অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার
দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি ও শাহনাজ খুশি।

করোনার দীর্ঘ বিরতীর পর সম্প্রতি শুটিংয়ে ফিরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহানাজ খুশি। অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছেন বলে জানান তিনি।

গেল বৃহস্পতিবার ঈদের নাটক ‘নসু ভিলেন’-এর দৃশ্যায়নের জন্য পুবাইল যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাজুখান বাজারের কাছে তখন গাড়িতে একাই ছিলেন খুশি। পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ছবিসব ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহানাজ খুশি।


 শিল্পী শাহনাজ খুশি ছবিঃ শনিবারের চিঠি

শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‌‌‌‌চার মাস পর করোনার মধ্যে প্রথম শুটিংয়ে যাচ্ছি, খারাপ লাগা নিয়ে পরশু এমন একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। নাহ, আমাকে অদৃশ্য করোনা এখনো ছোঁয়নি, আমাকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়েছিল! এই গাড়ির মধ্যে আমি ছিলাম! একেবারেই অলৌকিক কিছু না হলে আমার বাঁচার কথা নয়! আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি!

তিনি বলেন, ‌কত বড় অরাজকতার মধ্যে আমরা বাস করছি, তা ভুক্তভোগী সবাই জানি। আজ স্বাস্থ্যখাত সামনে এসেছে বলে সাহেদদের মতো অসংখ্য অসংখ্য কালপ্রিট সামনে আসছে, পরিবহন খাতটা দীর্ঘকাল হলোই এমন! প্রতিদিন এমন অসংখ্য দুর্ঘটনায় শেষ হচ্ছে হাজারো পরিবার, খালি হচ্ছে মায়ের কোল, সন্তানের বুক! কিন্তু কোন প্রতিকার নেই। স্বাস্থ্যখাতের চেয়েও আরও দুর্গম, অন্ধকার, অন্যায়ে ঠাসা এ পরিবহনখাত!

খুশি জানান, তার গাড়িকে পেছনে ঠেলে নিয়ে থেমে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে চেপে ধরে কার্গোবাহী ট্রাক। সেটি চালাচ্ছিল হেলপার, যার আনুমানিক বয়স ১৬-১৭ বছর। কেউ একজন ক্ষতিপূরণের কথা বলায় ড্রাইভার বলছে,মানুষ মাইরালায় ট্যাহা লাগে না, বাঁইচ্যা আছে, তাও ট্যাহা লাগবো! সামনের টেম্পোর ৬ জনরে বাঁচান্যার লাই ২ জনরে মাইরা দেয়া কুনু বিষয় না! এমন অসংলগ্ন কথা বার্তা।

তিনি বলেন, মীরের বাজার পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা পুলিশ এবং থানা পুলিশ ভাইয়েরা যা করেছেন আমার জন্য তা সারাজীবন কোনদিন ভুলবো না। সেই সাথে জেনে এসেছি তাদের নেতৃস্থানীয়দের এবং পরিবহন লীডার বলয়ের কাছে অসহায়ত্বের কথা! আমি কাল থেকে অপ্রকৃতস্থ প্রায়! খেতে পারছি না, চোখ বন্ধ করতে পারছি না, আমার ছেলে দুইটা এ ভয়াবহতায় এলোমেলো, বাচ্চা ছেলেটা রাতে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছে! আমি কিছু বুঝতে চাই না, আমি আমার দেশের প্রতি/আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববান। আমার এবং আমার পরিবারের দ্বারা দেশের বিন্দু পরিমাণ সম্মান ক্ষুণ্ণ হয় নাই, বরং দেশের মর্যাদা রক্ষায় আমরা বদ্ধ পরিকর। আমি শুধু আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই মাননীয়! জীবনের এত যুদ্ধ, এত শিক্ষার পর, একজন অশিক্ষিত নেশাগ্রস্ত লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারের হাতে জীবন দিতে রাজী নই। দয়া করে আইন সংশোধন করে, আমাদের জীবনকে নিরাপদ করুন। আমি আমার সন্তানকে দায়িত্বপূর্ণ নাগরিক করবার দায়িত্বভার নিষ্ঠার সাথে পালন করছি। আপনারা আমাদের জীবন/পথকে নিরাপদ করুন মহামান্য।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / জুলাই ২০, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com