ছোট গল্প

অভিমানি বউ

শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

অভিমানি বউ
অলঙ্করণঃ সংগৃহীত

রাতের শিফটে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছি। হঠাৎ তুষার ঝড় শুরু হলো। ডিসেম্বরে আটলান্টায় সাধারণত এমন তুষার ঝড় হয় না। গাড়ি চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।বাড়ি ফিরতেই শরীর-মনে ক্লান্তি নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসছিল না। এপাশ-ওপাশ করছিলাম। এমন সময় পাশে এসে মোলায়েম গলায় আমার স্ত্রী রাণি জিজ্ঞেস করল,”তুমি কী ঘুমিয়ে পড়েছ? কপালটা টিপে দেব? আরাম লাগবে।”
আমার জবাবের অপেক্ষা না করেই সে তার কোমল অঙুলি দিয়ে আমার কপাল টিপতে শুরু করল। প্রশান্তিতে চোখ বুজে এলো।
হঠাৎ শোনা গেল,“তোমাকে একটা কথা বলি, রাগ করবে না তো সোনা !”
ঘুমের আবেশ পলকে উধাও। জিজ্ঞেস করলাম “কী?”
লাজুক মুখে আমার রাজ্যের রাণি বলল, “অনলাইনে একটা ভ্যানিটি ব্যাগের অর্ডার দিয়েছি।
আমার উৎকণ্ঠার অবসান হল। বললাম, “ভালই করেছ।
“ইন্টারনেটে দেখে পছন্দ হয়ে গেল আর অর্ডার করে দিলাম। আগামি সপ্তায় ইউপিএস ডেলিভারি দিবে।  তোমার ক্রেডিট কার্ড চার্জ করে দিয়েছি।”
“ দাম কত?”
টাকার অংক শুনে আমার মূর্ছা যাওয়ার জোগাড়। মেজাজ খাট্টা হয়ে গেল।  গলা তুলে বললাম, “ একটা ভ্যানিটি ব্যাগ কেনার জন্য এত টাকা ?
মাইকেল করের ভ্যানিটি ব্যাগ । খুব নামি কোম্পানী । সচারাচর এমন বিক্রয় সেল থাকে না।
সে যা-ই হোক । একটি ব্যাগের পিছনে এত টাকা ? টাকা কী আকাশ থেকে পড়ে ? এমন আমাপা খরচা করার মানুষ আমি নই,পরিস্কার বলে দিলাম।”
গলার আওয়াজটা এতটাই উঁচু হয়ে গিয়েছিল যে পাশের রুমে শুয়ে থাকা আমার ছেলে ঘুমের মধ্যেই কেঁপে উঠল। কপালে আমার স্ত্রীর কোমল আঙুল আর নেই। আমি চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে আছি। হঠাৎ কান্নার আওয়াজে আমার হৃদয় চুরমার হয়ে গেল। রাণি কাঁদছে। শত হলেও বউতো। আমি সহ্য করতে পারলাম না। পাশে গিয়ে তার কাঁধে আমার ডান হাত রাখলাম। সে হাত সরিয়ে দিল। কান্না দ্বিগুণ হল। তাকে দু’হাত দিয়ে কাছে টানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। কী বলব বুঝে উঠতে পারলাম না।
সে অভিমানি কান্নায় বলতে লাগল, “আমি আর কখনও তোমার কাছে কিছু চাইব না। ব্যাগের অর্ডার আমি কালই ক্যানসেল করে দেব। আমার জন্য তোমাকে আর টাকা খরচ করতে হবে না।”
মনে মনে বললাম, ‘তুমি টাকা খরচ না করলে আমিও বেঁচে যাব। তাজমহল না পারি,বাড়ির মর্টগেজটা অন্তত তাড়াতাড়ি পরিশোধ করে ফেলব।’
মুখে বললাম, “ নানান ঝামেলায় মাথা ঠিক নেই। আমাকে এ বারের মতো ক্ষমা করো। আমি তোমাকে আর এ ধরনের কথা বলব না। তুমি ব্যাগের অর্ডার ক্যানসেল করো না।”
সে কোনও উত্তর দিল না। কান্নার শব্দও আর নেই। আমার পাশে শুয়ে পড়ল। আমি তাকে কাছে টেনে নিলাম। বাঁধা দিল না।
সত্যি তার রুচির প্রশংসা করতে হয়। ব্যাগ এত সুন্দর হতে পারে, আমার জানা ছিল না। কী মোলায়েম আর নরম। মনে হচ্ছে সুন্দরবনের চিত্রা হরিণের চামড়া দিয়ে গড়া । এ সব ব্যাগ ব্যবহার না করে শো কেসে  সাজিয়েও রেখে দেওয়া যায়। রাণি ব্যাগটা হাতে ঝুলিয়ে লিভিং রুমে হাঁটতে লাগল। আর মুখে খুশির ঝিলিক প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করল, “কেমন লাগছে দেখতে?”তার মিষ্টি মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিয়ে বললাম, খুব ভাল লাগছে। সে খুব খুশি হল। কয়েক প্রস্থ খবরের কাগজ জড়িয়ে ক্লোজেটের উপরের তাকে রেখে দিল । আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ ওটা ব্যবহার করবে না?”
