আউটসোর্সিং হতে পারে আপনার স্বাধীন পেশা

রবিবার, ১৪ জুন ২০১৫

আউটসোর্সিং হতে পারে আপনার স্বাধীন পেশা

আশীষ কুমার দাসঃ
ডিজিটাল বিশ্বে অনলাইনে অর্থ উপার্জন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খুব সহজেই আপনি এই অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বের নামকরা সব ব্রান্ডের ডিজাইনার থেকে শুরু করে চিফ ডিজাইনার পর্যন্ত। আপনি হয়ে যেতে পারেন বিশ্বের যে কোন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক । অবশ্যই যদি আপনি সেইভাবে আপনার মেধা ও পরিশ্রম কাজে লাগাতে পারেন আপনার জীবনে । সত্যিই এরকম হতে পারে আপনার জীবনে, আপনি সত্যিই হয়ে উঠতে পারেন স্বপ্নের রাজকুমার অথবা রাজকুমারী। এরকম কিছু ছোট ছোট স্বপ্নের রাজাদের জীবনে ঘটতে চলছে সেরকম কিছু ঘটনা। অনলাইনে ঘরে বসে আপনিও হতে পারেন একজন দক্ষ আউটসোর্স অর্থ উপার্জনকারী, হয়ে উঠতে পারেন দক্ষ ডিজাইনার। এসব কিছু আপনাদের জানাতে শহরের এ প্রজন্মের ক’জন তরুণ কিভাবে নিজের দক্ষতায় পরিশ্রমে হয়ে উঠেছেন দক্ষ আউটসোর্স অর্থ উপার্জনকারী, ও ডিজাইনার । কিভাবে তারা তাদের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বে। আজ জেনে নিন তাদের ছোট গল্পকথা- তরুণরা চাইলে কিনা করতে পারেন ? দেশের উন্নয়নে, আন্দোলনে,সাংস্কৃতিক বিপ্লবী জাগরণে সবসময় তরুণদেরই ভুমিকা বেশি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কথা, আজ তরুণরাই দেশের সকল উন্নয়ন নিজেদের অজান্তেই করে যাচ্ছেন। এমন অনেক তরুণ আছেন যারা দেশে-বিদেশে গর্বের সাথে নিভৃতে প্রতিযোগিতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নাম বলতে বেশি দূরে যাওয়া লাগবে না, দেশ বিদেশও ঘুরতে হবে না সেজন্য।  নিজ শহরেই তারা সেবামুলক  কাজ করে অর্থ উপার্জন করে যাচ্ছেন।

সাজ্জাদুর রহমান পলিন

সাজ্জাদুর রহমান পলিন

সুনামগঞ্জ সদরের সুরমা ইউনিয়নের অক্ষয়নগরের ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভোলাপার সাজ্জাদুর রহমান  পলিন, এমদাদুল হক মিনহাজ, ফ্যাশন ডিজাইনার এস এস হক  শিমুল, কাওসার চৌধুরী সহ আরো অনেকেই আছেন যারা নিজের সাথে সুনামগঞ্জেরও মুখ উজ্জ্বল করেছেন।  নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে বিশ্বমানের ডিজাইন তৈরী করে অর্থ উপার্জন করছেন গর্বের সাথে। আমরা তাদের কথাই আপনাদের আজ জানাতে চাই।  সুনামগঞ্জের ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভোলাপার সাজ্জাদুর রহমান পলিন একজন দক্ষ আউট সোর্সাং প্রফেশনাল। তিনি সুনামগঞ্জ সদরের সুরমা ইউনিয়নের অক্ষয়নগর গ্রামের বাসিন্দা । তিন ইংরেজী সহিত্যে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে অর্নাস ও মের্টোপলিট্রন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছেন, এবং লিনডা ডটকম থেকে তিনি অনলাইনে ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভপমেন্ট এর ওপর কোর্স করেছেন।  সাজ্জাদুর রহমান পলিনের মধ্যবাজারে ‘ইন্সপায়ার্ সফট্ বিডি ডটকম’ নামে ওয়েব ডেপলাপিং এর অফিস রয়েছে। তিনি এখন ওয়েব সাইট ডেভলপ, ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং এর কাজ করেন। পলিন মুলত ২০০৯ সালে থেকে বর্তমানে ইলেন্সে টপ লিস্টেড সিলেটের জিআইটি এক্সপার্ট এ আর্টিক্যাল লেখার কাজ করতেন । সেখান থেকেই তার আউটসোর্সার হিসেবে ইন্টারনেটে আর্নিং শুরু। 


