আজ ১লা ফেব্রুয়ারি, শুরু হলো ভাষার মাস

রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আজ ১লা ফেব্রুয়ারি, শুরু হলো ভাষার মাস

Febশনিবার রিপোর্টঃ আজ ১লা ফেব্রুয়ারি, শুরু হলো ভাষার মাস। মাতৃভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির একটি গৌরবময় অধ্যায়। কারণ একমাত্র বাঙালি জাতি ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি। মাতৃগর্ভ থেকে যেমন সন্তানের জন্ম হয়, তেমনি এ দেশের জনজাতির মর্মস্থল থেকে বাংলা ভাষা উদ্ভূত হয়। সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় দেশের ভূমিজ সন্তানদের জীবনরস মন্থন করে বাংলা ভাষার জন্ম হয়, যা জাতির নিরলস চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বিকশিত ও প্রসারিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। আঞ্চলিক প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে। প্রাকৃতজনের তথা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাই প্রাকৃত ভাষা। ‘চর্যাপদ’ হলো প্রত্নবাংলা বা আদি বাংলার নিদর্শন। প্রাকৃত ভাষা ক্রমে লোপ পায়, কিন্তু মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা টিকে থাকে।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, বাংলা ভাষা ভুঁইফোড়ের মতো হঠাৎ করে জন্মলাভ করেনি বা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি। এর মূল জাতীয় জীবনের গভীরে প্রোথিত। শুধু ভূখ- নয়, নৃতত্ত্ব-জাতিতত্ত্বের মতো ভাষাতত্ত্বের অনেক সম্পদ আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি। আমাদের আজকের মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা সমগ্র জাতির শত-সহস্র বছরের সাধনার ফসল। তবে প্রশ্ন ওঠে_ আমাদের মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার চলার পথ কি সরল সচ্ছল সুগম ছিল না বন্ধুর কণ্টকাকীর্ণ ছিল? এ কথা সবাই জানে যে, ভাষার জন্য বাঙালিকে অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।


বাঙালিকে অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে যখন জাতিসত্তার বিকাশ ঘটতে থাকে তখন থেকেই একটা বৈরী পরিবেশের মধ্যে পড়তে হয় আমাদের। এখন প্রশ্ন হলো, মাতৃভাষার এত বড় গৌরব ও অর্জনকে আমরা কি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি? ভাষার ব্যাপারে বাংলাদেশে আজ যা ঘটছে, তা প্রত্যক্ষ করে সহজেই বলা যায় না, আমরা পারিনি। আজকাল প্রবীণদের মুখে প্রায়ই শোনা যায় স্কুল-কলেজে ছেলেমেয়েরা গোল্লায় গেছে; ইংরেজি বলা তো দূরের কথা, শুদ্ধ করে বানান পর্যন্ত বলতে পারে না। সরকারি-বেসরকারি উপরের মহল থেকে হামেশা বলা হচ্ছে বিশ্বায়নের যুগে আমাদের টিকে থাকতে হলে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্যপ্রবাহ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদির কারণে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও লিখন-কথনের দক্ষতা ছাড়া গত্যন্তর নেই। অতএব আমাদের ইংরেজি শিখতেই হবে। ব্যাপারখানা এই, ইংরেজি বিদ্যা অর্জন করতে না পারলে কোনো শিক্ষা আর শিক্ষা হয় না, সব বিফলে যায়। এ মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি রোধ করতে হবে বাংলা ভাষার বিকৃতিও।

রাষ্ট্রভাষার প্রাথমিক দায়িত্বটি মূলত প্রশাসনিক। প্রশাসনিক সুবিধার্থেই ভাষাটি পরিশীলিত ও আরোপিত হবে সেটাই স্বাভাবিক। জনগণের সঙ্গে জনগণের সহজ যোগাযোগের খাতিরে রাষ্ট্র এমন একটি ভাষাকে ‘সুনির্দিষ্ট’ করে দেয় যেখানে শিল্প-সাহিত্যের প্রভাব নিতান্তই যৎসামান্য। দুঃখজনক যে আবহমানকালের ভাষার স্বাভাবিক ধারাটি অত্যন্ত কৌশলে বিকৃত করে একটি ‘জগাখিচুড়ি’ ভাষা উৎপাদনের অপচেষ্টা লক্ষণীয়। এ ধারা বাঞ্ছনীয় হতে পারে না।

আমরা মনে করি, দেশজ ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চার মাধ্যমে বিদেশি অপসংস্কৃতি বা ভাষার আগ্রাসন রোধ করে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম, স্বজাতিপ্রীতি এবং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। এর জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রতিফলন ঘটানো জরুরি। দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে এসব অর্জন সম্ভব নয়। বাংলা ভাষাকে উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করা মানে দেশমাতৃকাকে, নিজের মাকে অবহেলা করা, অমর্যাদার চোখে দেখা। ভাষা রক্ষার লড়াইয়ে রক্ত দিয়ে যেসব শহীদ বাংলা ভাষাকে সগর্বে তুলে ধরেছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। পাশাপাশি বলতে চাই শুধু ভাষার মাস কিংবা ভাষা দিবস পালন করলেই হবে না, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন এবং ভাষার মর্যাদা রক্ষার সঙ্গে বিকৃতি রোধেও নিতে হবে বাস্তবমুখী উদ্যোগ।

বাংলা ভাষা, মাতৃভাষাকে নিয়ে গীতিকার ও সুরকার অতুল প্রসাদ সেনের লেখা সুন্দর একটি গান শুনতে নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com