আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য অবস্থানের মেয়াদ বাড়ালেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য অবস্থানের মেয়াদ বাড়ালেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

 

শনিবার ডেস্কঃ প্রেসিডেন্ট ওবামা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূল পরিকল্পনার বাইরে ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে অধিকতর সম্প্রসারিত এক সামরিক মিশন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে কমপক্ষে আরো এক বছরের জন্য মার্কিন সৈন্যদের সরাসরি লড়াইয়ে জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ওবামার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জ্ঞাত প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ওবামার সিদ্ধান্ত মার্কিন বাহিনীকে আমেরিকান সৈন্য বা আফগান সরকারকে তালিবান বা অন্য কোনো সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। এত আফগান সৈন্যদের যুদ্ধাভিযানে মার্কিন জঙ্গি, বোমারু বিমান ও ড্রোন সহায়তা প্রদানেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বছরের প্রথমদিকে ওবামা প্রকাশ্যে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটা তার চেয়ে ব্যাপকতর মিশন। মে মাসে হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আগামী বছরে আফগানিস্তানে আমেরিকান সৈন্যরা কোনো যুদ্ধে জড়িত হবে না। তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানে যে ৯ হাজার ৮শ’ মার্কিন সৈন্য থাকবে তাদের কাজ আফগান সৈন্যদের প্রশিক্ষণের মধ্যে এবং আল-কায়দার বাকি সদস্যদের সন্ধানের মধ্যেই সীমিত থাকবে। ওবামার এ সিদ্ধান্ত হচ্ছে তার প্রশাসনের মধ্যে থাকা দু’টি বিবদমান গ্রুপের মধ্যকার দীর্ঘ ও উত্তপ্ত বিতর্কের ফল। একপক্ষ আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ করার ওবামার সিদ্ধান্তের পক্ষে, অন্যপক্ষ আমেরিকান সৈন্যরা আফগানিস্তানে তাদের মিশন সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করতে সক্ষম বলে পেন্টাগনের মতের সমর্থক। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ঊর্ধ্বতন জাতীয় উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠকে ওবামা এ সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কিছু শীর্ষ বেসামরিক সহযোগী এ যুক্তিতে আপত্তি উত্থাপন করেন যে, আগামী বছর আফগানিস্তানে তালিবান বিরোধী কোনো অভিযানেই কোনো মার্কিনির জীবনের ঝুঁকি নেয়া উচিত হবে না। তাছাড়া আল কায়দার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানেও তাদের মিশন সীমিত রাখা উচিত। কিন্তু সামরিক বাহিনী পাল্টা চাপ সৃষ্টি করে। পেন্টাগন ও আফগানিস্তান উভয় স্থানের জেনারেলরা ওবামার কাছে আর্জি জানিয়ে বলেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান যে উগ্রপন্থীরা আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিলে তালিবান, হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনকে আক্রমণের জন্য মার্কিন বাহিনীকে অধিকতর ক্ষমতা দেয়া প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে বিশেষ পরিস্থিতিতে আফগান সেনাবাহিনীকে তাদের দেশে সামরিক অভিযানকালে মার্কিন বিমান সমর্থন এবং তালিবানের বিরুদ্ধে আফগান সেনা অভিযানে মাঝে মধ্যে মার্কিন স্থল বাহিনীর অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একজন আমেরিকান কর্মকর্তা বলেন, অভিমত ছিল যে আফগানিস্তানে মার্কিন মিশন হবে অত্যন্ত সীমিত এবং তার লক্ষ্য হবে শুধু আল কায়দা। কিন্তু সামরিক বাহিনী যা চেয়েছে তাই হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসন কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী আগামী বছর নিয়মিত টহল দেবে না বা তালিবানের বিরুদ্ধে আক্রমণাভিযান চালাবে না। প্রেসিডেন্ট ওবামার এ সিদ্ধান্তে মার্কিন আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ল। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেখানে আমেরিকান সৈন্যদের ১৩ বছরের ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ মিশন শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে অবস্থায় ওবামা ও তার সহযোগীরা এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, আফগানিস্তানে ২০১৫ সালে মার্কিন সামরিক ভূমিকার প্রকৃতির প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দু’টি বিষয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রথমটি হল উত্তর ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অগ্রগতি ও ইরাকি বাহিনীর বিপর্যয় যা ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ফলে ইরাকি বাহিনীকে তাদের ভূখ- রক্ষায় যথাযথ প্রস্তুতিহীন করার জন্য ওবামাকে সমালোচনার সম্মুখীন করে। এটি ওবামার আফগান নীতিকেও সমালোচনার শিকার করেছে। সমালোচকরা বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার আফগান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও তাদের পরামর্শ প্রদান প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে যার ফলে তারা তালিবান যোদ্ধা ও অন্যান্য উগ্রপন্থীদের হামলার মুখে অসহায় হয়ে পড়বে। নয়া সিদ্ধান্ত ওবামা বিরোধী সমালোচনার মুখ বন্ধ করতে পারে। তবে কিছু ডেমোক্র্যাট সিনেটর হয়ত ওবামার সমালোচনা করবেন যে তিনি আফগানিস্তানে যুদ্ধ অবসানের শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছেন। দ্বিতীয়টি হল আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর যিনি তার পূর্বসূরির চেয়ে তার দেশে বর্ধিত মার্কিন সামরিক মিশন মেনে নিতে সম্মত। ঊর্ধ্বতন আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন, আশরাফ গণি ও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হানিফ আতমার ২০১৫ সালেও তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আগের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই মার্কিন বিমান হামলা সীমিত রাখা ও যৌথ অভিযানের উপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিলেন, আশরাফ গণি সম্প্রতি সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। তিনি আফগানিস্তানে জোট বাহিনীর কমান্ডার জে: জন এফ. ক্যাম্পবেলের সাথেও ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আর তা পাশ্চাত্য কর্তৃক ব্যাপক ভাবে প্রশংসা লাভ করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওবামার সিদ্ধান্তের আলোকে মার্কিন বিমান বাহিনী ২০১৫ সালে তালিবানের বিরুদ্ধে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান, বি১বি বোমারু বিমান, প্রিডেটর ও রিপার ড্রোন ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আফগানিস্তানে আক্রমণ ক্ষমতা বজায় রাখা। আগামী বছরের শেষ নাগাদ ৯,৮০০ সৈন্যের অর্ধেক আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। বাকিরা কাবুল ও বাগরামে কেন্দ্রীভূত থাকবে। তারা ২০১৬ সাল নাগাদ আফগানিস্তান ছাড়বে যা ক্ষমতা ছাড়ার আগে ওবামাকে আফগান যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণা দেয়ার সুযোগ দেবে। আমেরিকার ন্যাটো মিত্ররা ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে ৪ হাজার সৈন্য রাখবে। তারা সৈন্য মোতায়েন ও প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করবে বলে ধারণা। ওবামা মে মাসে রোজ গার্ডেনে দেয়া বক্তৃতায় বলেছিলেন, আমার মনে হয় আমেরিকানরা জেনেছে যে যুদ্ধ শুরু করার চেয়ে শেষ করা কঠিন। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com