এ বিষয়ে সাজ্জাদুর রহমান পলিন বলেন, আমি সিলেটে থাকাকালিন সময়ে ইলেন্সে টপ লিস্টেড সিলেটের জিআইটি এক্সপার্ট এ আর্টিক্যাল লেখার কাজ দিয়ে আউটসোর্সাং এর কাজ শুরু করি। সেই সময় থেকেই ইলেন্সে বিড করে আর্টিক্যাল লেখার কাজ সহ ওয়েব ডিজাইন এর কাজ করেছি । প্রায় ২ বছর আমি জিআইটি এক্সপার্ট কোম্পানিতে কাজ করি। তারপর আমি ২০১২ সলের ডিসেম্বরের দিকে সুনামগঞ্জ চলে আসি। সুনামগঞ্জে আসার পর এখন পর্যন্ত ইউকে, ইউ,এস,এ ও কানাডার ৫ টি কোম্পানীর সাথে নিয়মিত ভাবে কাজ করছি, ল ফার্ম নিউইয়ার্ক টপ লইয়ার্স, হেরলড বাইক, বডিবাইবাই- জিম সাইট, উইকলি স্যাটার ডে বা শনিবারের চিঠি , আটলান্টা ইউএসএ ভিত্তিক বাংলা পত্রিকা উল্লেখযোগ্য। শুরুতে প্রতি কাজের জন্য কমপক্সে ৯০ বা ১০০ ডলার পেতাম । সুনামগঞ্জে আমার ওয়েব ডেপলাপ অফিস খোলায় আঞ্চলিক অনেক কাজই করেছি। শহরে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক  দৈনিক সুনামগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকা, জুবিলীয়ান রিবাবলিক ডট কম, সহ সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ওয়েবসাইট  ও ডিজাইনের কাজ করেছি। এছাড়াও সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের কাজও আমি করে দিয়েছি।শুধুমাত্র গত মাসেই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল কলেজে ওয়েবসাইট তৈরির পনেরটি কাজ হাতে এসেছে। বর্তমানে দেশের ও দেশের বাহিরের চল্লিশ টি কোম্পানীকে বংসরিক পেমেন্টের ভিত্তিতে ওয়েবসাইট কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। ইলেন্সে থেকে অনলাইনে  দেশ-বিদেশের ছোটবড় অনেক কোম্পানির দেয়া প্রজেক্ট এ এপ্লাই করার মাধ্যমে কাজ পাওয়া । যেখানে তরুণরা ইচ্ছে মতো কাজ নিতে পারেন,এবং ক্লায়েন্টের ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারেন। এখানে দক্ষতার ওপর নির্ভর করে আপনার অর্থ উপার্জন।

আউটসোর্সিং এর সমস্যা এই পেশার মূল সমস্যা ভাষাগত দুর্বলতা। ভালভাবে কমিউনিকেটিভ ইংরেজি না জানলে অর্ডার পাওয়া ও সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। তাই যারা এ পেশায় আসতে চান তাদেরকে অবশ্যই ইংরেজি ভাষার উপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এছাড়া এ পেশায় ধৈর্য ধরে কাজ করতে হয়। একেবারে প্রথম দিনেই আপনি সফলতা নাও পেতে পারেন। লেগে থাকলে ধীরে ধীরে সফলতা আসবেই।  মনে রাখতে হবে, আউটসোর্সের মাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্র অবারিত। সারা পৃথিবীটাই তখন আপনার কর্মক্ষেত্র। আপনি কম্পিউটারের যে কাজে দক্ষ সেই কাজেরই চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী। দরকার শুধু কাজগুলো খুঁজে বের করা এবং সরবরাহদাতার ইচ্ছানুযায়ী মান বজায় রেখে কাজ করে দেয়া। সুত্রঃ সুনামগঞ্জের খবর

 শনিনারের চিঠি/ আটলান্টা / ১৪ জুন ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com