হেসে উত্তর দিল , “করব। বিশেষ কোন অনুষ্ঠানে ।”
বিশেষ অনুষ্ঠান এলো প্রায় মাস চারেক পর। তার এক বান্ধবির বিবাহ বার্ষিকীতে সস্ত্রীক নিমন্ত্রণ।
রাণি নির্দিষ্ট দিনে সময়ের আগেই সাজগোজ কমপ্লিট করে শখের ব্যাগ নেবার জন্য ক্লোজেটের দরজা টেনে খুলল। কিছু ক্ষণ পর সেখান থেকে আর্তনাদ শোনা গেল। আমি ভয় পেয়ে ছুটে গেলাম সেখানে।  গিয়ে দেখলাম, আমার সুসজ্জিতা বৌ দু’হাতে ব্যাগের একটা হাতল ধরে ভাস্কর্যের মত দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম,ব্যাগের দুটো হাতলের একটি ব্যাগ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ।  কোন ফাঁকে বিড়ালের বাচ্চা সেখানে উঠে এই কর্মটি করে রেখেছে । পাশের বাড়ির একটি বিড়াল বাচ্চা প্রসবের পূর্বে আমাদের বাড়িতে এসে ঠাঁই নেয়। সে বিড়ালটি পাঁচ পাঁচটি বাচ্চা দিয়েছ। কতবার বলেছি এগুলোকে বিদায় করো। কিছুতেই রাজী করানো যায়নি ।
আমি তখন বললাম, তোমাকে কতবার বলেছি, এই আপদগুলোকে কোন এ্যানিমেল শেল্টারে দিয়ে আস । কোন কথায়ই কান দাও নি । এখন ঠেলা সামলাও ।
আত্মপক্ষ সমর্থনে বলল, “শেল্টারে দিলে ওগুলো কী এতদিন বেঁচে থাকত ?”
“ কিন্তু আমাদের তো এমন ক্ষতি হতো না। এত শখের ব্যাগটা আমি  কাউকে দেখাতেই পারলাম না। এতগুলো টাকা আমার খালে গেল।”
আমিও নিজেকে সামলাতে না পেরে বলে উঠলাম,“টাকাটা তোমার না আমার? তোমার ব্যাগের টাকায় আমি একটি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারতাম । তোমার মতো বেহিসেবি মেয়ের জন্য আমার জীবনটা জ্বলে গেল।”
“কী বললে তুমি? আমি বেহিসেবি ?”
“ আমি এক কথা দুইবার বলার মানুষ না। তোমার তো কোটিপতি ব্যবসায়ি দেখে বিয়ে করা উচিত ছিল। তোমার আনলিমিটেড শখ পূরণ করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি আর একটা পয়সাও খরচ করতে পারব না। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। এ যে দেখছি বোনও হয়।’’
“একদম বাজে কথা বলবে না। আমার শখ-আহ্লাদ পূরণ করতে পারবে না তো বিয়ে করেছিলে কেন?  আটলান্টায় আসার আগে তো ফোন করে করে অস্থির করে  দিয়েছিলে। তখন বুঝতে পারিনি তুমি কী জিনিস ? ভাল করে শুনে রাখো, এই ব্যাগ আমি আবার কিনব। এবং সেই  দাম তোমাকেই মেটাতে হবে।
“ উচ্চস্বরে বললাম, ইম্পসিবল!
“আমি কালই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। তোমার সঙ্গে আর থাকা যাবে না। আমি ডিভোর্স করব।
একটি ব্যাগের জন্য তুমি ডিভোর্স করবে ?
হ্যাঁ,তাই করবো ।
“কাল কেন? আজই চলে যাও। দেখি তোমায় কে বাঁধা দেয় !”
কোনও উত্তর না দিয়ে রাণি ঘরের মধ্যে চলে গেল। তার বান্ধবির বিবাহ বার্ষিকীর নিমন্ত্রণ আর রক্ষা করা হলো না।  অগত্যা কিছুক্ষণ পরে আমি গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ।
