আচরণবিধি লঙ্ঘন: সাংসদদের শোকজ করলেও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কৌশলী ইসি

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫

আচরণবিধি লঙ্ঘন: সাংসদদের শোকজ করলেও মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে কৌশলী ইসি

Nirbaconপৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিন সাংসদকে শোকজ করলেও মন্ত্রীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে রা করতে চায় না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ব্যাপারে মাঠ কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েই দায় সারতে চাচ্ছে তারা।

আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনায় বেকায়দায় পড়েছে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা মাঠ কর্মকর্তারা।


বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন থেকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তবে কয়েকদিন আগে ঢাকা-২০, বরগুনা-২ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্যকে বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসি সচিবালয় থেকেই সরাসরি চিঠি দেয়া হয়। বুধবার এ বিষয়ে তারা দুঃখ প্রকাশ করে জবাবও পাঠিয়েছেন।

অথচ এর একদিন পর ফুলপুর পৌরসভার শেরপুরে প্রার্থীর পক্ষে পথসভায় অংশ নেয়ায় তথ্যমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও ইসি সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে। ইসির উপ সচিব রকিবউদ্দিন মণ্ডল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

গত ৭ ডিসেম্বর একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ‘দুই মন্ত্রীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

চিঠিতে পত্রিকায় প্রকাশিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসিকে লিখিতভাবে জানানোর জন্যে অনুরোধ করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত পাল বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমি এখনো এ ধরনের চিঠি পাইনি। তবে চিঠি পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ওই পৌরসভার দায়িত্বে থাকা সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকও ইসির নির্দেশনা পাননি বলে জানান।

এবার ২৩৪ পৌরসভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইসি পত্র-পত্রিকার নিউজ দেখে সাংসদদের নোটিশ দেয়, অথচ মন্ত্রীদের ব্যাপারে মাঠ কর্মকর্তাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে চুপ থাকছে। মাঠ কর্মকর্তারা এ নিয়ে কী করবেন?’

এভাবে দায় সারলে আগামী নির্বাচন গুলোতে কি করবে ইসি তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ও তিন মন্ত্রীকে নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠ কর্মকর্তা জানান, এ নিয়ে এখন তদন্ত কমিটি করতে হবে, আদৌ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকে ব্যবস্থা নিলে ভালো হতো।

দুপুরে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আচরণবিধি অনুসরণে তিনজন সংসদ সদস্যকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। তবে দু’মন্ত্রীর ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, নির্বাচনী এলাকায় কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলা আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে তাদের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিধির বাইরে কিছু করা হবে না।’

উপ সচিব সামসুল আলম জানান, ইসি সচিবালয়ের দু’জন কর্মকর্তাকে পত্রপত্রিকা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন বিধি লঙ্ঘন পর্যালোচনা করে ইসির নজরে আনবে। কমিশন এ নিয়ে সম্মতি দিলে মাঠ কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।’

সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দলীয় প্রধানদেরও পথসভা ছাড়া কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়া ২০ টি দলকেও আচরণবিধি প্রতিপালনের অনুরোধ জানিয়ে বুধবার চিঠি দেয় ইসি।’

ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট রয়েছে ২৩৫ পৌরসভায়।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ১১ ডিসেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com