আকায়েদের কোন দায়িত্ব বাংলাদেশিরা নিবে না

মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

আকায়েদের কোন দায়িত্ব বাংলাদেশিরা নিবে না
অভিযুক্ত আকায়েদ উল্লাহ

অভিযুক্ত আকায়েদ উল্লাহ

শনিবার রিপোর্টঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথোরিটি বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণকারী বাংলাদেশি  আকায়েদ উল্লাহ’র ঘৃণিত অপরাধের তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র কর্মকর্তারা জানান উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত। আকায়েদ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করে না, তার কোন দায়িত্ব বাংলদেশিরা নিবে না। সন্ত্রাসীদের কোন দেশ, জাত নেই তার একটা মাত্র পরিচয় সে সন্ত্রাসী । বাংলাপ্রেস, নিউ ইয়র্ক ।

গতকাল বিকালে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত তিন শতাধিক বাংলাদেশি অফিসার দ্বারা গঠিত বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।


বাপা’র প্রেসিডেন্ট লেফটেনেন্ট শামসুল হক বলেন,  যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী গোটা বাংলাদেশি সমাজের জন্য আজ একটি দুঃখের দিন। নিজেদের প্রয়োজনে আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি। বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য হিসেবে আমরা সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা এবং ঘৃণা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কেবল তাদের মাধ্যমেই সংগঠিত হয়, যারা সন্ত্রাসী।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মধ্যেই কিছু কিছু বাজে লোক রয়েছে।এ কারনে গোটা সম্প্রদায় বা জাতিকে বাজে বা খারাপ  হিসেবে মনে করার কোনও কারণ থাকতে পারে না। প্রবাসী সকল বাংলাদেশিদেরকে তিনি সতর্কতার সাথে স্বাভাবিক জীবন-যাপন অব্যাহত রাখার আহবান জানান। বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণকারী হিসেবে একজন বাংলাদেশির নাম এসেছে। এ কারনে বাপা’র পক্ষ থেকে  দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে তা জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। এসময় কয়েকজন বাংলাদেশি পুলিশ সদস্য নিউ ইয়র্ক পুলিশের সতর্কতামূলক পোস্টার এবং ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাপা’র সাধারণ হুমায়ূন কবীর বলেন, আকায়েদ উল্লাহ দোষ করে থাকলে নিশ্চয়ই তার কঠোর শাস্তি হবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী। আকায়েদের মতো বাজে লোকদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে সাথে সাথে যেন কাছের পুলিশ স্টেশন অথবা সিটির হটলাইনে জানানো হয়।

সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন, এ রকম ঘটনা বা শঙ্কা আমরা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছি অনেকবার। আমাদের ছেলেমেয়েরা জিহাদি কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কি না, তা প্রত্যেক বাংলাদেশদের খতিয়ে দেখা দরকার।

সাউথ এশিয়ানদের মানবাধিকার সংগঠন ‘ড্রাম’-এর বাংলাদেশি সংগঠক কাজী ফৌজিয়া বলেন, ‘কেউ যেন আগ বাড়িয়ে নিজেদের দোষ স্বীকার করতে মাঠে না নামেন।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এই শহরে হাজার হাজার বাংলাদেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। একজন সন্ত্রাসীর দায় কেন বাংলাদেশের পুরো কমিউনিটি নিতে যাবে। আগে দেখা যাক, এই ঘটনার তদন্তে আসল ঘটনা কী বেরিয়ে আসে।’

বাংলাদেশি-অধ্যুষিত একটি এলাকার সিটি কাউন্সিলর ডেভিড উইপ্রিন বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি ঘৃণা জানানোর উপলক্ষ। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাসীর কোনো দেশ বা ধর্ম নেই। কেউ যেন এই ঘটনার পর বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সন্ত্রাসের সঙ্গে স্টিগমাটাইজড না করতে পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’ নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন, নিউইয়র্ক রাজ্যপ্রধান এবং পুলিশপ্রধানেরাও তাঁদের ব্রিফিংয়ে হামলাকারীর জাতীয়তা প্রকাশ করেননি।

বাংলাদেশি অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, আকায়েদ উল্লাহ এর প্রতি সংঘবদ্ধভাবে ঘৃণা দেখাতে হবে। ওরা বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা মানবতার দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েই থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ ইয়র্কের সভাপতি কামাল আহমেদ  বলেন, এমন আচরণে লিপ্ত কোনও ব্যক্তি আমাদের সমর্থন কখনো পাবেন না। আমরা সব সময় ওদের প্রত্যাখান করেছি। আকায়েদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, সে যদি সত্যিকার অর্থেই অপরাধী হয় তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা সকলেই। নিউ ইয়র্কে জামায়াত-সমর্থক সংগঠন মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকা-মুনা’র সদস্য ছিলেন আটক আকায়েদ উল্লাহ এমন বক্তব্যের জবাবে মুনার প্রেসিডেন্ট  দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সদস্যের নাম-ঠিকানা আমরা লিপিবদ্ধ রাখি। এমনকি আমাদের কোনো অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের নামও লিপিবদ্ধ করা হয়।’ নিশ্চিত করে তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মুনার কোনো সদস্য নন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ সদস্যবৃন্দ ছাড়াও এ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, সংগঠনের প্রধানগণ ও সমাজকর্মীরা ছাড়াও অ্যাটর্নি ইশরাত সামী, মাজেদা উদ্দিন, রুহুল আমিন সিদ্দিক, ময়নুল ইসলাম, তারেক হাসান খান, আব্দুর রহিম হওলাদার, আব্দুল হাই জিয়া, কামাল ভূঁইয়া, সিটি মেয়রের প্রতিনিধি সারা সাঈদ প্রমুখ এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্টে ব্রুকলিনের ওজন পার্ক এলাকা থেকে ২২ বছরের পারভেজকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারভেজ আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে সৌদি আরব হয়ে সিরিয়া যেতে চেয়েছিলেন। ২০১২ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করে এফবিআই। কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস (২১) নামের ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১২ ডিসেম্বর ,২০১৭

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com