রাতে বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে শুয়ে অনুভব করলাম, আমি আর রাণি দুই ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা।  ঘুম থেকে উঠে দেখলাম,রাণি বিছানায় নেই। ভাবলাম রান্নাঘরে। কিংবা কাজে গেছে। রান্নাঘরে নেই। কাজের জায়গায় খোঁজ নিলাম। সেখানেও যায়নি । গেল কই ? ছেলেও নেই। মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলাম লাজবাব। আবারও চেষ্টা করলাম । এবার ফোন রিসিভ করেই কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলো,“আমি আটলান্টা এয়ারপোর্টে । লস অ্যাঞ্জেলস যাচ্ছি।
বলেই ফোনটা কেটে দিল । আবারও কয়েক বার চেষ্টা করলাম। একবারও ধরল না। জানতে তো পেরেছি লস অ্যাঞ্জেলস যাচ্ছে । তাই আর মাথা ঘামালাম না। সেখানে তার দুই ভাই থাকে । ক’দিন ভাই বাড়ি বেড়িয়ে আসুক। অভিমান ভাঙলে আবার ফিরে আসবে ।
দু’সপ্তাহ অতিক্রান্ত । রাণির দেখা নেই। ফোন করলেও কোন রেসপন্স নেই। শুধু রিংটোন বেজে যায়। অবশ্য একদিন তার ছোটভাইয়ের বউ বলেছিলো, দুলাভাই টেনশন করেন না । আপা আমাদের এখানেই আছে। অভিমান পড়লে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আটলান্টা পাঠিয়ে দিব।
জেদ আমারও কম নয়। ফোন করা বন্ধ করে দিলাম । দেখি কতদিন থাকতে পার ?
এ ব্যাপারে আমার এক বন্ধু মোহনের সঙ্গে কথা বললাম। সে উকিল মানুষ । আমার কাহিনী শুনে সে বলল, “ডিভোর্স ছাড়া উপায় নেই। ওই রকম দজ্জাল মহিলার সঙ্গে ঘর করার কোনও মানেই হয় না,” বলে মিনিট খানেক কী যেন ভাবল। তার পর বলল, “তোর পায়েলিকে মনে আছে? আমরা পিচট্রিতে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতাম ? আলম সাহেবের মেয়ে । তারা লরেন্সভিলে বাড়ি কিনে এখন সেখানে থাকে । ”
“কেন মনে থাকবে না ?  শ্যামবর্ণা রোগাটে চেহারা। চোখ দুটো টানা টানা।”
“পায়েলি আর রোগা নেই।  গায়ের রংও ফর্সা হয়ে গিয়েছে। আর দেখতেও বেশ হয়েছে।”
“হঠাৎ তার কথা কেন?”
“ মেয়েটির  বিয়ে হয়েছিল । সম্প্রতি তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে । আমারই ক্লায়েন্ট ছিল । বিয়ের পর মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে ডিভোর্স নিতে বাধ্য হল।”
“কেন ? পায়েলি কী করবে?”
“তোর ভাল বন্ধু হবে। তোর সুখ দুঃখ ভাগ করে নেবে।” আমি তার বাবার সাথে কথা বলব ।
আমি মোহনের কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না। চুপ করে থাকলাম।
মোহন বলল,“সামনের রবিবার আমার বাড়িতে আয় । বাড়িতে ছোটখাট একটা পার্টি আছে । ওই দিন পায়েলিও আসবে তার মা-বাবার সাথে  । তোর সাথে পায়েলির পরিচয় করিয়ে দিব ।”
সম্মতি প্রকাশ করলাম।
বাড়ি ফিরে এলাম। বেডরুমে ঢুকতেই হু হু করে উঠল বুকটা। রাণির কথা মনে পড়ল। মন শক্ত করলাম। তাকে ভুলতেই হবে। এ্যানি হাউ।
রবিবার মোহনের বাড়ি  গেলাম। পায়েলির চেহারা সত্যি পাল্টে গিয়েছে। অনেক আকর্ষক হয়েছে। দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম। মোহন জানাল,পার্টির রান্না পায়েলিই রেঁধেছে। মেয়েটির রান্নার হাত বড়ই পাকা। এত সুন্দর রান্না রাণিও রাঁধতে পারবে না।
পায়েলি ক্রমশ আমার মনের কাছাকাছি চলে এল। ফোনে ‘ হায়, হ্যালো, কেমন আছেন’ দিয়ে শুরু হল। তার পর পালতোলা নৌকো নিয়ে মাঝসমুদ্রে পাড়ি দিলাম দু’জনে। সফর যেন শেষ হয় না। ম্যাসেঞ্জার , হোয়াটসএ্যাপে চ্যাট ,ভিডিও কল করে দু’জনে সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করলাম। মোহন ডিভোর্সের মামলার তোড়জোড় করতে লাগল।


