আগষ্টে ভার্জিনিয়ায় নজরুল সম্মেলন

সোমবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৮

আগষ্টে ভার্জিনিয়ায় নজরুল সম্মেলন

বিনোদনভার্জিনিয়াঃ   ভার্জিনিয়ায় নজরুল সম্মেলনের এক প্রথম প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গত রবিবার ভার্জিনিয়ার স্প্রিং ফিল্ডের একটি হোটেলের বলরুমে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সামাজিক সংগঠন ধ্রুপদ এবং বাই-এর যৌথ আয়োজনে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১১-১২ আগষ্ট শনি ও রবিবার  ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনের কেনমোড় মিডল স্কুল মিলনায়তনে ১৭তম উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলন ২০১৮ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষনা দেন আয়োজকবৃন্দরা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগঠক, সাংস্কৃতিককর্মি, শিল্পী এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি ও বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারিনী অনিন্দিতা কাজী এবং তার স্বামী শাহীন তরফদার। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সবাইকে নজরুল সম্মেলন-২০১৮-এর বিশাল আয়োজনে সম্পৃক্ত করার জন্য তাদের অনুষ্ঠান পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করে সবাইকে অবহিত করা এবং আয়োজনে সবার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা। আয়োজনের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন ধ্রুপদের কর্ণধার হিরণ চৌধুরী এবং বাই-এর সভাপতি ও নিউজবাংলা ডটকম-এর সম্পাদক শফি দেলোয়ার কাজল।


প্রথম পর্বে নজরুল সম্মেলনের উপর আলোচনা ও বক্তব্য এবং দ্বিতীয় পর্বে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই দিপু খানের সঞ্চালনায় সম্মেলনের আয়োজন, পরিকল্পনা, তাৎপর্যসহ নজরুল ইসলামের সৃষ্টি সম্ভারের ব্যপ্তি ও গভীরতার উপর আলোকপাত করে বিভিন্ন বক্তা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভয়েস অব আমেরিকার বর্তমান বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলন কমিটির সভাপতি ড. সুলতান আহমেদ, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের মাসুমা খাতুন, সংবাদ বিশ্লেষক এবং ব্রডকাস্টার আনিস আহমেদ, বাই-এর সভাপতি শফি দেলোয়ার কাজল, কবির নাতনি অনিন্দিতা কাজী এবং শাহীন তরফদার প্রমুখ।

[বিনোদনের আরো খবর]

নজরুল সম্মেলনের মত একটি বিশাল আয়োজনে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য এবং সক্রিয় সহযোগিতা করে একে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য বিশেষ আহবান ও অনুরোধ জানান শফি দেলোয়ার কাজল।

ড. সুলতান আহমেদ তার বক্তব্যে আসন্ন এই নজরুল সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য তাদের কমিটির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন। আনিস আহমেদ বাংলা সাহিত্যের দুই সম্পদ, রবীন্দ্র-নজরুল দু’জনেরই অপরিসীম অবদানের কথা উল্লেখ করে নজরুল সম্মেলন আয়োজনের তাৎপর্য সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন এবং এর সার্বিক সফলতায় তাঁর সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

মাসুমা খাতুন তাঁর বক্তব্যে কবি নজরুলের ইসলামের সৃষ্টি সম্ভার সবার কাছে বিশেষ করে কাজী নজরুলের উপর ইংরজি ভাষায় রচিত বইগুলোর মাধ্যমে তরুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এমনি আয়োজনের গুরুত্বের উপর সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারিনী কবির নাতনি অনিন্দিতা কাজী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তাঁর দাদুর সৃষ্টিকে সবার মাঝে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেবার জন্য কবির অজানা কথা সবাইকে জানানোর জন্য তিনি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। উত্তর আমেরিকায় এবং সম্প্রতি তিনি এবং তার স্বামী শাহীন তরফদার মিলে পারিবারিক উদ্যোগে স্থাপন করেছেন কাজী নজরুল ফাউন্ডেশন গান ও বাচিক শিল্পশিক্ষার জন্য শুরু করেছেন স্কুল ‘সঞ্চিতা’। তিনি আয়োজিত এবারের নজরুল সম্মেলন-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। শাহীন তরফদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির যথাযথ মূল্যায়ন এবং আরো বেশী প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন এবং কাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর সৃষ্টিকে সবার কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দেয়ার জন্যই কাজী নজরুল ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে।

প্রভাতী দাসের উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুল ইসলামের কবিতা, গান, গানের সাথে নৃত্য পরিবেশনা এবং সব শেষে নজরুল ইসলামের গানের ছায়ায় সুরের লহরী পরিবেশিত হয় যন্ত্র সঙ্গীতে সরোদ আর তবলার যুগলবন্দীতে।  নৃত্য পরিবেশন করেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সবার পরিচিত এবং সবার প্রিয় নৃত্য শিল্পী, কোরিওগ্রাফার রোকেয়া হাসি। ‘অঞ্জলী লহ মোর সঙ্গীতে’ গানটির সাথে অত্যন্ত চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে মোহিত করেন।

এছাড়া জনপ্রিয় নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন দিনার মনি, তাপস গোমেজ এবং অনিলা চৌধুরী। নজরুলের কালজয়ী ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে আবৃত্তি করে সবাইকে মুগ্ধ করেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন মাহবুব হাসান সালেহ। এছাড়া চমৎকার আবৃত্তির আবহে সবাইকে আচ্ছন্ন করেছিলেন মিসেস সিলিকা কণা। আর সবার শেষে সরোদ এবং তবলার যুগলবন্দীতে নজরুল সঙ্গীতের ছায়ায় অসাধারণ পরিবেশনায় সবাইকে বিমুগ্ধ করে দেন সৌম্য চক্রবর্তী ও মোনির হোসেন। উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক পর্বে তবলায় সংগত করেন পল ফেবিয়ান গোমেজ এবং শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিলেন ওয়াশিংটনের স্বনামধন্য সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার জামিল খান।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৯ জানুয়ারি , ২০১৮

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জানুয়ারি ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com