আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বিদায় বঙ্গাব্দ ১৪২১

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

আজ চৈত্র সংক্রান্তি, বিদায় বঙ্গাব্দ ১৪২১

দীপন নন্দী, ঢাকাঃ নতুন দিনের ভোরে/ দিসনে সময় কাটিয়ে তোরা/ সময় বিচার করে- নতুনের আহ্বানটিই এমনই, যা উপেক্ষা করার সাধ্য নেই কারও। সব জীর্ণতাকে পেছনে ঠেলে নতুন আলোয় সিক্ত হবে জীবনধারা। সৃষ্টির এমন প্রবাহমানতায় আজ মহাকালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বাংলা বছর। বঙ্গাব্দ ১৪২১। আজ সোমবার, ৩০ চৈত্র, ১৪২১ বঙ্গাব্দের শেষ দিন। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। ‘জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি….’ বিদায়ী সূর্যের কাছে এ প্রণতি আজ জানাবে বাঙালি। আগামীকাল মঙ্গলবার পূর্ব দিগন্ত থেকে ছুটে আসা ভোরের নরম আলো রাঙিয়ে দেবে পৃথিবী, স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনায় সূচিত হবে নতুন বছর। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুনকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে সাজিয়েছে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণের আয়োজন।

বাংলা বছরের সমাপনী মাস চৈত্রের শেষ দিনটিকে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ বলা হয়। লৌকিক আচার অনুযায়ী, এ দিনে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিশেষ করে বিদায় উৎসব পালন করে। দোকানপাট ধুয়ে মুছে বিগত বছরের সব জঞ্জাল-অসূচি দূর করে পহেলা বৈশাখের দিন খোলা হবে ব্যবসায়িক হিসেব-নিকেষের নতুন খাতা। সে উৎসবের লোকায়ত নাম ‘হালখাতা’।


ওই উৎসবে নিকোনো পরিচ্ছন্ন বিপণী অঙ্গন, ধুপ-ধুনোর সুগন্ধি ভারি করে রাখে ঘরের পরিবেশ। তদুপরি অভ্যাগত এলেই গোলাপ পানির ছড়ি ছিটানোয় তার অভ্যর্থনা। সারা বছরের খরিদ্দারদের কাছে বকেয়া টাকা তুলতে বছরের এই দিনটিকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার রেওয়াজ কতশত বছরের তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।

এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসেছে মেলা। বাংলাপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, অতীতে চৈত্র সংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়েজামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসত। গৃহস্থরা সবাইকে নতুন জামাকাপড় দিত এবং উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করত। মেলার কয়েকদিন এভাবে তারা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করত। বর্তমানে শহুরে সভ্যতার ছোঁয়া লাগায় আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই। তবে এখন শহরাঞ্চলের নগর সংস্কৃতির আমেজে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব বা মেলা বসে, যা এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সনাতন মতে, বাংলা মাসের শেষ দিনে শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলা মনে করা হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে উদ্বিগ্ন কৃষককুল নিজেদের বাঁচার তাগিদে বর্ষার আগমন দ্রুত হোক, এই প্রণতি জানাতেই পুরো চৈত্র মাসজুড়ে উৎসবের মধ্যে সূর্যের কৃপা প্রার্থনা করে। এখন সূর্য তার রুদ্ররূপে প্রতিভাত। তাই চৈত্র সংক্রান্তিতে নানা উপাচারের নৈবেদ্য দিয়ে তাকে তুষ্ট করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

নানা আয়োজনে আজ যখন চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ, তখন একই সঙ্গে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। আজ সোমবার রাত পোহালেই কাল নতুন দিন। শুধু নতুন দিনই নয়, একই সঙ্গে নতুন বছরও। নতুন বছর ১৪২২-কে স্বাগত জানাতে পুরো বাংলাদেশ এখন উন্মুখ। পুরো দেশ যেন এখন পরিণত হয়েছে এক উৎসবমুখর দেশে। বৈশাখকে বরণ করার জন্য সর্বখানেই এখন চলছে সাজগোজ আর ধোয়ামোছা। নববর্ষের নানা আয়োজনে ব্যস্ত এখন উৎসবপ্রেমীরা। আর সব প্রস্তুতিই এখন শেষ পর্যায়ে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ছায়ানট, চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্টরা বর্ষবরণের জন্যে এবার গ্রহণ করেছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

এদিকে, চৈত্র সংক্রান্তির উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’ ও চ্যানেল আই। বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রের উন্মুক্ত প্রান্তরে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাতা অবধি চলবে চৈত্র সংক্রান্তির আয়োজন। এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

 

শনিবাবের চিঠি / আটলান্টা / ১৩ এপ্রিল ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com