অভিজিৎ হত্যাঃ ডিবি কার্যালয়ে বুয়েট শিক্ষক তারিক ফারসীম

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০১৫

অভিজিৎ হত্যাঃ  ডিবি কার্যালয়ে বুয়েট শিক্ষক তারিক ফারসীম

 

শনিবার রিপোর্টঃ জর্জিয়া প্রবাসী লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বুয়েট শিক্ষক তারিক ফারসীম মান্নানকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।


কৃষ্ণপদ রায় বলেছেন, তাকে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

গত ২০ মার্চ একটি অনুষ্ঠানে অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অজয় রায় বুয়েটের এই শিক্ষকের বিষয়ে সন্দেহের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘তাকে হত্যার পর আমি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিই। যেদিন তাকে হত্যা করা হয় সেদিন হাসিন মান্নান নামের বুয়েটের একজন শিক্ষক তাকে মেসেজ করে। সেদিন অভিজিতের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানের পর তারা বইমেলায় অনেকক্ষণ আড্ডা দেয়। হাসিন মান্নান নামক ওই শিক্ষকের ডাকা আড্ডায় উপস্থিত ছিল ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ ও ‘পাই’ নামের দুটি বইয়ের (ম্যাগাজিন) লেখক-সম্পাদকরা। অভিজিৎকে হত্যা করার পর আমি ওই দুটি বইয়ের ব্যাপারে খোঁজখবর নিই। ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ বইটির সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, যে একসময় শিবিরের উঁচুমানের নেতা ছিল। আড্ডার পর সস্ত্রীক বেরিয়ে আসার পর তাকে হত্যা করা হয়। এসব তথ্য আমি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দিয়েছি। কিন্তু প্রায় মাসখানেক হতে চলেছে, এ ঘটনার আমরা কোনো দৃশ্যমান ফল পেলাম না।’

অভিজিতের বাবার এমন মন্তব্যের পর গত ২২ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে বুয়েট শিক্ষক তারিক ফারসীম মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অভিজৎ রায় হত্যা মামলায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলেও এর তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলেও ওইদিন দাবি করেছিলেন মনিরুল ইসলাম।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্বরের উল্টো পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় লেখক অভিজিৎকে। ওই

 হামলায় আহত হন অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও। দেশে কয়দিন চিকিৎসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন বন্যা।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পরদিন অধ্যাপক অজয় রায় শাহাবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি কারো নাম উল্লেখ না করলেও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই অভিজিতকে হত্যা করেছে।’

২৬ ফেব্রুয়ার অভিজিৎ হত্যার পর ২ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শফিউর রহমান ফারাবীকে আটক করে র‌্যাব। মতাদর্শগত বিরোধের জেরে ফেসবুকে অভিজিৎকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন ফারাবী।

হত্যাকাণ্ডের দুই ঘণ্টা পরেই আনসার বাংলা-৭ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে হত্যার দায় স্বীকার করে টুইট করা হয়।

অভিজিৎ ও তার স্ত্রী বন্যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় ঘটনা তদন্তে সহযোগিতা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ও।

ইসলামী উগ্রপন্থিদের সঙ্গে মতাদর্শিক বিরোধের জের ধরে এরআগে ২০০৪ সালেও একইভাবে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ। ওই হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নেয়ার পর জার্মানিতে যান এই লেখক। তার কিছুদিন পরই উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।

এরপর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের হাতে প্রাণ হারান ব্লগার রাজীব হায়দার। তিনি থাবা বাবা নামে ব্লগে লেখালেখি করতেন।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৫ মার্চ ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ মার্চ ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com