আবারো প্রার্থী হতে চান মেয়র আইভী

মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৬

আবারো প্রার্থী হতে চান মেয়র আইভী

রাজনীতিনারায়ণগঞ্জ: দলীয় মনোনীত ও প্রভাবশালী প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) থেকে দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর ওই নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিদ্রোহী প্রার্থী আইভীর কাছে হেরে যান শামীম ওসমান। ভোটের এ ফলাফল তিনযুগ আগের এক স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয় নারায়ণগঞ্জবাসীকে।


৩৭ বছর আগেও একইভাবে মেয়র আইভীর বাবা আলী আহম্মদ চুনকা তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ ঘটনার পর থেকে চুনকা আর ওসমান পরিবারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব জেগে ওঠে। রূপ নেয় শামীম-আইভী স্নায়ুযুদ্ধে।

চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। তাই ভোটারদের মধ্যে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে আগামী নির্বাচনেও কি মেয়রপদে প্রার্থী হবেন দেশের প্রথম নারী মেয়র আইভী?

সোমবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের ৮নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় একটি রাস্তা ও লাইট স্থাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওই কৌতুহলের অবসান ঘটিয়েছেন বর্তমান মেয়র আইভী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হবেন। ফের বিজয়ী হলে তিনি সিটি করপোরেশনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন।

মেয়র আইভি তার বাবাকে স্মরণ করে বলেন, ‘আমি আমার বাবার দেখানো আদর্শ পথে চলছি। তিনি আমাকে বলে গেছেন, সব সময় মানুষের পাশে থাকতে। মানুষের সেবা করতে। তাই আমি জনগণের সেবা করে সাধারণ মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চাই।’

দেশের প্রথম নারী মেয়র বলেন,‘সিদ্ধিরগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড হচ্ছে ৮নং ওয়ার্ড। জাপানি সংস্থা জাইকার কাছ থেকে ১৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ আছে। তবে এখনি সব কাজ করা সম্ভব হবে না। নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হলে সব কাজ করতে পারবো। আমি জনগণের সেবক। আমি সবসময়ই জনগণের সেবা করতে চাই। আমার নিজের কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। যদি আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতে মেয়র হতে পারি তাহলে আরো উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।’

উপস্থিত লোকজনের সামনে মেয়র আরো বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে যখন ভোট চাইতে এ এলাকায় এসেছিলাম তখন এ রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুবই কষ্ট হতো। আজকের মতো এতো উন্নত ছিল না এখানকার রাস্তাঘাট। তখন কেউ আমাকে চিনতো না। অনেকে ভয় পেয়ে কথাও বলতে চায়নি। কিন্তু আবার আপনাদের দোয়াতেই আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।’

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আশরাফ, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মিনোয়ারা মিনু ও দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক সামসুল আলম ভূইয়া প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান পান ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। আর আইভী পান ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ এক হাজার ৩৪৩টি।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২৬ জানুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com