লেখা পাঠান
শনিবারের চিঠির সাহিত্য পাতায় প্রতি শনিবার  গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী প্রভৃতি প্রকাশিত হয় ।  লেখা  পাঠাতে চাইলে আপনার লেখা সংযুক্ত করে নিন্মের ইমেইলে  পাঠিয়ে দিন। লেখার সঙ্গে অবশ্যই ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে হবে। ইমেইলঃ feature@thesaturdaynews.com । দুঃখিত হাতে লেখা, স্ক্যান করা লেখা গ্রহণ করা হয় না।



একদিন কথায় কথায় মোহন বলল, “কদ্দিন আর হাত পুড়িয়ে খাবি ? পায়েলিকে তোর বাড়িতে নিয়ে আয়। লিভ টুগেদারে কোনও অসুবিধে নেই। তা ছাড়া ডিভোর্স হয়ে গেলে তো বিয়ে হবেই।”
অবাক হয়ে বললাম, “লিভ টুগেদার! লোকে কী বলবে?”
“লোকের কথায় গুল্লি মার। তুই রাজি থাকলে আমি পায়েলির পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারি। এ্যামেরিকায় লিভ টুগেদার এখন ডালভাত।”
মোহন সার্টিফিকেট দিলেও আমি মেনে নিতে পারলাম না। তাই পায়েলি আর আমার সম্পর্ক ফোনেই সীমাবদ্ধ রাখলাম। ভবিষ্যতে যা ঘটার ঘটবে। তখন দেখা যাবে।
বেশি দিন অপেক্ষা করতে হল না। পর দিন সকালে ঘুম ভাঙল ডোর বেলের আওয়াজে। ঘুম থেকে উঠে লুঙ্গি গুটাতে গুটাতে দরজার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হু ইজ দেয়ার ? ছেলের গলা ভেসে এল, “বাবা, দরজা খোলো। আমি আর মা দরজায়।”
দরজা খুলে দিতেই মা ও ছেলে ঘরে ঢুকল। রাণির চেহারা আগের থেকে স্লিম। আমার দিকে এক বারও পিছন ফিরে দেখল না।
তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। রাণির হাতের ছোঁয়ায়  বাড়ির হাল ফিরেছে। যেখানে যে জিনিস থাকার কথা সেটা সেখানেই আছে।  এই তিন সপ্তায় রাণি আমার সঙ্গে একটি কথাও বলেনি। অথচ দিব্যি খাবারদাবার পাচ্ছি সময়ে সময়ে। পাচ্ছি না শুধু রাণির মুখের ভাষা আর মিষ্টি হাসি। রাণির সারা মুখ জুড়ে শুধু বর্ষার কালো মেঘ। যে কোনও মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে। কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। রাতের বিছানায় দু’জনে দু’প্রান্তে। মাঝে কোল বালিশ।
মোহন সব শুনে বলল,“তুই রাণিকে বাড়ি থেকে বার করে দে। যে বৌ ঠুনকো ঘটনায় বাড়ি ছেড়ে চলে যায়, তার সাথে এক ছাদের তলে থাকার কোন মানেই হয় না।”
মোহনের যুক্তি আমার ভাল লাগল না। বুকের মধ্যে কেমন জানি হাহাকার করে উঠল,রাণি আমার কাবিন করা বউ। এক কথায় কি ছাড়া যায়? পায়েলিকে ফোন করে ঘটনা জানিয়ে  পরামর্শ চাইলাম। সে কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিল, “ইউ আর এ্যা চিট। আমার ভালবাসার কোনও মূল্য নেই তোমার কাছে। ডু’ নট ডিস্টার্ব মি।”
আমি পায়েলির কাছে বন্ধুহীন হয়ে গেলাম। আর রাণি আমার কাছে থেকেও নেই। বুকের মধ্যে যন্ত্রণা অনুভব করলাম। কিন্তু যত বার রাণির সামনাসামনি হওয়ার চেষ্টা করি ততবারই অদৃশ্য বাঁধা আমাকে আটকে দেয়।
পেরিয়ে গেল আরও কয়েক দিন।
বিছানায় শুয়ে আছি। চোখে ঘুম নেই। পুরনো দিনের কত স্মৃতি মনে পড়ছে। রাণির দিকে তাকালাম। নাইট বাল্বের হালকা আলোয় দেখলাম সে ঘুমোচ্ছে। হঠাৎ আমার দু’চোখ ছলছলিয়ে উঠলো। কাঁদলে মানুষের মন হালকা হয়। যন্ত্রণা কমে। কিন্তু আমার যন্ত্রণা কমল না।
উঠে বসলাম। বিছানা ছেড়ে নেমে এগিয়ে গেলাম রাণির কাছে। রাণি কোন কিছু টের পাওয়ার আগেই তাঁকে  জড়িয়ে ধরে বলে বললাম, “আমি ভুল করেছি। তুমি আমায় ক্ষমা করো প্রিয়তমা।”
আরও কী কী বললাম জানি না। চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা অশ্রুজলও রাণির গায়ে পড়ল। রাণিও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। মিনিট দুয়েক কান্নার পর আমি কিছু বলার আগেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার গতি বাড়াল। আমি নতুন করে রাণিকে আবিষ্কার করলাম।


