেন না।“ সূত্রঃ ( ছোটদের মহানবী (সাঃ) লেখক: এ.জেড.এম. শামসুল আলম ) ।’

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৫ জুন ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com