অনিশ্চয়তা আর ভীতির মধ্যে চলছে স্কুলগুলো

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৫

অনিশ্চয়তা আর ভীতির মধ্যে চলছে স্কুলগুলো

 

School sm 1শনিবার রিপোর্টঃ বাংলাদেশে টানা অবরোধের মধ্যে অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও ভীতির মধ্যে চলছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিবিসি।


স্কুল চালু রাখার জন্য সরকারী কোন নির্দেশনা না থাকলেও অবরোধে খোলা থাকছে রাজধানী ঢাকা এবং বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

কিন্তু শিক্ষকেরা বলছেন, কমে গেছে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা। অভিভাবকেরা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হবার ভয়ে অনেক সময়েই সন্তানদের স্কুলে পাঠান না তারা। আর সামগ্রিকভাবে এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়।

ঢাকার সাতমসজিদ রোডে কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে মোহাম্মদ স্বপনের সন্তান। বিরোধী বিএনপি’র ডাকা অবরোধের মধ্যে স্কুলটিতে ক্লাশ চলছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাস্তাঘাটে সহিংস হামলার ঘটনার কারণে সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েও স্বস্তি নেই। ফলে মি. স্বপন স্বুলের বাইরে দাড়িয়েছিলেন আরো কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে।

“সহিংস ঘটনার খবর তো গণমাধ্যমের কারণে সবাই শুনেছে, ফলে তাতে আশংকা আরো বেড়েছে। এতে বাচ্চা ও বাচ্চার পরিবার অনিশ্চয়তায় ভোগে।”

ধানমন্ডিতে ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে দুপুরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভিড়ে রীতিমত ব্যস্ত থাকে ঐ এলাকাটি। কিন্তু আজ দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। সন্তানেরা চাইলেও অভিভাবকেরা স্কুলে পাঠাতে চান না অনিশ্চয়তার কারণে। এই স্কুলেই দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে ওয়াহিদ এম রহমানের সন্তান। তিনি বলছেন, নতুন বছরে এখনো পর্যন্ত তার সন্তান কোন ক্লাশ করতে পারেনি। সকালে সন্তানকে কোচিং করিয়ে স্কুলে এসেছিলেন নতুন কোণ ঘোষণা বা নির্দেশনার খোজ নিতে। “এখন তো চোরাগোপ্তা হামলা হয়। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠালে আতংকে থাকতে হয়, ঠিকমত বাসায় ফিরতে পারবে তো!”

School midবিরোধী বিএনপি’র ডাকা লাগাতার অবরোধে সারাদেশে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ঘটেই চলেছে। এর মধ্যে বাসে, ট্রেনে আগুন ও ভাঙচুর, এবং হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন মানুষ মারাও গেছেন। পাচই জানুয়ারি ফেনীতে হাতবোমা বিস্ফোরণে দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে একদিকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে যেমন রয়েছে আতংক, তেমনি ঠিক সময়ে বছরের সিলেবাস শেষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অভিভাবকেরা রয়েছেন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায়।

এদিকে, অবরোধের মধ্যে স্কুল খোলা রাখা সংক্রান্ত কোন সরকারি নির্দেশনা না থাকলেও রাজধানী ঢাকা এবং বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলছে খোলা থাকলেও স্কুলে শিক্ষার্থীর হার খুবই কম থাকে। বলছেন ফরিদপুরের একটি বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক শাম্মী আক্তার আখি

“উপস্থিতি খুব কম থাকে। যাদের বাড়ি দূরে, তাদের বেশি অসুবিধায় পড়তে হয়। আমাদের নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থা আছে, যেদিন সেটি চালু থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ভালো থাকে। কিন্তু পরিবহন না থাকলে উপস্থিতি খুবই কম।”

ঢাকার বেশিরভাগ বাংলা মাধ্যম স্কুলেও একই অবস্থা। অন্যদিকে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো বেশিরভাগই কোন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। আর সেকারণে তাদের নিতে হচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা। বলছেন অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ শাহরিয়ার পারভেজ।

“এ বছরের জানুয়ারি মাসের পাচ তারিখ থেকে ক্লাশ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো সেটা পারিনি আমরা। আমরা প্রতিদিন খবর রাখছি এবং মিটিং করছি, কি করা যায়। গত বছর এমন পরিস্থিতি যখন হয়েছিল, তখন আমরা পড়ালেখার পরিবর্তে এ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে দিতাম। কিন্তু সেটা তো কোন বিকল্প নয়।”

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও অবরোধ-হরতাল এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছিল। সেসময় সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে স্কুলগুলো খোলা রাখা এবং ছুটির দিনগুলিতে ক্লাশ নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর এ সংক্রান্ত সরকারি কোন নির্দেশনা নেই।

তবে, অভিভাবকদের অনেকেই জানালেন স্কুলে সন্তানদের পাঠাতে শঙ্কা থাকলেও, সিলেবাস শেষ করার উদ্দেশ্যে ভিড় বাড়ছে পাড়ার কোচিং ক্লাশগুলোতে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com