অনলাইনে লেখকের বই কিনতে এখানে ক্লিক করুন


বিছানায় পাশাপাশি দু’জনে। আমাকে জড়িয়ে ধরে রাণি বলল,“ কী আছে ওই ডিভোর্সির? তোমার বিয়ে করার এত শখ? ছেলে-বৌকে পথে বসাতে চাও? তোমার লজ্জা করে না? ওই মেয়েটার পিছনে কত টাকা খরচা করেছ? আমার ব্যাগের চেয়ে কম টাকায় হয়ে গিয়েছে তো সব? আর ডিভোর্স পাওয়াবে কে? তোমার  বন্ধু মোহন উকিল? সে-ই তো তোমার আর ঐ মাগীর নামে হাজার হাজার কেচ্ছা কেলেঙ্কারি শোনাত আমাকে ফোন করে,যাতে আমি আর না ফিরি। তোমাকে ডিভোর্স পাওয়াতে ওর সুবিধে হয়। আমাকে আর কী বোঝাবে, তোমার দৌড় আমি জানি না! আমি হঠাৎ ফিরে আসায় সবার বাড়া ভাতে ছাই পড়ে গেল!”
আমি কোনও উত্তর দিলাম না। আজ আমি শুধু নিরব শ্রোতা ।
রাণিকে বললাম,“কালই তুমি অ্যামাজনে নতুন একটা ব্যাগের অর্ডার দিয়ে দেবে । বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে ওয়ালেট থেকে একটি ক্রেডিট কার্ড তার হাতে দিয়ে বললাম, এই নাও কার্ড।  এটা চার্জ করো।
উত্তরে সে কিছুই বলল না। ওর ঠোঁট  দুটো এসে আমার ঠোঁটের কাছে ভাজ খেল । প্রথম আলোতে দেখতে এখানে ক্লিক করুনঃ

বিদ্রঃ গল্পের প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক । এটির সাথে জাতি,ধর্ম বা কোন ব্যক্তির মিল নেই । যদি কোন মিল পাওয়া যায় তা সম্পূর্ণভাবে কাকতালীয় ।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com